Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ , ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১১-২০২০

এগারো বছরেও শেষ হয়নি ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প

শফিকুল ইসলাম


এগারো বছরেও শেষ হয়নি ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প

ঢাকা, ১১ আগস্ট- ১১ বছরেও শেষ হয়নি ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’  প্রকল্প। দারিদ্র্য বিমোচনে ২০০৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০১৪ সালের জুন মাসে শেষ করার কথা থাকলেও এখনও চলমান রয়েছে। নানা কারণে তিনবার সংশোধনী আনা হলেও শেষ হয়নি প্রকল্পের কাজ। সর্বশেষ গত ২৮ জুলাই চতুর্থবারের মতো সংশোধনীসহ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। কোভিড-১৯ এর কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এপ্রিল থেকে বন্ধ থাকলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে এসে আবার সীমিত পরিসরে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, বাস্তবায়নের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে চতুর্থবারের মতো সংশোধন করা হলো ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প। সংশোধনীতে প্রকল্পটির নামে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’। গত ২৮ জুলাই প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এটি বাস্তবায়ন করছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, জেলা প্রশাসন ও অধীনস্থ উপজেলা দফতরসমূহ, সমবায় অধিদফতর, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়া এবং বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী  উন্নয়ন একাডেমি গোপালগঞ্জ।

দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলার ৪৯২টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন ও ৩২৭টি পৌরসভায় চলবে প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। শতভাগ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটিতে ৬টি সুনির্দিষ্ট কারণে সংশোধনী আনা হয়েছে। 

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন, নতুন নিয়মে ডিপিপির অর্থনৈতিক কোড পরিবর্তন, করোনার কারণে কাজ করা যায়নি বিধায় সময় বাড়ানো, সদস্যদের সঞ্চয়ের বিপরীতে কল্যাণ অনুদান ও সমিতিকে ঘূর্ণায়মান তহবিল দেওয়া, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানো এবং প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের স্বার্থে কাজের ব্যয় কিছুটা বাড়ানো এবং কমানোর কারণেই প্রকল্পটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক ‘রাখিবন্ধনে’ আবদ্ধ : কাদের

কমিশন সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পটির নাম ছিল ‘একটি বাড়ি একটি খামার’। এই নামটি পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রকল্পটির নতুন নাম করা হয়েছে ‘আমার বাড়ি আমার খামার’। প্রকল্পটির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সংশোধিত ডিপিপি’তে অন্তর্ভুক্ত করে একনেক সভাকে অবহিত করতেই সংশোধনী আনতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত নতুন প্রবর্তিত নিয়মে ডিপিপি’র অর্থনৈতিক কোডের সংশোধন করা হয়েছে এ কারণেও প্রকল্পের সংশোধনী প্রয়োজন ছিল। তৃতীয়ত করোনা মহামারির কারণে প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বিধায় সংশোধনী আনতে হয়েছে। চতুর্থত যেসব সদস্যের সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থ কল্যাণ অনুদান এবং যেসব সমিতিকে ৩ লাখ টাকা ঘূর্ণায়মান তহবিল দেওয়া হয়নি তা দিতে প্রকল্পটিতে সংশোধনী আনতে হয়েছে। পঞ্চমত, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে প্রকল্পটি সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। সবশেষে প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের স্বার্থে কতিপয় অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটির ৪র্থ সংশোধন প্রয়োজন হয়েছিল।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় মানব ও অর্থনৈতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামের প্রতিটি বাড়িকে একটি টেকসই কৃষিভিত্তিক আয়বর্ধক উৎপাদন ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা, প্রতিটি গ্রামের ৬০ জন (৪০ জন মহিলা ও ২০ জন পুরুষ) দরিদ্র, অতি দরিদ্র ও ভিক্ষুক পরিবার নিয়ে গ্রাম উন্নয়ন সমিতি (ভিডিও) গঠন করা, ক্ষুদ্র ঋণের প্রচলিত ধারণার পরিবর্তে ক্ষুদ্র সঞ্চয় পদ্ধতিতে (সুফল ভোগীদের সাপ্তাহিক সঞ্চয়ের সঙ্গে সমপরিমাণ সরকারি অনুদান প্রদান) মূলধন গঠন করা, আত্ম-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রকল্প থেকে অনুদান হিসেবে গ্রাম উন্নয়ন সমিতিকে ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল সরবরাহ করা, নির্বাচিত সুবিধাভোগীদেরকে কৃষি নির্ভর আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া, উপজেলা বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) মাধ্যমে বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে প্রকল্পের সুফল ভোগীদের মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের জন্য প্রকল্পের সদর দফতরে ডাটা সেন্টার স্থাপন করা, দারিদ্র্যসীমা থেকে উত্তোলিত (গ্র্যাজুয়েটেড) গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্যদের মধ্যে উদ্যোক্তা বিকাশ করার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ দেওয়া, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের জীবন-যাপন ও কৃষ্টির সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন ধরনের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং (ঝ) কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত এ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭১ দশমিক ১৭ শতাংশ। কোভিড-১৯ এর কারণে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে কাজ বন্ধ ছিল।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠন ও এর আওতায় মোট ৫৪ লাখ ৬০ হাজার দরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গ্রাম সমিতির সদস্যদের সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করে মাসে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা হারে পর পর ২৪ মাস পর্যন্ত সঞ্চয় আদায় করে সমিতির নামে খোলা ব্যাংক হিসেবে জমা করা হবে। সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থ সমিতির মিউচুয়াল তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে প্রকল্প থেকে কল্যাণ অনুদান হিসেবে সমিতির ব্যাংক হিসাবে দেওয়া অব্যাহত রাখা হবে। গ্রাম উন্নয়ন সমিতির ঘূর্ণায়মান ঋণ তহবিল সৃষ্টির জন্য কল্যাণ অনুদানের অতিরিক্ত প্রতি সমিতি তিন লাখ টাকা (বছরে দেড় লাখ করে ২ বছর) ঘূর্ণায়মান তহবিল হিসাবে দেওয়া হবে। মোট ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩২০ জন সদস্যকে ২ থেকে ৪৫ দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১৪ লাখ ৪ হাজার ১০০ জন সদস্যকে ভার্মি কম্পোস্টিং, ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সমিতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়ে ১ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। গ্রাম উন্নয়ন সমিতির তহবিল ব্যবহার করে গ্রাম উন্নয়ন সমিতিভুক্ত অন্তত ৬০ শতাংশ পরিবারে পারিবারিক ক্ষুদ্র কৃষি খামার স্থাপন করা হবে। ৪৮ হাজার ১৬০টি ভিক্ষুক পরিবারকে প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসন করা হবে। ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ’ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে। প্রতি উপজেলা এবং জেলা সদরে ১টি করে অফিস কাম অনলাইন বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সকল আর্থিক লেনদেন ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ডাটাবেজ সফটওয়্যার, নিজস্ব ডাটা সেন্টার (ডিসি) ও ডিজাস্টার রিকভারি সাইট (ডিআরএস) স্থাপন করা হবে এবং  গ্রাম উন্নয়ন সমিতির তহবিল গঠন শেষ হলে তহবিলসহ সমিতি ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে’ স্থানান্তর করা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা বা সেবা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন একনেকে জানিয়েছে, প্রকল্পটি জাতীয় দারিদ্র্যের হার হ্রাসকরণে অবদান রাখবে বিধায় প্রকল্পটি ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এটি দেশের দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দেশের সবচেয়ে বড় এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘বিশেষ উদ্যোগ’ ভুক্ত প্রকল্প। প্রকল্পটি দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ‘প্রকল্পটি চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাবসহ একনেকের অনুমোদন পেয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের প্রকল্প। সবচেয়ে বড় প্রকল্প বলে এর নানাদিক সংশোধনের প্রয়োজন হয়েছে তাই করা হয়েছে। আশা করছি একনেকে অনুমোদন পাওয়া নির্দিষ্ট মেয়াদেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক আকবর হোসেন জানিয়েছেন, দেশব্যাপী প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ দিকে। আশা করছি ২০২১ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারবো। করেনার কারণে অনেক দিন এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। এখন চলছে।

এম এন  / ১১ আগস্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে