Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ , ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-১৭-২০২০

শাশুড়ি হত্যার রহস্য উদঘাটনে জানা গেল শ্বশুরকেও তারা খুন করেছিল

শাশুড়ি হত্যার রহস্য উদঘাটনে জানা গেল শ্বশুরকেও তারা খুন করেছিল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৭ জুন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাপুর পুর্বটিকরা গ্রামে নিজ বাড়িতে গলা কেটে বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে বেরিয়ে আসে ঠিক এক বছর আগে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল শ্বশুর শুকুর্দিকেও। 

জানা যায়, ১৪ কাঠা জমির দখল নিতে সৎ জামাই সেকান্দর আলীসহ ভাড়াটে খুনিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বৃদ্ধা রোকেয়াকে। আটজনের কিলিং মিশনের মধ্যে ৫০ হাজার টাকায় চারজন কিলারকে ভাড়া করে এই হত্যা ঘটায় বৃদ্ধার সৎ জামাইরা। বুধবার বিকালে পুলিশ সুপারের কর্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার এএইচএম আব্দুর রকিব। 

পুলিশ সুপার জানান, ১২ জুন রাতে পুর্বটিকরা গ্রামে রোকেয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরের দিন ১৩ জুন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় নিহত রোকেয়ার ভাই বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ক্লুলেস এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি অপারেশন মিন্টু রহমান। মামলায় রোকেয়া বেগমের সৎ জামাই একই এলাকার লুথু মন্ডলের ছেলে সেকান্দর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৬ জুন রাতে আটক করা হয়। এখানেই বেরিয়ে আসে চঞ্চল্যকর তথ্য। রোকেয়া বেগমকে হত্যার মিশনে চার সৎ মেয়ের জামাই ও আরো চার ভাড়াটে খুনি অংশ নেন। ওই রাতেই দু’ ভাড়াটে খুনিকে পুলিশ আটক করে। পরে তাদের তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার জানান, বুধবার সেকেন্দার আলী হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। জবানবন্দীতে জমিজমার কারণে রোকেয়া বেগমকে হত্যা কথা স্বীকার করে। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিন্টু রহমান জানান, রোকেয়া বেগমের স্বামী শুকুর্দির মোট ২৬ কাঠা জমি ছিল। এর মধ্যে ৬ কাঠা স্থানীয় মসজিদে এবং ১৪ কাঠা চার মেয়ে, ১ কাঠা স্ত্রী ও অন্য একমেয়েকে ৩ কাঠা দিয়ে এবং নিজ নামে ২ কাঠা রেখেছিলেন। চার মেয়েকে দেওয়া ১৪ কাঠার শর্ত ছিল তারা স্বামী-স্ত্রী (শুকুর্দি ও রোকেয়া) জীবিত থাকা পর্যন্ত ভোগদখল করবেন। এ জমির দখল নিয়েই চলে আসছিল বিরোধ। 

পুলিশ জানায়, জমির দখল নিশ্চিত করতে রোকেয়া বেগমকে হত্যার ঠিক এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১২ জুন শুকুর্দিকেও ঘাড় মটকে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর বাড়িতে ঝুলিয়ে রাখে। তখন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়। নতুন করে সেকান্দর গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের কাছে শশুর শুকুর্দ্দিকে হত্যার কথা স্বীকার করে। 

পুলিশ জানায়, রোকেয়া বেগমকে হত্যার জন্য চার সৎ জামায় ১২ হাজার করে টাকা তুলে ৪ জন কিলারকে ভাড়া করেন। হত্যা মিশনে চারজন অংশ নেন এবং চারজন বাড়ির বাইরে অবস্থান নেন। রোকেয়াকে গলা কেটে হত্যার পর বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রাখে।  পুলিশ জানায়, হত্যা মিশনে অংশ নেয়া অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

সূত্র : দেশ রূপান্তর
এম এন  / ১৭ জুন

চাপাইনবাবগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে