Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০ , ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৪-২০২০

সুমাইয়ার ‘কৃতিত্বের খবর’ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ‍মা

সুমাইয়ার ‘কৃতিত্বের খবর’ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ‍মা

নাটোর, ২৪ জুন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩ দশমিক ৪৪ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন নাটোরে ‘নিহত’ সুমাইয়া খাতুন।

বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে সুমাইয়ার উত্তীর্ণের তথ্য জানা গেছে। বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শামসুল আলম বলেন, ‘সুমাইয়া খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। তার এমন মৃত্যু শিক্ষকরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। আমরা সবাই চাই, সুমাইয়ার পরিবার যেন সুবিচার পায়।’

এদিকে মেয়ের কৃতিত্বের খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমাইয়ার মা নুজহাত বেগম। কান্নারত অবস্থায় গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘সুমাইয়ার আশা ছিল সিজিপিএ’র ৪ পয়েন্টের মধ্যে ৩.৫ এর বেশি করার। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চেয়েছিল সুমাইয়া।’

সুমাইয়া খাতুন যশোরের সিদ্দিকুর রহমান যশোরীর (মৃত) মেয়ে। ঢাবিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় নাটোর শহরের হরিশপুর বাগানবাড়ি এলাকার প্রকৌশলী মোস্তাক হোসাইনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শ্বশুরবাড়ি থেকেই তিনি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত সোমবার নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে সুমাইয়ার লাশ পান তার মা নুজহাত বেগম।

নুজহাত বেগমের দাবি, সুমাইয়াকে হত্যা করেছেন স্বামীর বাড়ির লোকজন। তিনি জানান, গত সোমবার সকালে নাটোর থেকে ফোন করেন তার বেয়াই জাকির হোসেন। তিনি সুমাইয়ার অসুস্থতার কথা জানান। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান জাকির।

সুমাইয়ার মা বলেন, ‘মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে আমি যশোর থেকে নাটোরে চলে আসি। সদর হাসপাতালে এসে দেখি, আমার মেয়ের মৃতদেহ মর্গে পড়ে আছে। শ্বশুরবাড়ির কেউ হাসপাতালে নেই। সুমাইয়ার পড়ালেখা ও পরে চাকরি করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু বিয়ের পর থেকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এটা মেনে নিতে পারছিল না। এ কারণেই আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।’

সুমাইয়ার পরিবারের দাবি, গত রোববার রাতে সুমাইয়াকে মারপিট করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটিতে তার স্বামী প্রকৌশলী মোস্তাক হোসাইনের পরিবার আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তা না হলে গতকাল দুপুরে নুজহাত বেগম হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মোস্তাক বা তার বাবা জাকির অথবা তার পরিবারের কাউকে পাননি কেন? সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ মৃতের বাবার পরিবারের।

ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রাতে নাটোরের একটি কবরস্থানে সুমাইয়ার লাশ দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নাটোর সদর থানা পুলিশ।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। যেহেতু স্বামীর বাড়িতে ঘটনাটা ঘটেছে, তাই সব দায়দায়িত্ব স্বামী ও তার স্বজনদেরই বহন করতে হবে।’

সুমাইয়ার স্বামী মোস্তাক হোসেন ও শ্বশুর জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে বলেও জানান নাটোরের পুলিশ সুপার।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এন  / ২৪ জুন

নাটোর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে