Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০ , ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.8/5 (12 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১২-২৫-২০১৩

বগুড়ায় আওয়ামী লীগের ‘শত্রু’ আওয়ামী লীগ!     

বগুড়ায় আওয়ামী লীগের ‘শত্রু’ আওয়ামী লীগ!     

বগুড়া, ২৫ ডিসেম্বর- বগুড়া পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঘাঁটি হিসেবে। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নয়, এ জেলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ‘শত্রু’ তারা নিজেরাই। উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান এ জনপদে গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের ৩১ জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯ জনই নিহত হয়েছেন দলীয় অন্তর্কোন্দলে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিজেদের রক্তে হাত রাঙিয়েছেন দখল, টেন্ডার-চাঁদাবাজি এবং মাদক ও বালু ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরে। এ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ১১ জন করে ২২ জন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের তিনজন এবং ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ ও শ্রমিক লীগের দুজন করে ছয়জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে গাবতলী পৌর যুবলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মামুনুর রশিদ বাদে বাকি সবাই নিজ দলের কর্মীদের হাতে খুন হয়েছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সাধারণভাবে নিজেদের মধ্যে হানাহানির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁরা বলছেন, এর পেছনে দলীয় নয়, ‘অন্য কারণ’ রয়েছে। তবে কারণ যা-ই হোক, আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড আর দ্বন্দ্বের কারণে সরকারের মেয়াদ শেষ ও চলমান রাজনৈতিক সংকটে দল ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়েছে। বিএনপি-জামায়াত-শিবির বেশ কিছুদিন ধরে বগুড়ায় টানা সহিংস কর্মকাণ্ড চালালেও ঐক্যবদ্ধভাবে পথে নেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। শীর্ষস্থানীয় নেতারা দলীয় কার্যালয়ে যান না, তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও তাঁদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন।
খুনের খতিয়ান: বগুড়া পুলিশ লাইনের পাশে একটি জায়গা দখলের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এ বছরের ২৬ মে জেলা যুবলীগ নেতা মজনু মিয়া ও তাঁর ভাইপো যুবলীগের কর্মী নাহিদ হাসান খুন হন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের শাজাহানপুর উপজেলার সভাপতি আবু জাফর সিদ্দিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আবু জাফর এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আসাদুর রহমান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। উভয়েই এই মামলার আসামি।
নিহত মজনু মিয়ার স্ত্রী সুরভী বেগম প্রতিবেদককে জানান, আসামিদের কাছে তাঁর স্বামী ৫০ লাখ টাকা পেতেন। ওই টাকা দেওয়ার কথা বলে আবু জাফর সিদ্দিক ও আসাদুর রহমানের লোকজন ডেকে নিয়ে তাঁকে খুন করে।
২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতে শহরতলির ফুলতলা-চকতানপাড়া এলাকায় নিজের বাসার কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জেলা যুবলীগের কর্মী শামিম হোসেন ওরফে বুশকে। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা হলেও পুলিশ এক বছরেও অভিযোগপত্র দেয়নি।
বুশ হত্যার দুই দিন আগেই শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল আনাম ওরফে রেক্কাতকে দিনদুপুরে রহমাননগর এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ হত্যাকাণ্ডে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মিজানুর রহমান গতকাল প্রতিবেদককে জানান, টেন্ডারের ভাগ নিয়ে বিরোধের জের ধরে সহযোগীদের হাতে খুন হন খায়রুল আনাম। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রায় সবাই তাঁর দলেরই নেতা-কর্মী। পুলিশ অভিযোগপত্র দিলেও পরিবার তাতে আপত্তি তুলে নারাজি দেয়। এখন আবার তদন্ত চলছে।
২৯ নভেম্বর শহরের খান্দার এলাকায় খুন হন শহর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক সুজানুর রহমান ওরফে সুজন। পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। পুলিশ জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজের কর্মীর হাতে সুজানুর খুন হন।
২০১১ সালের ২৪ মে শহরতলির ফুলদীঘি হর্টিকালচার সেন্টারে প্রতিপক্ষের গুলিতে খুন হন যুবলীগ নেতা আমিনুর রহমান শাহীন। ২০১০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের নারুলীতে গুলিতে খুন হন শ্রমিক লীগের সাবগ্রাম বন্দর শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান ওরফে নাসিম এবং সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল হোসেন ওরফে রঞ্জু। ওই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা জামিলুর রহমানসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে মামলা হয়। পুলিশ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
বালু ব্যবসার বিরোধের জের ধরে ২০১০-এর ৪ জুন শহরের শিববাটি সেবক সমিতিতে গুলিতে খুন হন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন ওরফে জুয়েল। ওই ঘটনায় যুবলীগের নেতা ওমর খৈয়ামসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। এ মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
২৭ এপ্রিল রাতে শহরের মাটিডালি এলাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের হাতে খুন হন রাজাপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক। ১২ ফেব্রুয়ারি নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইউছুফ আলীকে পিটিয়ে হত্যা করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান ওরফে জুয়েল। ক্ষুব্ধ লোকজন জুয়েলকেও পিটিয়ে হত্যা করে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি বালু ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে খুন হন যুবলীগের নাটাইপাড়া আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সবুজ মিয়া।
‘রক্তপাতের পেছনে অনৈক্য’: জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বিভক্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা ধরে রাখা শীর্ষ পদের গুটিকয়েক নেতাকে দায়ী করেন। তাঁরা বলেন, অনৈক্যের জন্য অনেক জায়গায় পাল্টাপাল্টি কমিটি হয়েছে। স্বার্থগত দ্বন্দ্বের কারণে খুনোখুনি হচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজউদ্দিন প্রতিবেদককে জানান, ‘দলের রাজনীতির কারণে নাকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তারা মারা গেছে তা সবাই জানে। তবে আওয়ামী লীগ এখন ঐক্যবদ্ধ।’
জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম পাঁচ বছরে নিহত যুবলীগ কর্মীদের বিষয়ে বলেন, ‘দলীয় কোনো কারণে নয়, অন্য কোনো কারণে তারা খুন হয়ে থাকতে পারেন। একটি খুনের ধারাবাহিকতায় আরেকটি খুন হয়েছে।’
বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. মোজাম্মেল প্রতিবেদককে জানান, ‘আধিপত্য বিস্তার, দখল, টেন্ডারবাজির ভাগবাঁটোয়ারা এবং অবৈধ বালু ব্যবসার পাশাপাশি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে অনেক রাজনীতিক খুন হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।’

 

 

 

 

বগুড়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে