Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১০ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-০৯-২০২০

মাছ ও পশুখাদ্যে  ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার বন্ধে আসছে নির্দেশিকা

মাসুদ রানা


মাছ ও পশুখাদ্যে  ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার বন্ধে আসছে নির্দেশিকা

ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর- মাছ ও পশুখাদ্যে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। বিধি-বিধান থাকলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের মৎস্য ও পশুখাদ্যে প্রাণিজ আমিষের উৎস হিসেবে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। তাই মাছ ও পশুখাদ্য প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে তদারকি জোরদারে একটি নির্দেশিকা করতে যাচ্ছে সরকার।

নিরাপদ মৎস্য, মাংস, ডিম ও দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য ‘মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২০’ করার বিষয়টি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, অধিক ফলনের জন্য বদ্ধ জলাশয়ের প্রাকৃতিক মৎস্যখাদ্য উৎস যথেষ্ট না হওয়ায় প্রক্রিয়াজাত ফিডের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। একইভাবে গোচারণ ক্ষেত্র সংকুচিত, বিদেশি জাতের বা সংকরজাতের গবাদিপশুর খাদ্য চাহিদা বিবেচনা করে এবং অধিক দুধ বা মাংস উৎপাদনের জন্য কৃত্রিম খাদ্য বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে দেশে ফিড অর্থাৎ মৎস্যখাদ্য বা পশুখাদ্যের শিল্প গড়ে উঠছে।

তিনি আরও জানান, মৎস্য ও পশুখাদ্যে প্রাণিজ আমিষের উৎস হিসেবে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার বন্ধের জন্য ২০১০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের হয়। রিটের ওপর শুনানি শেষে মৎস্য বা পশুখাদ্যের মান সুরক্ষার জন্য আদালত একটি গাইড লাইন প্রস্তুতের আদেশ দেন। পরে সরকার ‘মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০’ ও আইন বাস্তবায়নের জন্য ‘মৎস্যখাদ্য বিধিমালা, ২০১১’ এবং প্রাণিসম্পদ সেক্টরের জন্য ‘পশুখাদ্য বিধিমালা, ২০১৩’ প্রণয়ন করে।

ওই দুই বিধিমালায় মৎস্য ও পশুখাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিধান ও পরিদর্শনের পদ্ধতি উল্লেখ আছে। ট্যানারির বর্জ্য মৎস্যখাদ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা হলে বা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন ও বিধিমালার আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এরপরও অবৈধভাবে ট্যানারির বর্জ্য ট্যানারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনৈতিক সহযোগিতায় প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস হিসেবে মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহার হচ্ছে। তাই এটি বন্ধে নির্দেশিকা করা হচ্ছে বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ বলেন, ‘নির্দেশিকার একটি খসড়া করা হয়েছে। খসড়ার বিষয়ে জননিরাপত্তা বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদফতর, বিসিক এবং মৎস্যচাষ ও পশুপালন সংক্রান্ত সমিতির নিকট মতামত চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মতামত দেয়া যাবে। মতামত প্রাপ্তির পর এটি চূড়ান্ত করা হবে।’

রিট পিটিশন মামলায় হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালন, ফিডের নিরাপত্তা বজায়, বিপদমুক্ত, ঝুঁকিমুক্ত ফিড উৎপাদন ও সরবরাহ এবং আইন ও বিধি প্রতিপালন তদারকির জন্য এই নির্দেশিকা করা হচ্ছে বলেও জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব।

এখনও পোল্ট্রি ও মাছের ফিডে ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ধরা পড়ছে, ধ্বংস করা হচ্ছে ফিড। শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে, কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম আবদুল মমিন সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভারী ধাতু ক্রোমিয়াম, সালফিউরিক অ্যাসিড, সোডিয়াম, ক্লোরাইড সালফেট, অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, ফর্মালডিহাইড, ক্লোরাইড। এগুলো মাটিও হজম করতে পারে না। অথচ এগুলো মৎস্য ও পশুর খাদ্যের মাধ্যমে মানবশরীরে প্রবেশ করছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত না ট্যানারিকে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে, ততদিন ট্যানারির বর্জ্য থেকে ফিড তৈরি বন্ধ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘ট্যানারির আরও অনেক ধরনের উপজাত দ্রব্য রয়েছে। এর সঙ্গে অনেক মানুষের জীবিকা জড়িত। এর অনেক খারাপ দিক আছে, আবার ভালো দিকও আছে। তাই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা না নেয়া হলে এগুলো চলতেই থাকবে। ট্যানারির বর্জ্যগুলো তো ম্যানেজ করতে হবে।’

যা আছে খসড়া নির্দেশিকায়

ফিড উৎপাদন, আমদানি, রফতানি ও বিপণন এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি করার কথা বলা হয়েছে খসড়া নির্দেশিকায়। মৎস্য প্রাণিসম্পদ সচিবের নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি হবে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট।

এই কমিটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মহাপরিচালকের উপস্থাপিত ফিড চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি ও রফতানি, মান যাচাই ও পরীক্ষা এবং আইন বাস্তবায়ন বিষয়ক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও পরামর্শ দেবে। এছাড়া বলবৎ আইন ও বিধিমালা হালনাগাদকরণ এবং ফিড উৎপাদন ও মান বজায় রাখার স্বার্থে আইন ও বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে কমিটি।

এতে বলা হয়েছে, মহাপরিচালক প্রধান অফিসের একজন পরিচালককে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের উৎপাদন কারখানা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করবেন।

কমিটি কারখানার লাইসেন্স, উৎপাদন প্রক্রিয়া, ল্যাব, খাদ্য উপকরণ বিশেষ করে প্রাণিজ প্রোটিনের সংগ্রহের উৎস, সকল খাদ্য উপকরণ এবং উৎপাদিত খাদ্যের মজুত ও কারখানার স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, রেকর্ড ইত্যাদি যাচাই করবে এবং প্রয়োজনে ছবিসহ মহাপরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দেবে।

কমিটি মাসে কমপক্ষে তিনটি কারখানা পরিদর্শন করবে এবং মহাপরিচালক সকল প্রতিবেদন সমন্বিত আকারে জাতীয় কমিটিতে পেশ করবেন বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অধিদফতরের ওয়েব পেজে সাব-উইন্ডো করে লাইসেন্সধারী কারখানার নামের তালিকা এবং কী খাদ্য উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে এবং লাইসেন্সের মেয়াদ উল্লেখসহ তথ্য হালনাগাদ করে যুক্ত করতে হবে।

বিভাগীয় পর্যায়ের উপপরিচালক তার অধিক্ষেত্রের অধীন কারখানা যদি থাকে প্রতি মাসে অন্তত একবার কারখানা পরিদর্শন করবেন। একই সঙ্গে কমিটি কারখানার লাইসেন্স, উৎপাদন প্রক্রিয়া, ল্যাব, খাদ্য উপকরণ বিশেষ করে প্রাণিজ প্রোটিনের সংগ্রহের উৎস, সকল খাদ্য উপকরণ এবং উৎপাদিত খাদ্যের মজুত ও কারখানার স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, রেকর্ড ইত্যাদি যাচাই করবে এবং প্রয়োজনে ছবিসহ মহাপরিচালকের কছে প্রতিবেদন দেবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা/জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ের এই নির্দেশিকার নির্দেশাবলি বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন করবেন জানিয়ে নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও সিনিয়র উপজেলা/উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট উপজেলার সকল কারখানা, ফিড বিক্রয়কারী, পাইকারি বিক্রেতা/এজেন্ট বা খুচরা বিক্রেতাকে লাইসেন্সের আওতায় আনার জন্য ব্যবস্থা নেবেন।

প্রতি মাসে কমপক্ষে দুটি ফিড কারখানা, পাইকারি বিক্রেতা/এজেন্ট বা খুচরা বিক্রেতার দোকান পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনের সাতদিনের মধ্যে নির্ধারিত ছকে জেলা দফতরে প্রতিবেদন জমা দেবেন। কারখানা বা দোকান পরিদর্শনকালে কোনো ফিড সংরক্ষণে নিরাপদ মজুত সংশ্লিষ্ট ত্রুটি পেলে বিক্রেতাকে পরামর্শ দেবেন, উপযুক্ত বিবেচনা করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

কোনো ফিডের ভৌত গুণাগুণ দেখে মান বিষয়ে সন্দেহ হলে পরীক্ষার জন্য বিধি মোতাবেক নমুনা সংগ্রহ করবেন এবং দ্রুত পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠাবেন।

লাইসেন্সবিহীন কারখানার উৎপাদিত ফিড তাৎক্ষণিকভাবে আইন বা বিধির আলোকে আটক করে ধ্বংস করতে হবে।

ট্যানারির বর্জ্য বা নিষিদ্ধ শিল্পবর্জ্য কোনো কারখানায় যেকোনো অবস্থায় পাওয়া গেলে বা ফিডের মান পরীক্ষায় ভারী ধাতু নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত বা বিশেষ ক্ষেত্রে শুধু উপস্থিত পাওয়া গেলে কারখানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে ট্যানারির বর্জ্য বা নিষিদ্ধ শিল্পবর্জ্যের উৎসস্থল বিষয়ে অনুসন্ধান করতে হবে এবং মহাপরিচালককে জানাতে হবে। মহাপরিচালক বিসিক বা পরিবেশ অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে ভারী ধাতুর উৎস নিয়ন্ত্রণের বা নিবারণের ব্যবস্থা নেবেন বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, পশুখাদ্যের বস্তার গায়ে ‘ইহাতে নিষিদ্ধ প্রাণিজ দ্রব্য নাই’, মৎস্য খাদ্যের বস্তায় ‘ইহা শুধু মৎস্যখাদ্য হিসাবে ব্যবহারের উপযোগী’ লেখা থাকতে হবে।

সূত্র: জাগো নিউজ
আডি/ ০৯ সেপ্টেম্বর

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে