Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১০ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.8/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৫-২০২০

কালা রাজ্জাক করেছে টিংকুর সম্পদ আত্মসাৎ

কালা রাজ্জাক করেছে টিংকুর সম্পদ আত্মসাৎ

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর- অকাল প্রয়াত জাতীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকুর সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন তার বিজনেস পার্টনার কালা রাজ্জাক। দেশ বিদেশে অঢেল সম্পদ গড়লেও টিংকুর সন্তানদের সাথেও সম্পর্ক রাখেননি রাজ্জাক। এ অভিযোগ করে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুকে লিখেছেন টিংকুর বিধবা স্ত্রী খুজিস্তা নূর-ই-নাহারিন (মুন্নি)।

টিংকু নিজের বিজনেস পার্টনারদের ভীষণ বিশ্বাস করতেন উল্লেখ করে তিনি লিখেন, তার অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং আস্থাভাজন বিজনেস পার্টনার কালা রাজ্জাক সবকিছু আত্মসাৎ করার পর নির্লজ্জ স্বার্থপরতায় টিংকুর সন্তানদের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

তিনি আরো লিখেন, অবাস্তব মনে হলেও সত্য টিংকু নিজের ভাই-বোন আর তাদের সন্তানদের নিজের সন্তানদের থেকে বেশি গুরুত্ব দিতেন, তাদের দেখভাল করতেন। আমি কিছু বললে জবাব দিতেন, ‘'আমি তো আছিই আমার সন্তানদের জন্য, তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য’'। মারা যেতে পারেন কিংবা বিপদ হতে পারে এই চিন্তাটা তার মাথাতেই ছিল না কোনো কালেও।

তার ভাষায়, আমি টিংকুর মত সেলফলেস নই। আমার সন্তান সবার আগে। হ্যাঁ আমি অবশ্যই একজন ভালো স্ত্রী, ভালো মা’ এবং ভালো মানুষ। ভালো মেয়ে বলার সক্ষমতা হারিয়েছি বহু আগেই যখন বাবা-মা কে না জানিয়ে টিংকুকে বিয়ে করেছিলাম। উপায় ছিল না, আমার পরিবার এই বিয়েতে রাজী হতো না কিছুতেই। এটা অবশ্যই অন্যায়। এর বাইরে জীবনের পুরোটা জুড়ে চেষ্টা করেছি সঠিক দায়িত্ব পালনের।

দাম্পত্য জীবন শুরুর কিছুদিন পর থেকে আমি সকাল থেকে রাত অবধি তিন বেলা কেবল রান্না করি আর লোক খাওয়াই। একশ/দুইশ মানুষের রান্না করা আমার জন্য কোনো ব্যাপারই না। পুরানা পল্টনের ১০০০ স্কোয়ার ফিটের বাসায় যেমন লোকে লোকারণ্য তেমনই মগ বাজারে প্রায় ৬০০০ স্কোয়ার ফিটের চার তলা বাড়িতেও তিল ধারণের ঠায় নেই।

ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার স্বার্থে পরে স্বামীর কাছে প্রস্তাব করলাম, ঘুমানোর আগ পর্যন্ত তোমার চার তলায় আসার দরকার নেই। কারণ টিংকুর সাথে থাকা লোকজনও বেড রুম পর্যন্ত চলে আসে। রাতে শুয়ার কাপড় পরে থাকা আমার অস্বস্তি হয়।

এক আর দুতলায় চট্টগ্রামের লোকজন এসে থাকতো। পরবর্তীতে ওদের জন্য আলাদা বাবুর্চি আর পিয়ন।

৪৮ বছরের মধ্যেই টিংকুর সংক্ষিপ্ত জীবনকালের পরিসমাপ্তি। কিন্তু পুরো সময়টা মানুষের সেবায় উৎসর্গ করেছেন।

ফিনেন্স আর ইকনমিক্স নিয়ে পাশ করা আমার ছেলের কথায়, ‘‘আব্বু ব্যাংক-ব্যাল্যান্স, জমি-জমা কিচ্ছু রেখে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি কারণ তুমিই ছিলে আব্বুর ইনস্যুরেন্স। তোমার মতো মা থাকলে বাবাদের চিন্তা করার প্রয়োজন হয় না’’।

আমি ওকে এতোটা দায়িত্বহীন ভাবতে রাজী নই, কারণ আমি জানি টিংকু বিজনেস পার্টনারদের বিশ্বাস করেছিল, তার পরিবারের মানুষদের প্রতি আস্থা ছিল ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার সন্তানদের বুকে জড়িয়ে নিবে।

আরও পড়ুন- আউটসোর্সিং কর্মীদের মাধ্যমে হচ্ছে এনআইডি জালিয়াতি!

কিন্তু নদীর মত জীবনও তার গতিপথ পরিবর্তন করে। স্বার্থপর মানুষরা কতোটা সুখে আছে জানার সাধ হয়। টিংকুর মত বড় মনের একজন মানুষের ছেলে- মেয়ের টাকা আত্মসাৎ করে দামী বাড়ি এবং গাড়ীতে চড়া যায়, কানাডায় স্কারবরো আর ডাউন টাউনে বাড়ির পর বাড়িও কেনা যায় কিন্তু বেঈমানির টাকায় কখনো সুখ আর শান্তি কেনা যায় না।

টিংকুর প্রতি মানুষের যে দোয়া আর ভালোবাসা তা আমার সন্তানদের কাছ থেকে কেঁড়ে নেওয়া সম্ভব নয়। টিংকুর রক্ত এবং হৃদয়ের উত্তরাধিকার হিসেবে এই ভালোবাসা আর দোয়াই আমাদের অমূল্য সম্পদ।

সূত্র: পূর্বপশ্চিমবিডি
এমএ/ ১৫ সেপ্টেম্বর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে