Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০ , ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-১৯-২০২০

নীরবে চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মজিবুর রহমান দেবদাস

নীরবে চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মজিবুর রহমান দেবদাস

জয়পুরহাট, ১৯ মে - নীরবে না ফেরার দেশে চলে গেলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও অধ্যাপক মজিবুর রহমান দেবদাস ইন্না..রাজিউন)।

সোমবার ভোর ৪টায় জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের মহুরুল গ্রামের নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মজিবর রহমানের দ্বিতীয় ভাইয়ের স্ত্রী রোকেয়া বেগম এ তথ্য জানান।

বেলা সাড়ে ১১টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সালাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন চন্দ্র রায়, সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহরিয়ার খান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি,তদন্ত) সুজন মিয়ার উপস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মরদেহে রাষ্ট্রীয় সালাম শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় একুশে পদকপ্রাপ্ত এ বুদ্ধিজীবীকে।

মজিবুর রহমান ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত জয়পুরহাট সদর উপজেলার জয়-পাবর্তীপুর মহুরুল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ওসমান গনি ও ফারতুন্নেসা আখতার দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যেপ্রথম সন্তান।

তিনি ১৯৪৬ সালে খঞ্জনপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে (ক্যালকাটা বোর্ডে ৭ম) ম্যাট্রিক পাস করেন। এইচএসসি-প্রথম বিভাগ (ক্যালকাটা বোর্ডে ১১তম), বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে স্নাতক- ডিস্টিংশনসহ পাস, গণিত এ ঢাবি থেকে এমএ (প্রথম শ্রেণিতে প্রথম), অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ফলিত গণিতে এমএসসি পাস করার পর তিনি বগুড়া আজিজুল হক কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের করাচি শহরের নাজিমাবাদ কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মজিবুর ফলিত গণিত এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৭ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে মজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি চিঠি পাঠালে কর্তপক্ষ এ চিঠি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পাঠিয়ে দেয়।

যুদ্ধ চলাকালে চোখের সামনে পাকিস্তানিরা এ দেশের বাঙালি মুসলমানদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে। জীবন রক্ষার্থে অনেকেই যখন হিন্দু নাম বাদ দিয়ে মুসলিম নাম রাখা শুরু করেছিল তখন গণহত্যার প্রতিবাদ ও ক্ষোভে বাবা-মায়ের দেয়া ইসলামি নাম এফিডেফিটের মাধ্যমে মজিবুর রহমান পরিবর্তন করে নিজের নামের শেষে দেবদাস যুক্ত করেন।

১৯৭১ সালের ১২ মে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং সেনা ছাউনিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করায় মজিবুর রহমান পরবর্তীকালে তার স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। স্বাধীনতার পরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় থাকায় মজিবুর রহমানের কেউ খবর রাখেনি। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও স্মরণ করেনি। বরং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাক বাহিনীর হাতে চরমভাবে নির্যাতিত হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া এই বুদ্ধিজীবীকে পাগল বলে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার নামে আরও নির্যাতন চালানো হয় বলে জানান তার পরিবার।

এরপর থেকেই জয়পুরহাট সদর উপজেলার মহুরুল গ্রামে নিজ বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যে নিঃসঙ্গ জীবন কাটছিল বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মজিবুরের। দেখভাল করতেন দ্বিতীয় ভাইয়ের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, নাততি অর্থিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

বিছানা ছেড়ে কখনও হুইল চেয়ারে, কখনও ঘরের বারান্দা পর্যন্ত বিচরণ সীমাবদ্ধ ছিল তার। কখনও কখনও বির বির করে আনমনে কথা বলতেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। কথা স্পষ্ট করে বলতে না পারলেও এই বুদ্ধিজীবী নিয়মিত পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি হাতে থাকা ঘড়িতে সময় দেখে খাওয়া-দাওয়া করতেন ও ঘুমাতেন।

১৯৯৮ সালের ২ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মজিবুর রহমানকে সংবর্ধনা দেয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্ট সদস্য মফিদুল হক তাকে নিয়ে কান পেতে রই নামক একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র তৈরি করেন। ১২ জুন ২০০৯ বাংলাদেশ গণিত সমিতি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা প্রদান, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক পুরস্কার প্রদান করেন।

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর ২০১৫ সালে এই গুণীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক প্রদান করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেবদাসের পক্ষে তার ভাতিজি দিলরুবা খানম বিউটি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেছিলেন।

চিরকুমার মজিবুর রহমান দেবদাসের মৃত্যুতে জয়পুরহাটবাসী একজন গুণী মানুষকে হারাল।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ১৯ মে

জয়পুরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে