Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১০ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-১১-২০২০

১০ লাখ টাকা না দেওয়ায় বের করে দেওয়া হলো গৃহবধূকে

১০ লাখ টাকা না দেওয়ায় বের করে দেওয়া হলো গৃহবধূকে
বাবার সঙ্গে শারমিন

নওগাঁ, ১১ জুলাই- নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় স্বামীর চাওয়া ১০ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ায় নির্যাতনের পর শ্বশুরবাড়ী থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে শারমিন আক্তার (২৫) নামে এক নারীকে। স্থানীয়ভাবে দেন-দরবার করে স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চান শারমিন। কিন্তু যৌতুক ছাড়া তাকে ঘরে তোলা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।

উপায়ান্তর না পেয়ে পেশায় হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক স্বামী আব্দুল মোমিনের বিরুদ্ধে ধামইরহাট থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হুমকির শিকার হয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে শারমিন আক্তারকে।

ভুক্তভোগী শারমিন স্নাতোকোত্তর পাস করেছেন। তার বাবার নাম শাহাজাহান আলী। উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নে বসবাস করেন তারা। শারমিনের স্বামী আব্দুল মোমিন উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তার বাবার নাম আব্দুস সাত্তার। উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে বসবাস করেন তারা।

ভুক্তভোগী জানান, ২০১৯ সালে বিয়ের ৩ মাস পর থেকে মোমিন তার কাছ থেকে মোটরসাইকেল দবি করেন। প্রথম দিকে না দিতে পারায় শারমিনের উপর নির্যাতন শুরু করেন স্বামী। পরে তার বাবা শাহাজাহান আলী দেড় লাখ টাকা দিয়ে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন মোমনিকে। কয়েকমাস আগে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মোমিন ও তার পরিবার। যৌতুকের এত বড় অংকের টাকা না দিতে পারায় শারমিনকে ২৯ মার্চ মারধর করা হয়। এ কথা জানার পর শাহাজাহান আলী মেয়েকে নিজের বাড়ীতে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার মিমাংসার জন্য বসতে চান শারমিনের বাবা। শারমিন নিজেও স্বামীর বাড়ি ফিরে যেতে চান। কিন্তু তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায় মোমিন ও তার পরিবার। উপায়ান্তর না পেয়ে মামলা দায়ের করেন শারমিন। ফলে মোমিন ও তার বাবা আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সম্প্রতি আব্দুস সাত্তারের জামিন করান তার মেয়ে রওশন আরা। জামিনে বের হয়ে শারমিনদের বাড়ি এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দেন তিনি। এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন তিনি।

শারমিন আরও বলেন, ‘আমার বাবা গরিব, তারপরও ধারদেনা করে ৪ ভরি সোনা ও দেড় লাখ টাকা এনজিও থেকে ঋণ করে দিয়েছে আমার সুখের জন্য। কিন্তু কপাল খারাপ জন্য এমন স্বামী পেয়েছি। তিনি অন্যত্র বিয়ে করলে নাকি ২৫ লাখ টাকা পাবে, তাই আমাকে তাড়াতে এই নির্যাতন।’

আব্দুস সাত্তার এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমাকে যখন জেল খাটতে হয়েছে, তাহলে সেই বউকে নিয়ে সংসার করা যাবে কিনা ভাবতে হবে। আর আমরা কোনো টাকা পয়সা চাইনি বা কাউকে হুমকিও দেইনি।’

এদিকে আগ্রাদ্বিগুন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আব্দুল মোমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘যৌতুক ও নারী নির্যাতনের মামলা হওয়ায় সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোমিনকে ম্যানেজিং কমিটি সাময়িক বরখাস্ত করেছে।’

এ বিষয়ে ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বলেন, ‘চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল একটি মামলা হয়েছিল। আসামি এখনও জেলে আছে। বাদিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় তিনি জিডি করেছেন। ঘটনার তদন্ত হবে।’

সূত্র : আমাদের সময়
এম এন  / ১১ জুলাই

নওগা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে