Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০ , ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২৬-২০২০

লালমনিরহাটে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

লালমনিরহাটে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি

লালমনিরহাট, ২৭ জুন- ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত। পানি নিয়ন্ত্রণে ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এর আগে শুত্রবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০, সকাল ৯টায় ৫২ দশমিক ৭৮, দুপুর ১২টায় ৫২ দশমিক ৭৮ ও বিকেল ৩টায় ৫২ দশমিক ৮০, সন্ধ্যা ৬টায় ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার পানি রেকর্ড করা হয়। যা বিপৎসীমার ১৮ থেকে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

জানা গেছে, গত ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা ও ধরলার চর এলাকায় বন্যার দেখা দিয়েছে। গত দুইদিন থেকে জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। টানা বর্ষণ ও নদীর পানি ঘর-বাড়িতে প্রবেশ করায় রান্না করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মানবেতন জীবন কাটাচ্ছেন অনেকে। এসব পরিবার গত দুইদিনে কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি।

এদিকে, পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, বাঘেরচর, জিঞ্জির পাড়া, নিজ শেখ সুন্দর, পাড় শেখ সুন্দর, গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সিন্দুর্না, চরসিন্দুর্না পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ি, সিংগিমারী, ধুবনী, উত্তর ধুবনী, ডাউয়া বাড়ি, বিছন দই, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডারের আমিনগঞ্জ, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা, পলাশী, সদর উপজেলার চর বাসুনিয়া খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিস্তা ও ধরলার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদাম ও ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। মৎস্য খামারের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদি পশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে।

হাতীবান্ধার উপজেলার গড্ডিমারী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, দুইদিন ধরে পানিবন্দি। কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয় না। বাড়িঘরে পানি উঠায় রান্না হয় না। খেতেও পারি না।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আহম্মেদ বলেন, কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধার উপজেলায় প্রায় তিন হাজার পানিবন্দি পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিকেল থেকে পানি প্রবাহ বাড়ছে। তিস্তা পারে বসবাসরত পরিবারগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে; যাতে তারা নিরাপদে থাকে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রসাশক (ডিসি) আবু জাফর বলেন, পানিবন্দি পরিবারগুলোর চাহিদা মোতাবেক তালিকা করে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/২৭ জুন

লালমনিরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে