Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১০ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৮-২০২০

বঙ্গবন্ধুর বাকশাল এবং রক্ষীবাহিনী

আনিস আলমগীর


বঙ্গবন্ধুর বাকশাল এবং রক্ষীবাহিনী

গত সপ্তাহে ‘শাসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ লিখতে গিয়ে বলেছিলাম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যেসব ইস্যুতে বাজে বিতর্ক চালু ছিল এবং এখনও আছে, মুজিববর্ষ শেষ হওয়ার আগে সেসব কয়টি বিষয়ে কলাম লিখবো। সে ধারাবাহিকতায় আজ লিখতে চাই বঙ্গবন্ধুর বাকশাল এবং রক্ষীবাহিনী নিয়ে। দুটোকে আলাদা লিখতে চেয়েও পারলাম না, কারণ একটির সঙ্গে অন্যটি জড়িয়ে আছে। কিছু পাঠকও অনুরোধ করেছেন বাকশাল নিয়ে লেখার জন্য। অনেকে আবার আশা করেছেন, বাকশাল গঠন বঙ্গবন্ধুর নিজের আদর্শের সঙ্গে কতটা বিপরীতধর্মী একটি কাজ ছিল, আমি যেন তা তুলে ধরি।

বাকশাল ও রক্ষীবাহিনী খারাপ ছিল—মানুষের এই ধারণাটি এসেছে কোথা থেকে! ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাজনীতির উল্টোস্রোতের প্রথমেই শুরু হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দকে বিকৃতকরণ, ‘জাতির পিতা’ শব্দকে বিকৃতকরণ, ‘বাকশাল’ শব্দকে গালি হিসেবে নেওয়া আর ‘রক্ষীবাহিনী’কে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সমকক্ষ একটি হিংস্র বাহিনী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। টানা ২১ বছর,পরবর্তীতে আরও ৫ বছর এই প্রচারণাই হয়েছে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ কী করেছে? তারা কখনও বাকশাল এবং রক্ষীবাহিনীর সপক্ষে একটি ভালো শব্দ উচ্চারণ করেনি। করলেও বিপক্ষ শক্তির প্রচারণার কাছে সেটা ডুবে গেছে। আবার এটাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে—স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কাজ-আচরণ যদি এতোই ভালো ছিল তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা কাটিয়ে উঠতে আওয়ামী লীগ এখনও সক্ষম হচ্ছে না কেন! এই প্রজন্মের সবার জানা দরকার ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’ বাকশালটা আসলে কী? এ পদ্ধতিটা প্রবর্তন হলে কী হতো–জাতি তো তার কিছুই দেখেনি বলা চলে। 

বিশ্বের রাজনৈতিক পণ্ডিতেরা গণতন্ত্রকে এখনও সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। বহু ধর্মের অনুসারী মানুষ যেসব রাষ্ট্রে বসবাস করে, সেসব রাষ্ট্রের জন্য গণতন্ত্র হচ্ছে উত্তম পন্থা। ব্রিটিশের সময়ে এই উপমহাদেশে বড় বড় নেতা যারা ছিলেন যেমন মহাত্মা গান্ধী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জওহর লাল নেহরু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ- তারা সবাই গণতন্ত্রপন্থী ছিলেন। সব দোষত্রুটির পরেও গণতন্ত্র হচ্ছে সবাইকে নিয়ে চলার জন্য ভালো পন্থা। উইনস্টন চার্চিল একবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেছিলেন, গণতন্ত্র উত্তম পন্থা তা নয়, কিন্তু তার বিকল্প কোনও উত্তম পন্থা আবিষ্কার হয়নি বলে আমরা গণতন্ত্রকে অনুসরণ করি।

শেখ মুজিব ছিলেন সোহরাওয়ার্দীর শিষ্য। সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ অনুসারী, বঙ্গবন্ধুও তার গুরু সোহরাওয়ার্দীর মতোই গণতন্ত্রের অনুসারী ছিলেন। তারা গুরু-শিষ্য উভয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পছন্দ করতেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের যাত্রায় তাই করেছিলেন। তাহলে প্রশ্ন ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীবলে বহুদলীয় সংসদীয় সরকারের পরিবর্তে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা হলো কেন? আওয়ামী লীগ, সিপিবি, ন্যাপ মোজাফ্ফর, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ এর মাধ্যমে একীভূত হয়েছিল কেন?

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে যখন আত্মনিয়োগ করেন, তখন বিরোধী দল বিশেষ করে পিকিংপন্থীদের বিরোধিতার সম্মুখীন হয়। এই দলগুলো সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিশ্বাসী ছিল। তারা সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল ছিল না। নবগঠিত সংবিধানের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেন এসব দলের নেতারা। ন্যাপের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী দাবি করেন, গণপরিষদের সংবিধান অনুমোদনের কোনও অধিকার নেই। কারণ, তার মতে, ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছিল পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্য এবং আওয়ামী লীগের ছয় দফা ভিত্তিক আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন কায়েমের জন্য। বিরোধী দল নানা অজুহাত তুলে সংবিধান রচনার পথে বাধা সৃষ্টিতে সফল হলে পাকিস্তান যেমন সংবিধান রচনা করতে নয় বছর সময় নষ্ট করেছে, বাংলাদেশেরও এমন অবস্থা হতো। অথচ বঙ্গবন্ধুর সরকার ’৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর নতুন সংবিধান চালু করে ’৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচন দিয়েছেন ওই সংবিধানের ভিত্তিতে।

আগেই বলেছি, পিকিংপন্থী দলগুলো বাংলাদেশের যাত্রালগ্নে গন্ডগোল শুরু করে দিয়েছিল। ১৯৬৭ সালে মাওবাদী কিছু যুবক ঢাকায় ‘মাওবাদী গবেষণা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেছিল, যার নেতা ছিলেন সিরাজ সিকদার। ১৯৬৮ সালে সিরাজ সিকদার ‘শ্রমিক আন্দোলন’ নামে এক সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালে ৩ জুন সিরাজ সিকদার বরিশালের স্বরূপকাঠির পেয়ারা বাগানে অনুষ্ঠিত এক গোপন সম্মেলনে ‘পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি’ গঠন করেন। সর্বহারা পার্টি সর্বপ্রথম সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জোতদার হত্যার পথে পা বাড়ায়। সিরাজ সিকদারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নকশালবাড়ির আদর্শের মিল ছিল, কিন্তু সম্ভবত যোগাযোগ জোরদার ছিল না। থাকলে এবং সর্বহারা পার্টির ভিত শক্তিশালী থাকলে স্বাধীনতার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্ন আসতো না। 

স্বাধীনতার পর কমরেড মোহাম্মদ তোয়হা, আলাউদ্দিন, আবদুল  মতিন, আবদুল হক প্রমুখ কমিউনিস্ট নেতা ভাসানীর ন্যাপ ত্যাগ করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠনের পথে পা বাড়ান। আবদুল মতিন, যিনি ভাষাসৈনিক হিসেবে বেশি পরিচিত, আত্রাই এলাকায় ঘাঁটি স্থাপন করেছিলেন। কয়েকবার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘাত হয়েছিল।  সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টি বাংলাদেশকে ভারতের তাঁবেদার রাষ্ট্র আখ্যায়িত করে জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বান জানান। আবদুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি, তোয়াহার পূর্ববঙ্গের সাম্যবাদী দল, দেবেন সিকদার ও আবুল বাশারের বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি, অমল সেনের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি—এমনসব পিকিংপন্থী দলগুলো সিরাজ সিকদারের অনুরূপ আহ্বান জানান।

কমরেড আবদুল হক ১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে  ‘আমার প্রিয় প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধন করে চিঠি লিখে তার কাছে অর্থ, অস্ত্র ও ওয়্যারলেস সরঞ্জাম সাহায্য চেয়েছিলেন। তিনি ওই চিঠিতে পূর্ব পাকিস্তানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। ভুট্টোর জীবনীগ্রন্থে তা স্থান পেয়েছে (জুলফি ভুট্টো অব পাকিস্তান, স্ট্যানলি ওলপার্ট)। বাংলাদেশের ভেতরে যারা শেখ মুজিবকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, ভুট্টো তাদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। পুনঃপ্রতিষ্ঠার অর্থ পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তি কিনা তার ব্যাখ্যা কখনও হয়নি। কমরেড হকের এই পত্রের পর ডানপন্থী দলগুলো ‘মুসলিম বাংলার’ স্লোগান তোলে। মওলানা ভাসানী মুসলিম বাংলাকে আশীর্বাদ করেন। আবার পিকিংপন্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭৪ পল্টনের জনসভা মওলানা ঘোষণা করেন—বয়স বেশি না হলে তিনি পিকিংপন্থীদের সশস্ত্র সংগ্রামে নিজেই অস্ত্র ধারণ করতেন।

এদিকে, স্বাধীনতার পরপরই সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। রেডিক্যালপন্থীরা পৃথক ছাত্রলীগ গঠন করে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দেয় এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ গঠন করে। তারা গণবাহিনীও গঠন করে। তারাও পিকিংপন্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। তখন নিয়মতান্ত্রিক বিরোধী দল ছিল আতাউর রহমান খানের বাংলাদেশ জাতীয় লীগ। তিনি ওই দলের একমাত্র সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

আবার আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ আর পাকিস্তানপন্থীরা, জাসদ ও পিকিংপন্থী দলগুলো শেখ মুজিবকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছিল। পিকিংপন্থীরা চরম ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। তারা আওয়ামী লীগের তিন জন এমপিকে হত্যা করেন আর অসংখ্য পাটের গুদামে আগুন দেয়। দেশে অনুরূপ পরিস্থিতিতে সরকার সব দলকে নিয়ে একদলীয় বাকশাল গঠন করে। এটাকে তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়ন বা চীন সরকারের সঙ্গে তুলনা চলে। এটা একদলীয় সরকার, কিন্তু পুরো দেশের সব দলকে একছাতায় আনার লক্ষ্যে, আওয়ামী লীগ থাকবে বাকিরা নিষিদ্ধ তা নয়, যেটি বিরোধীরা প্রচার করে। কিন্তু বাকশাল পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু নিহত হন এবং মুশতাক সরকার বাকশাল বন্ধ করে দেয়। সুতরাং বাকশালের কোনও কর্মকাণ্ডই তো জাতি লক্ষ করার সুযোগ পায়নি।

বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য দেশের ৬৪টি মহকুমাকে জেলা ঘোষণা করা হয়েছিল, আর ৬৪ জেলায় গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যে গভর্নর ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন সেটার লক্ষ্য ছিল ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। গত ৩ জুলাই ২০২০, প্রথম আলোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাই চাচ্ছেন এখন। বলেছেন, ‘অনেকে জানে না; ওটার অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলাম আমি। কেন্দ্রিকতা পাকিস্তানকে ধ্বংস করেছে।’ অবশ্য তিনি বাকশালের সমর্থক ছিলেন না দাবি করেন।

বাকশালের অধীনে কিশোরগঞ্জে সংসদের একটি আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপনির্বাচনে কোনও দলীয় প্রার্থী ছিল না। কোনও দলীয় নেতা নির্বাচনি প্রচারে শরিক হননি। বাকশালেরও কোনও প্রার্থী ছিল না। যার ইচ্ছা সে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছে। কথা ছিল যিনি নির্বাচিত হবেন তিনিই বাকশালের এমপি। বাকশাল প্রথায়, পার্লামেন্টেও সব এমপি সব বিষয়ে তাদের স্বাধীন মতামত প্রদান করার অধিকার রাখেন এবং বিলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন। ফ্লোর ক্রসিংয়ের জন্য সদস্য পদ হারাবার কোনও সম্ভাবনাও ছিল না। এটাই ছিল একদলীয় বাকশালের মোটামুটি রূপ।

ইতিহাস আরও বলে, কিশোরগঞ্জের উপনির্বাচনে সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছোট ভাই আর এক স্কুলের গরিব মাস্টার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং সৈয়দ নজরুলের ছোট ভাই স্কুল মাস্টারের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ওই উপনির্বাচনে টাকার কোনও ছড়াছড়ি ছিল না। কোনও মাস্তানি, কেন্দ্র দখল, রাতের ভোট ছিল না। মানুষ স্ব-উদ্যোগে কেন্দ্র গিয়ে ভোট দিয়েছিল। পান, বিড়ি, চা—কেউ কাউকেও খাওয়াতে হয়নি। এত কম খরচের নির্বাচন আর কেউ কখনও দেখেনি। কিশোরগঞ্জের নির্বাচনে গণতন্ত্রের হেরফের কোথায় হয়েছে! বাকশাল তো গণতান্ত্রিক পদ্ধতির নির্বাচন রহিত করে নমিনেশন পদ্ধতির প্রবর্তন করেননি।

এখন বাকশাল নেই। এখন কোনও গরিব রাজনৈতিক কর্মী নির্বাচন করার কথা কল্পনা করতে পারে? পারে না। কারণ নমিনেশন পেতেই কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয় দলীয় নেতাদের। এখন এমপি নির্বাচন করতে ৩/৪ কোটি টাকার প্রয়োজন হয়। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির নমিনেশন বোর্ড প্রথমেই প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করেন, আপনাকে নমিনেশন দিলে নির্বাচনে কত কোটি টাকা খরচ করতে পারবেন? আগামীতে এরূপ ব্যবস্থা টিকে থাকলে সংসদ পুরোপুরি চেম্বার অব কমার্স-এর রূপ নেবে। তখন দুর্নীতির আরও মহা-উৎসব হবে। সংসদ হবে ভাগ ভাটোয়ারার কেন্দ্রবিন্দু। 

তাহলে নবপ্রতিষ্ঠিত একটি দেশকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য বঙ্গবন্ধুর বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া এবং নৈরাজ্য দমনের জন্য রক্ষী বাহিনীকে কাজে লাগানোর বিকল্প কী ছিল? নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের হাতে রাষ্ট্র ছেড়ে দেওয়া? বঙ্গবন্ধু এদের দমনের জন্য প্যারা মিলিটারি রক্ষীবাহিনীকে নিয়োগ দিবেন নাতো কি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দায়িত্ব দেবেন? খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে ২০০৩ সালে যখন সারাদেশে জঙ্গী আক্রমণ, অপহরণ-ছিনতাই শুরু হয়েছিল, তিনি র‌্যাব গঠন করেছিলেন এবং তাদের দায়িত্ব দিয়ে সাকসেসফুল অপারেশন চালিয়েছেন। তিনি কেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিলেন? উদ্দেশ্য তো একই ছিল—শক্ত হাতে দেশের স্বার্থে নৈরাজ্য দমনে শক্তিশালী উদ্যোগ গ্রহণ করা। 

রক্ষীবাহিনী সম্পর্কে সাংবাদিক এবং পরে প্রধান তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী হারুন-অর রশিদ তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, “যুদ্ধের পর থেকে ঢাকার মানুষ বিদ্যুৎ, পানি, মিউনিসিপালিটি, জমির খাজনা ইত্যাদি দেওয়ার কথা এক রকম ভুলেই‌ গিয়েছিল। তার ওপর খাদ্যাভাবের মধ্যে ভুয়া রেশন কার্ডের ছড়াছড়ি। ১৯৭৩ সালে কারফিউ দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘেরাও করে সরকারের সব পাওনা উসুল এবং ভুয়া রেশন কার্ড ধ্বংস করা হয়েছিল। এই কাজে রক্ষীবাহিনী ছিল সরকারের সহায়ক শক্তি। রক্ষীবাহিনীর শৃঙ্খলা সেনাবাহিনীর মতো ডিউটিতে থাকাকালে কোনও কথা বলতো না তারা। গম্ভীরভাবে ডিউটি করতো। এটা রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে কাজে লাগানো হয়েছে। এমন অপপ্রচারও করা হয়েছে যে রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা ভারতীয়। পঁচাত্তরের পর রক্ষীবাহিনীর সব সদস্যকে সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণের পরও আজও একদল মানুষ আছেন যারা সযত্নে এই কাজটি করে যাচ্ছেন । ইদানীং একটি সুরক্ষা বাহিনী নিয়েও এরকম একটা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।”

পরিশেষে বলবো, বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছিলেন, বাকশাল একটি সম্পূর্ণ অস্থায়ী ব্যবস্থা। তাই হয়েছে। রক্ষীবাহিনী অস্থায়ী বাহিনী হিসেবে গঠিত হয়নি, কিন্তু তারাও ইতিহাসে বাকশালের মতো অস্থায়ী হয়ে গেছে। কিন্তু বাকশাল আর রক্ষীবাহিনীকে ঘিরে অপপ্রচার, বদনাম অস্থায়ী হলো না!

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত।

এমএ/ ১৮ আগস্ট

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে