Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০ , ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৮-২০২০

‘দেশের সমুদ্র সম্পদ হুমকির মুখে, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা’

‘দেশের সমুদ্র সম্পদ হুমকির মুখে, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা’

কক্সবাজার, ০৯ জুন - যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে সাগরে থাকা অফুরান সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং এই সম্পদের পরিমাণ ও এর ব্যবহার জানা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের জন্য এখনই মহাপরিকল্পনা নেয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তারা।

সাগর সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন সেভ আওয়ার সি’র উদ্যোগে বিশ্ব সমুদ্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনায় সভায় তারা এসব কথা বলেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদের সভাপতিত্বে ও সেভ আওয়ার সি’র সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আনোয়ারুল হকের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিণ আক্তার, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জীববৈচিত্র্য উপদেষ্টা ও ‘সেভ আওয়ার সি’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুজ্জামান খান, চট্টগ্রাম মৎস অফিসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন, বাংলাদেশ ওসানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. শরিফ, পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক এস কে নাজমুল হুদা।

সমুদ্রের পরিবেশকে সুরক্ষা দিয়ে এর সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিণ আক্তার বলেন, ‘অধিকহারে ও অপরিকল্পিত মাছ ধরার ফলে সমুদ্রের মৎস সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে। এটা রোধ করতে হবে।’ পাশাপাশি সমুদ্র তরঙ্গ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কৌশল রপ্ত করার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা সেভ আওয়ার সি’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুজ্জামান খান বলেন, ‘সাগরের সাথে সহাবস্থান করেই আমাদের টিকে থাকতে হবে। এই সহাবস্থানের জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবন। উপকূলে বিভিন্ন দ্বীপ সুরক্ষায় বাঁধ দেয়া কার্যকর কোন সমাধান হবে না। বরং ওইসব অঞ্চলে লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান, মাছ থেকে শুরু করে জীবন ধারণের অন্যান্য উপকরণ উদ্ভাবন করতে হবে। সমুদ্রকে ঠেকাতে বাঁধ তৈরিতে যত না অর্থ ব্যয় হয়, তার চেয়ে অনেক কম অর্থ ব্যয় হবে এসব উদ্ভাবনে।’

তিনি বলেন, এসডিজি’র ১৪ নম্বর লক্ষ্যতে সাগরের কথা, সমুদ্র অর্থনীতির কথা বলা আছে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল ও সমুদ্রজুড়ে বহু সম্পদ আছে। তবে পরিবেশের তোয়াক্কা না করেই এলএনজি টার্মিনাল, গভীর সমুদ্র বন্দর, বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য, কক্সবাজার সৈকতের অপরিকল্পিত হোটেল মোটেল নির্মাণ করায় সমুদ্রের অভ্যন্তরণে ও সমুদ্র সংলগ্ন এলাকার জীব বৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।

ড. আনিসুজ্জামান খান বলেন, এসডিজিতে লাইফ বিলো ওয়াটারের কথা বলা হলেও আমরা জানি না সমুদ্রের নীচের পরিস্থিতি কী। সমুদ্রতলের পরিবেশ দেখার জন্য দক্ষ ডুবুরি প্রয়োজন। এজন্য দরকার প্রয়োজনীয় জাহাজ ও সরঞ্জাম। দরকার গবেষণা ও দক্ষ লোকবল। কিন্তু এসবের এখনো তেমন কিছুই করা হয়নি।

চট্টগ্রাম মৎস অফিসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন বলেন, সরকার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশগত সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষণা করলেও এর দেখভালের জন্য কোন লোকবল নেই। ২০২৫ সালের মত সাগর ও তৎসংলগ্ন ১০ শতাংশ এলাকাকে সংরক্ষিত করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১ শতাংশের মত করা হয়েছে। তবে মাছের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ এলাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আর সামুদ্রিক সম্পদ শুধু মাছ নয় এর বাইরেও আরো অনেক সম্পদ আছে। এসব সম্পদ কোথায় কোথায় আছে, কী পরিমাণে আছে এবং এগুলোর ব্যবহারই বা কী সে লক্ষ্যে গবেষণা করার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ওসানোগ্রাফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. শরিফ। এই গবেষণা করতে পারলে সমুদ্র সম্পদ ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে বলে তিনি জানান। বলেন, সম্পদের সুষ্ঠু ও টেকসই ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তবে সমুদ্র প্রশ্নে এখনো আমাদের অদূরদর্শিতার অভাব আছে বলে তিনি মনে করেন।

সমুদ্রতলের পরিবেশ কতটা ভালো তা নিশ্চিত করে প্রবাল। এমন তথ্য উল্লেখ করে ওশান এক্সপ্লোরার এসএম আতিকুর রহমান জানান, সেন্টামার্টিন ও তৎসংলগ্ন এলাকার প্রবাল এখন ভালো নেই। অতিরিক্ত পর্যটকদের চাপ, প্রতিদিন বড় বড় জাহাজ নোঙ্গর করায় এখনকার পরিবেশ, প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, তার মতে সেন্টামার্টিনকে সুরক্ষায় সেখানে পর্যটক যাওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় অধিবাসীদের কাজে লাগাতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, সাগরতীরের হোটেল-মোটলগুলো থেকে এখন সরাসরি বর্জ্য সাগরে ফেলা হচ্ছে না। বর্জ্য পরিশোধনের জন্য বললেও মালিকরা কথা শুনছে না বলে জানান তিনি। এক্ষেত্রে প্রশাসনের সহায়তাও অতটা পাওয়া যাচ্ছে না বলে তার অভিযোগ। ২০১৬ সালের পর কক্সবাজারে নতুন কোন হোটেল মোটেল নির্মাণের অনুমোতি দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারের উন্নয়নে ৬৯০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজও চলছে। সাগরের কাছিম, লাল কাঁকড়া, সাগর লতা সংরক্ষণে চারটি জোন ভাগ করা হয়েছে। এসব জোনে বাঁশের বেড়া দেয়া হলেও সম্প্রতি আম্পানে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া মেরিন ড্রাইভের পূর্বপাশ বরাবর ১ লাখ গাছ রোপণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান ফোরকান আহমদ।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব সমুদ্র দিবস পালিত হয়। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোয় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে দিবসটি পালনের প্রস্তাব করে কানাডা। ২০০৪ সাল থেকে জাতিসংঘের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য, টেকসই সমুদ্রের জন্য উদ্ভাবন। অর্থাৎ উদ্ভাবনী কর্ম উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণ করা।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০৯ জুন

কক্সবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে