Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০ , ২১ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-৩০-২০২০

আমার ১২ ঘন্টার আইসিইউ প্রতিদিন

সুমাইয়া মোয়াজ্জেম


আমার ১২ ঘন্টার আইসিইউ প্রতিদিন

তিন মাসের মতো হয়ে গেল কোভিড ১৯ আইসিইউতে টানা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। টরন্টো জেনারেল হাসপাতাল এর মেডিকেল সার্জিকেল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট কে কোভিড ১৯ আইসিইউ  বানানো হয়েছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ জন কোভিডরোগী এই আইসিইউ তে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হসপিটাল এ তুলনামূলক ভাবে সবচেয়ে বেশি কোভিড এ আক্ৰান্ত ক্রিটিকাল রোগীরা আসে অন্যান্য পেরিফেরাল হসপিটাল থেকে যখন ওই সব হসপিটাল এর সব রকম চিকিৎসা ব্যার্থ হয়ে যায়। টরন্টো জেনারেল হসপিটালে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে যেটা হলো ‘Extra corporeal Life Support (ECLS)’. যখন সব চেষ্টা গুলো ব্যর্থ হয়ে যায়, রোগী মৃত্যুর প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে চলে যায়, তখন কিছু রোগী কে এই টরন্টো জেনারেল এ পাঠানো হয় সর্বোচ্চ দিয়ে শেষ চেষ্টা করার জন্য। 

প্রতিদিন ইমার্জেন্সি তে respiratory অথবা অন্য়ান্য় critical ইসু নিয়ে রোগী আসে। যখনি দেখা হয় যে রোগীর এডভান্স সাপোর্ট লাগবে যেমন, intubation, ventilation etc, আমরা ICU team ইমার্জেন্সিতে হাজির হই। তখনো জানিনা যে রোগী কোভিড পসিটিভ না নেগেটিভ। আধা ঘন্টার মধ্যে রোগীর intubation এবং ventilation সিকিউর করি। রোগী যদি cardiac বা respiratory arrest এ চলে যায় তাহলে আমরা রোগী কে cardioplumonary ressussitation করে থাকি। PPE পরে এগুলো পারফর্ম করা সহজ না। রোগী স্ট্যাবল হলে কোভিড আইসিইউ তে নিয়ে আসি। এর পর শুরু হয় আইসিইউ'র investigations, mechanical ventilation management, pharmaceitical management, Bronchoscopy ইত্যদি। অনেক সময় paramedics থেকে শুনেছি, এই রোগীর ওয়াইফ বা হাসব্যান্ড ও কোভিড এ আক্ৰান্ত অন্য কোনো হসপিটাল এর আইসিউতে আছে ক্রিটিক্যাল অবস্থায়। কোনো সময় শুনেছি paramedics থেকে যে বাড়ি তে হাসব্যান্ড কে unconcious অবস্থায় পাওয়া গেছে, ওয়াইফ কে পাওয়া গেছে মৃত। দুইজনেই কোভিড এ আক্রান্ত ছিল। এরকম অনেক করুন ঘটনা প্রতিদিন শুনি। 

প্রতিদিন আইসিইউতে ৬ থেকে ৮ জন কোভিড রোগীর reapiratory mangement করি। এর মধ্যে  interproffessonal রাউন্ড এর পাশাপাশি intubation, mechanical ventilation, bronchoscopy, tracheostomy, ECLS management, proning এগুলো প্রতিদিন এর work এ included. ১২ ঘন্টা কীভাবে চলে যায়, বুঝা যায়না। মনে হয় সম্পূর্ণ ১২ ঘন্টা রোগীদের সাথেই কাটানো হয়।

আর সবচেয়ে ভয়াবহ ভাবে কোভিড এ আক্রান্ত রোগীগুলো কে অন্যান্য হসপিটাল থেকে এই হসপিটালে এ আনা হয়। এই রোগীগুলোকে প্রথমে proning position আর তার সাথে mechanical ventilator এর highest support দেই। রোগীরা ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা proned থাকে। এরপর কিছুক্ষন এর জন্য তাদের কে unprone করে রাখি, তারপর আবার proning. এভাবে চলতে থাকে দিন এর পর দিন যতদিন ধরে lungs heal না হয়। তার সাথে এন্টিবাযোটিক্স চলতে থাকে। এইসব extremely sick রোগীগুলো কে heavy ভাবে sedated এবং paralyzed করে রাখা হয়। অনেক রোগী proning এ ভালো response করে। আবার অনেকেই proning treatment এ ভালো response কৱেনা। তখন ECLS consider করা হয়। ECLS management এ সময় লাগে, কিছু রোগী ভালো হচ্ছে। কিছুকিছু রোগী কোনোটাতেই ভালো response কৱেনা। shock এ চলে যায়। multiorgan failure হয়। তারা বাঁচেনা। আবার বেশ কিছু রোগী stroke এ মারা যায়। এ পর্যন্ত বেশ কিছু young patients stroke এ মারা গেলো। 

আইসিইউ মানেই একটা করুন জায়গা, আর কোভিড আইসিইউ একটা নিষ্ঠুর জায়গা। যেখানে মানুষের আপনজনরা ভয়াবহ ভাবে আইসিইউ তে পড়ে আছেন, কেউ দেখতে যেতে পারছেনা। সন্তান মারা যাচ্ছে, মা সন্তান কে শেষ বিদায় দিতে আসতে পারছেনা কারণ মা ও কোভিড পসিটিভ। কখনো বয়স্ক হাসব্যান্ড আর ওয়াইফ দুইজনই আইসিইউ তে ভর্তি হলো। ওয়াইফ ভালো হয়ে আইসিইউ থেকে বের হল কিন্তু একা যেতে হলো কারণ হাসব্যান্ড already world ছেড়ে চলে গেছে। social worker videocall করে মা কে শেষ বারের জন্য সন্তান এর চেহারা দেখায়। মা এর বুক ফাটা চিৎকার আর কান্না শুনতে হয় videocall থেকে।

কোনো একজন রোগী সারারাত জীবন মৃত্যুর মাঝখানে যুদ্ধ করার পর ভোর বেলা রোগীর ওয়াইফ কে ডেকে আনা হলো। একজন বাংলাদেশী মহিলা। রোজার মাস। হয়তো কত স্বপ্ন ছিল পুরা পরিবার একসাথে রোজা করবে, ঈদ উদযাপন করবে। কিন্তু এগুলো কিছুই করা হলোনা। ঈদ এর কয়েকদিন আগে হাসব্যান্ড কে চিরবিদায় দিতে হলো। দেখলাম উনার পাথর হয়ে যাওয়া চেহারাটা। গত রোজার মাস আর গত রোজার ঈদ ছিল উনাদের শেষ বারের মতো একসাথে উদযাপন। তখন উনারা জানতেননা এটা শেষ ঈদ।  

একজন  young ছেলে, বাবা মা র স্বপ্নের ভান্ডার, এই আজকে ECLS এ stable রেখে আসলাম। পরেরদিন  যেয়ে ছেলে টা কে পেলাম braindead. স্ক্যান করে দেখা গেলো, brain dead, already midline shift হয়ে গেছে। done !

কোনো কোনো দিন আমাদের জন্য খুব ভালো দিন। কিছু কিছু রোগী কে ventilator থেকে বের করে আনা হয় সফলতার সাথে। একটা প্রচন্ড আনন্দ কাজ করে। নিজেরা কলিগদের মধ্যে আলোচনা করি যে অমুক রোগী আজকে কথা বলছে। তখন সারাদিন এর ফিজিক্যাল কষ্ট গুলো আর কষ্ট লাগেনা। সেই মনোবল নিয়ে আবার পরের দিন দৌড় দেই হসপিটাল এ। এসব রোগীদের আমরা ভালোবাসি। এরকম একটা সময়ে আমরাই ওদের পরিবার পরিজন। 

আবার কোনো কোনো রাতে বাড়ি ফেরার পর যখন ঘুমাতে যাই, তখন কোনো মা এর বুকফাটা কান্নার কথা মনেপড়ে, কোনো মহিলার পাথর হয়ে যাওয়া চাহনি চোখের সামনে ভেসে উঠে। মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। তবে, পরের দিন আবার সেই আইসিইউতেই ঢুকি, নতুন PPE নিয়ে, নতুন এক আশায় যে আজকে হয়তো একজন রোগী কে আইসিইউ থেকে সুস্থ করে বের করবো।

WE ARE DESPERATELY FIGHTING AGAINST THE DEADLY VIRUS COVID 19.

Do not forget to say Thanks to Allah, because Allah didn’t forget to wake you up this morning!

এম এন  / ৩১ মে

অভিমত/মতামত

আরও লেখা

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে