Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ , ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১৬-২০২০

মসজিদের নামে টাকা তুলে আত্মসাৎ!

মসজিদের নামে টাকা তুলে আত্মসাৎ!

ময়মনসিংহ, ১৬ জুন- এলাকার এক বিত্তশালী মসজিদের সামনের ঈদগাহ মাঠ ও ফটক নির্মাণে জন্য দান করেন প্রায় ৪ লাখ টাকা। মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই টাকার সাথে গচ্ছিত টাকা যোগ করে মসজিদ ও ঈদগাহ নির্মাণ করেন। এ অবস্থায় ঈদগাহ মাঠের কর্নারে আচমকা এক ফলক সবার দৃষ্টিকারে। জেলা পরিষদের পক্ষে ২ লাখ টাকা নির্মাণ ব্যয় দেখিয়ে ওই ফলক লাগিয়ে দেন স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ওই সদস্যার স্বামী তড়িঘড়ি করে ফলক উঠিয়ে নিয়ে যান। এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের নওশতি জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে। এ ব্যাপারে গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ওই এলাকার জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে নামাজ পড়ার জন্য অনুপযোগী অবস্থায় পড়েছিল। এ অবস্থায় ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বিশিষ্ট শিল্পপতি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ঈদগাহ মাঠ উন্নয়নের জন্য চার লাখ টাকা দান করেন। এই দান দিয়ে মসজিদ ও ঈদগাহ কমিটির ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজন কাজ শুরু করেন। 

কমিটির সভাপতি মাহফুজুল হক মাহফুজ জানান, প্রয়োজনীয় একটা টাকা পাওয়ায় ও লোকজনের দানকৃত আরও টাকা যোগ করে শুরু করা হয় ঈদগাহ মাঠের ও একটি গেটের কাজ। এর মধ্যে গত দুই দিন ধরে চোখে পড়ে একটি ফলক। যাতে লেখা রয়েছে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাধীন নওসতী বাজার জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠ উন্নয়ন, প্রাক্কলিত ব্যয় ২ লাখ টাকা। নির্মাণ সাল ২০১৯-২০২০ অর্থ বছর। বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ ময়মনসিংহ। হঠাৎ এ ধরনের অবস্থায় স্থানীয় মুশল্লি ছাড়াও এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তাঁরা ঘটনাটি নিয়ে খোঁজ করে জানতে পারেন এলাকার নারী ইউপি সদস্য রৌশনারা বেগম এই ফলক সাটিঁয়েছেন। পরে লোকজনের চাপের মুখে তাঁর স্বামী ফলকটি উঠিয়ে নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনার পরপরই এ ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য ও সংশ্লিষ্টজনের বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি নারী সদস্য রৌশনারা জানান, তাঁকে এই বরাদ্ধ দিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য আঞ্জুমানারা বেগম। ২ লাখ টাকা বরাদ্ধের মধ্যে প্রথম কিস্তির ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন হয়। এর মধ্যে ঈদগাহ মাঠের সভাপতিকে ২০ হাজার টাকা এবং বাকী টাকা তিনি ও জেলা পরিষদের সদস্য ভাগ করে নিয়েছেন। আর বাকী কিস্তির টাকা উত্তোলন করা হতো কাজ দেখিয়ে। এই জন্য এই ফলক বসানো হয়েছিল। 

অন্যের করা কাজের মধ্যে জেলা পরিষদের ফলক বসালেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা মহা অন্যায় হয়ে গেছে।

জেলা পরিষদের সদস্য আঞ্জুমানারা বেগম ওই ঈদগাহ মাঠের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প দিয়েছেন বলে স্বীকার করে বলেন, প্রকল্প চেয়ারম্যানই জানেন তিনি কাজ করেছেন কি না। এটা আমার দেখার বিষয় নয়। এখানে আমার কোনো স্বার্থ নেই।

ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী খান পাঠান এ প্রতিবেদককে বলেন, এটা বড় ধরণের দুর্নীতি। এ অবস্থায় মসজিদ কমিটি লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: কালের কন্ঠ

আর/০৮:১৪/১৬ জুন

ময়মনসিংহ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে