Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ , ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৪-২০২০

রাশিয়ায় শিখেছেন বুথ জালিয়াতি, টাকা নিয়ে পালাতেন ভারতে

রাশিয়ায় শিখেছেন বুথ জালিয়াতি, টাকা নিয়ে পালাতেন ভারতে

চট্টগ্রাম, ২৫ জুন- চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় জালিয়াতির মাধ্যমে পূবালী ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার হয়েছে। মঙ্গলবার নগরীর আগ্রাবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন জালিয়াত চক্রের হোতা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম (৩৪)। তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের ইয়াজ উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে। থাকেন ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানার নসরুদ্দিন রোডে। 

অপরজন মো. মহিউদ্দিন মনির (৩০)। তিনি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের মৃত আহম্মদ হোসেনের ছেলে। 

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বেশকিছু ডেবিড ও ক্রেডিট কার্ড, ক্লোনিং করার মেশিন, বুথের মেশিন খোলার চাবি এবং একটি দেশী এলজি ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার শরীফুল ২০০৩ সালে এইচএসসি পাস করে রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ ইউনিভার্সিটিতে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তিন বছর মেয়াদী ডিগ্রি নিতে যায়। সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় তার রাশিয়ান রুমমেট ইভানোভিচের কাছ থেকে ক্রেডিট কার্ড প্রতারণার কৌশল শেখে। ২০১০ সালে দেশে আসার পরপরই সে কার্ড জালিয়াতি শুরু করে। এরপর ২০১৩ সালে দুইটি মামলায়ও ১৮ মাসের জেল হয়। জামিনে বের হয়ে ফের জড়িয়ে পড়ে এসব কাজে। 

তিনি বলেন, সে প্রতিবার এ ধরণের জালিয়াতির আগে ভারতের ভিসা নিয়ে রাখত। জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলনের জন্য সে ভারতে পালিয়ে যেত। কিছুদিন থাকার পর সেখান থেকে আবার দেশে ফিরত। গত ২০১৯ সালের নভেম্বরে বুথে জালিয়াতির পরও সে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল।

বুধবার এ বিষয়ে উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুকুল হক সাংবাদিকদের জানান, তারা ক্রেডিট কার্ড ক্লোনিং ও বুথে জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন চক্রের সদস্য। এর আগেও শরীফুল একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিল ঢাকা ও চট্টগ্রামে। গত বছর নভেম্বরে ডবলমুরিং থানায় করা জিডির তদন্ত করতে গিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের সঙ্গে কেউ আছে কি না এসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। 

তিনি জানান, শরীফুল যেসব ব্যাংকে এনসিআর ৬৬২২ ও সেল্ফ সার্ভ ২২ এটিএম বুথ ব্যবহার করে, সেগুলো টার্গেট করে অনলাইনের মাধ্যমে বুথগুলোর বিকল্প চাবি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ‘ম্যালওয়্যার’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পেনড্রাইভ এটিএম মেশিনে প্রবেশ করিয়ে প্যানেল নিয়ন্ত্রণ করে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করেন। গ্রেপ্তার শরীফুল পুলিশকে জানান, ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর ১৫ নভেম্বর ‘এলাইস ম্যালওয়্যার’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জের চাষড়ার পূবালী ব্যাংকের বুথ থেকে পরীক্ষামূলক ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর ১৬ নভেম্বর কুমিল্লার কান্দির পাড় বুথ থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার টাকা ও ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পূবালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম কলেজ শাখার এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে তিন লাখ ৩৪ হাজার টাকা ও আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোড শাখার বুথ থেকে তিন লাখ ১০ হাজার টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করেন শরীফুল।  

ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, পূবালী ব্যাংকের চারটি বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আমরা শরীফুলকে শনাক্ত করি এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করি। তারা ভেবেছিল করোনা পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজর দিচ্ছে না। তাই নগরীতে আবার আসে তারা। গত ২২ জুন আবারও কোতোয়ালীর জিপিও এলাকায় বিকেল পৌনে ৪টায় সাউথইস্ট ব্যাংকের বুথ এবং ৫টায় আগ্রাবাদে মিডল্যান্ড ব্যাংকের বুথে ঢুকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় শরীফুল ও তার সহযোগী মনির। এরপর তাদের গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র: দেশ রূপান্তর
এম এন  / ২৫ জুন

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে