Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৭ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.2/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২২-২০২০

৬১ লাখ টাকার খোঁজে শ্বাসরুদ্ধকর সাত ঘণ্টা!

৬১ লাখ টাকার খোঁজে শ্বাসরুদ্ধকর সাত ঘণ্টা!

চাঁদপুর, ২২ জুন- চাঁদপুরে যাত্রীর ফেলে যাওয়া ৬১ লাখ টাকা যত্ন করে রেখে তা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এক অটোরিকশাচালক। তবে এই হারানো টাকা উদ্ধার নিয়ে দিনভর ব্যস্ততা ছিল পুলিশের। টাকাগুলো এক বিকাশ এজেন্ট তার কর্মীকে দিয়ে ইউসিবিএল ব্যাংকের স্থানীয় একটি শাখা থেকে উত্তোলন করেন। রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় টাকা ফেলে যাওয়ার সাত ঘণ্টা পর পুলিশের উদ্ধার অভিযান শুরু হলে অটোরিকশাচালক রাত সাড়ে সাতটায় নিজেই থানায় এসে টাকাগুলো ফেরত দিয়ে যান।

পুলিশ ও বিকাশের এজেন্ট সূত্র জানায়, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিকাশ এজেন্ট কর্মী মাসুদ হোসেন শহরের ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ৬১ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। ব্যাংক থেকে নেমে ব্যাগভর্তি সেই টাকা নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠে শহরের জোড় পুকুরপাড় এলাকায় এসে নামেন মাসুদ। কিন্তু ভুলক্রমে অটোরিকশাতেই টাকাগুলো রেখে নেমে যান তিনি। সেখানে বিকাশের এজেন্ট আলমগীর হোসেন জুয়েল নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে মাসুদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এরপর তারা দুই জন ফরিদগঞ্জে কাজে চলে যান। প্রায় আধঘণ্টা পর মাসুদ বুঝতে পারেন টাকার ব্যাগটি তিনি অটোরিকশায় ফেলে এসেছেন।

এদিকে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে ওই অটোরিকশা ও তার চালককে খুঁজতে থাকেন তারা। তবে তাকে না পেয়ে স্থানীয় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মাসুদ নেমে যাওয়ার পর অটোরিকশাচালক সজীব প্রায় আধঘণ্টা সেখানে অপেক্ষা করেন। এরপর টাকার ব্যাগটা নিজের কাছে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান তিনি। ভিডিও ফুটেজ দেখার পরে বিকাশ এজেন্ট জুয়েল তার কর্মী মাসুদকে নিয়ে সদর মডেল থানায় ছুটে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে।

এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেন বিকাশ এজেন্ট আলমগীর হোসেন জুয়েল। অভিযোগের ভিত্তিতে সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বেশ কয়েকটি দল সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ওই অটোচালককে খুঁজতে শুরু করে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ বিষয়ে পোস্ট দিলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা হারানোর খবরটি ভাইরাল হয়ে যায়।

অপরদিকে অটোরিকশাচালক সজীব সেখান থেকে পুরানবাজার পুরাতন ফায়ার সার্ভিস এলাকায় তাদের গ্যারেজে যায়। সেখানে যাওয়ার পর প্রথমে বিষয়টি তিনি জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারী বাদলকে জানান। বাদলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি আগে থেকেই জানা থাকায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারী বাদল জানান, অটোরিকশাচালক সজীব আমাকে বিষয়টি জানানোর পর আমি সঙ্গে সঙ্গে মডেল থানার ওসিকে জানাই।

অটোরিকশাচালক সজীব জানান, তিনি টাকাগুলো পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। টাকাগুলো ফেরত দিতে তিনি ওই স্থানে প্রায় আধঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কিন্তু, কেউ না আসায় সরাসরি তার পুরানবাজার গ্যারেজে চলে যান।

খবর পেয়ে সন্ধ্যায় চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম উদ্দিন পুরানবাজার পুরাতন ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করে।

বিকাশ এজেন্ট আলমগীর হোসেন জুয়েল জানান, ব্যাংক থেকে তোলা টাকাগুলো বিকাশ কর্তৃপক্ষের। এসব টাকা বিভিন্ন বাজারের ছোট ছোট এজেন্টদের মাঝে বিতরণের জন্য তোলা হয়েছিল। এই ঘটনায় থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন জানান, সিসিটিভির ফুটেজ দেখেই থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অটোচালককে খুঁজতে শুরু করে। পরে সন্ধ্যায় খবর পেয়ে শহরের পুরানবাজার হরিসভা রোডের পুরান ফায়ার সার্ভিস এলাকায় অটোরিকশার চালক সজীবের (১৮) কাছ থেকে ৬১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। একটি অটোবাইকের গ্যারেজ থেকে লাল রঙের ব্যাগ ভর্তি অবস্থায় টাকাগুলো উদ্ধার হয়।

ওসি বলেন, ‘‘ছেলেটি এখনও থানায় আছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তারা ভুলক্রমে টাকা ফেলে রেখে যায়। এরপর টাকার ব্যাগ পেয়ে অটোচালক আধঘণ্টা ওই স্থানে অপেক্ষাও করে। এসব দেখেশুনে মনে হচ্ছে তার মধ্যে কোনও ‘গিলটি’ নেই।’’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
এম এন  / ২২ জুন

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে