Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০ , ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-১৯-২০১৪

রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির প্রস্তাব

রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির প্রস্তাব

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল- রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি চেয়েছে বারভিটা। এসব গাড়িতে তুলনামুলক কম শুল্ক দিতে হয়। দেশে নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি রয়েছে।

পুরনো গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকল ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বারভিডর কর্মকর্তারা বলেছেন, এ ধরনের গাড়ি আমদানির অনুমতি চেয়ে রাজস্ব বোর্ডকে সম্প্রতি (এনবিআর) প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, সরকার ২৫০০ সিসি পর্যন্ত নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দিলেও দাম বেশি হওয়ায় এ ধরণের গাড়ি ক্রয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ কম। তবে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানি করতে পারলে কম দামে ক্রয়ের সুযোগ পাবেন ক্রেতারা। এতে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ির ব্যবহার বাড়বে। উল্লেখ্য হাইব্রিড গাড়ি জালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে তৈরি।

বারভিডা সূত্র জানায়, তিন বছরের পুরনো হলে ৩০ শতাংশ ও পাঁচ বছরের পুরনো হলে ৫০ শতাংশ কম মূল্যে হাইব্রিড গাড়ি বিপণন করতে পারবে বারভিডা। তখন অনেকেই এ গাড়ি ব্যবহারে উত্সাহী হবেন। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতিও কম হবে। হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ব্যাটারি ও যন্ত্রাংশ তৈরি এবং সংযোজন কারখানা গড়ে উঠবে। এতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

সূত্র মতে, যেখানে ডিজেল বা পেট্রোলচালিত ২৫০০ সিসির একটি সাধারণ গাড়ি আমদানিতে ৪৫১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়, সেখানে একই ক্ষমতাসম্পন্ন একটি হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে সাত গুণ কম অর্থাৎ মাত্র ৬১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। তারপরও এ ধরনের গাড়ির মূল্য সাধারণ ডিজেলচালিত গাড়ির চেয়ে অনেক বেশি । আর ক্রেতারা এ কারণেই নতুন ব্র্যান্ডের হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ে আগ্রহী হচ্ছে না।

বারভিডা সভাপতি হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘আমরা নীতি বৈষম্যের শিকার। দুই বছর ধরে সরকার এক পক্ষকে রেয়াতি সুবিধা দিয়ে আসছে। তবে পরিবেশের কথা চিন্তা করে সরকার হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দিলেও সে উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। কারণ নতুন হাইব্রিড গাড়ি কেনার ক্রেতা কম দেশে।

অটোকন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আবদুল হামিদ শরীফ বলেন, বাংলাদেশ হাইব্রিড গাড়ির সব ধরনের প্রযুক্তিতে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। সরকার রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে টয়োটার হাইব্রিড কার বিপণন করা সম্ভব। জাপানে টয়োটা প্রিয়াস মডেলের অনেক পুরনো গাড়ি মজুদ আছে। এছাড়া হোন্ডা, মিত্সুবিশি, নিশানসহ বিভিন্ন কোম্পানির হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহারও জাপানে বেড়েছে। সরকার অনুমতি দিলে বারভিডা এ গাড়িগুলো আমদানি করতে  পারবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের নামকরা সব গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখন হাইব্রিড গাড়ি তৈরি করছে। জনপ্রিয় হাইব্রিড গাড়িগুলোর মধ্যে টয়োটা প্রিয়াস কার, টয়োটা কারমি, হোন্ডা সিভিক, ফোর্ড এসকেপ, টয়োটা হাইল্যান্ডার, লেক্সাস সিটি ২০০, হোন্ডা ইনসাইট, ফোর্ড ফিউশন, লেক্সাস আরএক্স ৪০০ ও হোন্ডা সিআর-জেড হাইব্রিড অন্যতম।

পরিবেশবান্ধব সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এসব গাড়ির জ্বালানি খরচ অন্য গাড়ির প্রায় অর্ধেক। এতে একটি ডিজেল ট্যাংক ও ব্যাটারি থাকে। গতি বাড়া-কমার সঙ্গে জ্বালানি ক্ষয়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে-কমে। বিশেষ প্রযুক্তিতে নির্মিত এ ধরনের গাড়ি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ইলেকট্রিক পাওয়ারে চলে। গাড়ির উপরে থাকে সোলার প্যানেল। এ কারণেই হাইব্রিড গাড়ি প্রচলিত গাড়ির চেয়ে জ্বালানিসাশ্রয়ী।

ফার্দিনান্দ পোরসে ১৯০১ সালে প্রথম হাইব্রিড প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন। ১৯৯৭ সালে বাজারে আসা টয়োটা প্রিয়াস হাইব্রিড মডেল গাড়িটি এ যাবত্কালের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত হাইব্রিড গাড়ি। প্রতি বছর পাঁচ লাখেরও বেশি টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি বিক্রি হচ্ছে সারা বিশ্বে। হাইব্রিড গাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে। তার পরেই ইউরোপ। এছাড়া প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলংকা, চীন, থাইল্যান্ডেও দ্রুত এ গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু বাংলাদেশে গত ১৫ বছরেও প্রযুক্তিটি তেমন পরিচিতি লাভ করেনি। গাড়ি আমদানিকারক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দেশে হাইব্রিড গাড়ির পরিমাণ এক হাজারেও কম। সরকার শুল্ক ছাড় দিলে দ্রুতই দেশে হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বাড়বে।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে