Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ , ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০২-২০২০

হেঁটে ২ হাজার কিলোমিটার পাড়ি, বাড়ি ফিরে সাপের কামড়ে মৃত্যু

হেঁটে ২ হাজার কিলোমিটার পাড়ি, বাড়ি ফিরে সাপের কামড়ে মৃত্যু

নয়াদিল্লী, ০২ জুন- লকডাউনে কাজ বন্ধ। এদিকে বাড়িতে ফেরার কোনো যানবাহনও নেই। তাই পায়ে হেঁটেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন ২৩ বছরের পরিযায়ী শ্রমিক সালমান খান। ১২ দিন ধরে ২ হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বাড়িতে পৌঁছেও যান তিনি।  মাকে ধরে আবেগে কান্নাকাটিও করেন। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে সাপের কামড়ে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের গন্ডা জেলার ধানীপুর গ্রামে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ছোট সালমান গ্রামের আরও অনেকের সঙ্গে গন্ডা থেকে বেঙ্গালোরে যান কাজের সন্ধানে। সেখানে তিনি একটা কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজও পেয়ে যান। তারপর থেকে তিনি নিয়মিত পরিবারকে টাকা পাঠাতেন। সালমানের পরিবারের সদস্যরাও খুশী ছিলেন তার উপার্জনে।

কিন্তু করোনার সংক্রমণের পর অন্য অনেক পরিযায়ী শ্রমিকের মতো সালমানও পড়েন বিপদে। দুই মাস ধরে কাজের টাকা না পাওয়ায় নিজ গ্রামের আরও দশ জন শ্রমিকের সঙ্গে সালমান বাড়িতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। সালমানের সঙ্গী ও গন্ডা জেলার আরেক বাসিন্দা কৌশাল কুমার জানান, ১২ মে তারা বাড়ির উদ্দেশে হাঁটতে শুরু করেন। পুশিশের চোখ এড়াতে কখনও সড়ক পথে, কখনও রেলপথে কখনওবা রাতের আঁধারে তারা হাঁটতে থাকেন। কৌশাল আরও জানান, একটানা নয়দিন হাঁটার পর ২০মে তারা যখন উত্তরপ্রদেশে পৌঁছান তখন পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া করে রেললাইন দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করেন। কৌশালের ভাষায়, ক্ষুধার্ত আর পায়ে ফোস্কা পড়া অবস্থায় ২৬ ঘণ্টা হেঁটে দলটি যখন লাখনৌতে পৌঁছায়  তখন আর তাদের চলার শক্তি ছিল না।

এরপর দলটি যখন শ্রীনগনর বাবাগঞ্জে পৌঁছে তখন তাদেরকে সেখানকার একটি স্কুলে কোয়ারেন্টইনে রাখা হয়। ২৬ মে তারা সেখান থেকে ছাড়া পেলে কৌশাল, সালমানকে তার বাড়িতে নামিয়ে চলে যান।

সালমানের ভাই রিয়াজ খান জানান, সালমানকে বাড়ি ফিরতে দেখে তারা খুবই আনন্দিত ছিলেন। ওই সময় সালমানের পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তিনি আরও জানান, মাকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ কান্নাকাটি করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে সালমান বাড়ির কাছের আখ ক্ষেতের পাশে যান। সেখানেই তাকে সাপ কামড় দেয়। সে ফিরে না আসায় আধ ঘন্টা পর তারা সেখানে গিয়ে সালমানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। রিয়াজ বলেন, সালমানের মৃত্যুত মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। এখন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজ জানান, পরিবারের ছোট ভাইকে হারিয়ে এমনিতেই তারা বাকরুদ্ধ। তার ওপর মাকে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসার খরচ চালাতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

সূত্র : সমকাল
এম এন  / ০২ জুন

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে