Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০ , ২১ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৫-২০২০

পার্বতীপুরে কালবৈশাখী কেড়ে নিল হাজারো পরিবারের ঈদ আনন্দ

পার্বতীপুরে কালবৈশাখী কেড়ে নিল হাজারো পরিবারের ঈদ আনন্দ

দিনাজপুর, ২৫ মে- দিনাজপুরের পার্বতীপুরে খোলা আকাশের নিচে ঈদ করলো হাজারো পরিববার। রোববার গভীর রাতের কালবৈশাখী ঝড় কেড়ে নিয়েছে তাদের ঈদের আনন্দ। মাত্র ১০ মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গেছে ১০ গ্রামের এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভেঙে পড়েছে গাছ পালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি। ঝরে পড়েছে গাছের ফলমূল।

রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ও হামিদপুর ইউনিয়নের ১০টির মতো গ্রামে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ইসবপুর. রামপুরা, মধ্যপাড়া, সেরপুর, তেলীপাড়াসহ ৮টি গ্রাম ও বাজার। এতে এক হাজারের মতো কাঁচা ঘরবাড়ি এবং শতাধিক ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধসে যায়। গাছপালা ভেঙে পড়ার কারণে ১০ ঘণ্টা বন্ধ থাকে পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী সড়ক। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা রাস্তা থেকে গাছ অপসারণের পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

খবর পেয়ে সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ মিথুন মুন্নী ও সহকারী কমিশনার ভূমি আবু তাহের মো. শামসুজ্জামান। বিকেলে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ক্ষতিগ্রস্ত ৫শ' পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, সেমাই চিনি ও সাবান বিতরণ করেন।

সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে ইছবপুর গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মাজেদা খাতুন বলেন, তার বাড়ির সবকিছু ভেঙে পড়ে খাদ্য সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। ঈদের রান্না করতে পারেনি তিনিসহ গোটা গ্রামের মানুষ। ঝড়ে আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন।

৮৫ বছর বয়সী হাসান আলী মাস্টার বলেন, তিনি তার জীবদ্দশায় ঝড়ের এমন ঝড় দেখেননি। তেলী পাড়া গ্রামের মৌসুমী বেগম বলেন, তার স্বামী মজিদুল রিকশা ভ্যান চালায়। করোনার কারণে রোজগার নেই, তার ওপর এই কালবৈশাখী তাদের পথে বসিয়েছে।

পার্বতীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আব্দুল আলীম জানান, কালবৈশাখীর কারণে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। উপজেলায় বিদ্যুতের ২৭টি খুঁটি ভেঙে গেছে। ছিড়ে গেছে ৩৩ কেভি লাইনের বৈদ্যুতিক তার। স্বাভাবিক হতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে।

কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান বলেন, ঝড়ে ধানের তেমন ক্ষতি হয়নি, তবে ১২ হেক্টর বাগানের আম ঝরে গেছে ও ১০ হেক্টর ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ মিথুন মুন্নী জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে কমপক্ষে ১০টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে জেলা প্রশাসক ৫শ' পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, সেমাই, চিনি, সাবান বিতরণ করেছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কাজ শুরু করেছে।

সূত্র : সমকাল
এম এন  / ২৫ মে

দিনাজপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে