Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০ , ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২২-২০২০

আপনি মানুষের মনের কথা শুনেছেন, প্রধান বিচারপতিকে ব্যারিস্টার সুমন

আপনি মানুষের মনের কথা শুনেছেন, প্রধান বিচারপতিকে ব্যারিস্টার সুমন

হবিগঞ্জ, ২২ মে- দেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে ভার্চুয়াল কোর্টের প্রবক্তা ও ইতিহাসের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

তিনি বলেছেন, ‘আপনি মানুষের হৃদয়ের কথা শুনেছেন, মনের কথা শুনেছেন। দেশে নতুন একটি স্ট্রাকচার দাড় করিয়ে ভার্চুয়াল কোর্ট বাস্তবায়ন করেছেন। মানুষের মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। আইন অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে আপনাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

শুক্রবার (২২ মে) ফেসবুক লাইভে এসে প্রধান বিচারপতির প্রতি এ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

সুমন বলেন, ‘খুব কম মানুষ আছেন যারা মানুষের হৃদয়ের কথা শোনেন। আপনি (মাননীয় প্রধান বিচারপতি) মানুষের হৃদয়ের কথা শুনেছেন। দেশে ভার্চুয়াল কোর্ট বাস্তবায়ন করেছেন। মানুষের মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। এ দেশে মানুষের হৃদয়ের কথা মনের কথা শোনার লোকের অভাব। তাই আপনাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

ভার্চুয়াল কোর্ট বাস্তবায়নে সরকারে সার্বিক সহযোগিতার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজকে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই যে নিউজটি আমার চোখের সামনে এসেছে সেটি হলো- ভার্চুয়াল কোর্ট নামে একটি কোর্ট। যেখানে মাননীয় প্রধান বিচারপতি চালু করার মাধ্যমে গত এক সপ্তাহে ২৮ হাজার বেইল হেয়ারিংয়ের (জামিন শুনানি) পর আঠার হাজার মানুষের জামিন হয়েছে। প্রথমে আমি আমার অন্তঃস্থল থেকে মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানাই। ভার্চুয়াল কোর্টের ধারণাটি অত্যন্ত নতুন ছিল। এই ধারণাটি বাংলাদেশের মানুষের মাঝে একেবারেই নতুন। আপনি ভার্চুয়াল কোর্ট যেভাবে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন, আমি আইন অঙ্গনের একজন কর্মী হয়ে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

তিনি প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট না হলে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে সামান্য কোনো মামলায় শুধু শুনানির ও জামিনের অভাবে হাজার হাজার লোক কারাগারে থাকতে হতো। আজকে যদি ভার্চুয়াল কোর্ট না হতো এই ১৮ হাজার মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারত না। যে সকল মামলায় আসামিরা দু’দিন জেলে থাকার কথা ছিল না এক সপ্তাহ জেলে থাকার কথা ছিল না তারাও এই করোনার কারণে দুই মাস কারাগারে আটকা পড়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে খুব কম মানুষই আছে যিনি মানুষের হৃদয়ের কথা শোনেন, মানুষের কষ্টের কথাটা গভীরভাবে অনুভব করেন। ভার্চুয়াল কোর্টের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্ট্রাকচার রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো স্ট্রাকচার নেই। আপনি স্ট্রাকচারবিহীন একটি স্থানে যেভাবে একটি স্ট্রাকচার তৈরি করলেন, জানি না বেশি বলা হবে কি না, বাংলাদেশের যতদিন ভার্চুয়াল নাম থাকবে ততদিন এটার সঙ্গে আপনার নাম থাকবে।’

সুমন ভার্চুয়াল কোর্টের ধারণা দিয়ে বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর প্রভাবে আপনি আপনার মোবাইলের মাধ্যমে যেকোনো স্থানে বসে আদালতে শুনানি করতে পারবেন। আর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী উনি ওনার অফিসে বসে শুনানি করতে পারবেন। এতে সামাজিক ডিসটেন্স মেইনটেইন করা হচ্ছে, আর মামলার শুনানি শেষ হচ্ছে। এই ডিসটেন্স মেইনটেইন করে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করেছেন। ভার্চুয়াল কোর্ট এটাই প্রমাণ করে যে, আমরা বাংলাদেশের মানুষ চাইলেই পারি।’

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতি আমার দোয়া যদি কাজে নাও লাগে তবে, ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে যারা জামিন পেয়েছেন সেই ১৮ হাজার মানুষের দোয়া কিন্তু আপনি পাবেন। আমার পক্ষ থেকে মাননীয় আইনমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, ভার্চুয়াল কোর্ট হলো- কোর্টে না গিয়েই মোবাইল ফোনের মাধ্যম বা অনলাইনে জামিন আবেদনে মামলার অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা ব্যবস্থা। এর জন্য ইতিমধ্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। অনলাইনে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করতে পারবেন। জজ তার রুমে থেকেই শুনানি শুনবেন। অর্থাৎ যার যার জায়গায় থেকেই আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম চলবে।

গত ২৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য সুপ্রিম কোর্টের রুলস কমিটি পুনরায় গঠন এবং ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

১০ মে প্রথমবারের ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে ফুলকোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের ৮৮ জন বিচারপতি।

এর আগে গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ -২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।

দু’দিন পর ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা ক্ষেত্রমতো হাইকোর্ট বিভাগ, সময় সময়, প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) জারি করতে পারবে।

এর পর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নির্দেশনায় গত ১০ মে নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এ বিষয়ে ওইদিন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/২২ মে

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে