Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০ , ২১ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২৮-২০২০

কাজ দেয়ার নামে জিম্মি, মারামারিতে এক খুনের বদলায় ৩০ খুন

কাজ দেয়ার নামে জিম্মি, মারামারিতে এক খুনের বদলায় ৩০ খুন

ত্রিপোলি, ২৯ মে - লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করেছে মানবপাচারকারী চক্রের এক সদস্যের পরিবারের লোকজন। নিহত বাকি চারজন আফ্রিকান।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) লিবিয়ার সংবাদমাধ্যমে এ খবর জানিয়ে বলা হয়েছে, সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের মিজদা শহরের এ ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদা কমপক্ষে ২৬ বাংলাদেশিকে লিবিয়ীয় মিলিশিয়া কর্তৃক গুলি করে হত্যা করার তথ্য পাওয়া গেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে দূতাবাস থেকে অনুসন্ধানে জানা যায়, লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনী বাংলাদেশিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালালে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হন। এদের মধ্যে একজন বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশির সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। তিনি বর্তমানে এক লিবিয়ীয় নাগরিকের আশ্রয়ে আত্মগোপনে আছেন।

সেখান থেকে তিনি দূতাবাসকে জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজি থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে ত্রিপলি শহরে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ জন বাংলাদেশি মিজদা শহরে মুক্তিপণের জন্য দুষ্কৃতিকারীদের হাতে জিম্মি হন। জিম্মি অবস্থায় তাদের অত্যাচার, নির্যাতন করার একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিরা মূল অপহরণকারী লিবিয়ীয় নাগরিককে হত্যা করে এবং এর জেরে অন্য দুষ্কৃতিকারীরা আকস্মিকভাবে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মরদেহ মিজদা হাসপাতালে রাখা আছে। অপর বাংলাদেশিরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মিজদা হাসপাতালের পরিচালক টেলিফোনে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানান, মরদেহগুলো বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

আহত ১১ জন বাংলাদেশিকে জিনতান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ত্রিপলি মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

ত্রিপলি মেডিকেল সেন্টারে পৌঁছার পর দূতাবাস থেকে আহতদের সাথে সাক্ষাৎ করে ঘটনার বিশদ বিবরণ গ্রহণ করাসহ নিহতদের পরিচয় উদঘাটনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়াও আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে দূতাবাস হতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা
হবে।

এদিকে এ ঘটনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, দুঃখজনকভাবে ২৬ জন নিহত, ১১ জন আহত। পাচারকারীরা ত্রিপলি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে তাদের হত্যা করেছে। ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোনো দেশে তাদের পাচার করা হচ্ছিল। পথিমধ্যে তাদের সাথে কোনো ঝামেলা হওয়ায় পাচারকারীরা তাদের মেরে ফেলেছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এন এইচ, ২৯ মে

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে