Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ , ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.4/5 (21 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-২২-২০১৪

ডলারের বিপরীতে বাড়তে শুরু করেছে টাকার মান

আবদুর রহিম হারমাছি


ডলারের বিপরীতে বাড়তে শুরু করেছে টাকার মান

ঢাকা, ২২ এপ্রিল- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে প্রায় এক বছর একই জায়গায় ‘স্থির’ থাকার পর ডলারের বিপরীতে বাড়তে শুরু করেছে টাকার মান।

রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহের ইতিবাচক ধারার কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় টাকা শক্তিশালী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত।

সোমবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলার-টাকার বিনিময় হার ছিল ৭৭ টাকা ৬৫ পয়সা।

চলতি এপ্রিল মাসের আগ পর্যন্ত প্রায় এক বছর ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সায় ডলারের দর ‘স্থির’ ছিল।

এ হিসাবে এপ্রিল মাসে ডলারের বিপরীতে টাকার দর ১০ পয়সা বেড়েছে।

ব্যাংকগুলোতে ডলারের দর আরো কম। সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ৭৭ টাকা ৩০ পয়সায় ডলার বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস)গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত বলেন, “রপ্তানিকারক ও রেমিটারদের (যারা রেমিটেন্স পাঠান) উৎসাহ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্লোটিং মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ‘ধরে’ রেখেছিল। ডলারের দর যাতে না পড়ে যায় সেজন্য দিনের পর দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনেছে।

“কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনার প্রবাহ কমিয়ে দেয়ায় ডলারের দর কমে যাচ্ছে। শক্তিশালী হচ্ছে টাকা।”

২০১২ সালের প্রথম দিকে এই ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ৮৫ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-মার্চ) বাজার থেকে ৩৫০ কোটি (৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত অর্থবছরে কিনেছিল ৪৭৯ কোটি (৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন) ডলার।

তবে এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে না বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

২০০৩ সালে দেশে ভাসমান মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা (ফ্লোটিং) চালু হয়। অর্থ্যাৎ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়।

এর আগ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার-টাকার বিনিময় হার ‘ঠিক’ করে দিত। সে দরেই ডলার লেনদেন হত।

ডলারের দর কমে গেলে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি-না এ প্রশ্নের উত্তরে জায়েদ বখত বলেন, “বেশি কমে গেলে প্রভাব পড়বে। তবে এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। ডলারের দর কমার ইতিবাচক দিকও আছে। আমদানি পণ্যের দাম কম পড়ে।”

টাকা-ডলারের বিনিময় হার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সোমবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৭৭ টাকা ৬৫ পয়সায় কেনা-বেচা হয়েছে।

২০১২ সালের প্রথম দিকে এই ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর‌্যায়ে ৮৫ টাকা পর‌্যন্ত উঠেছিল।

এরপর থেকে তা কমতে কমতে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৭৯ টাকা ২০ পয়সায় নেমে আসে।

গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে তা ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সায় বিক্রি হচ্ছিল।

চলতি এপ্রিল মাস থেকে ডলারের দর কমতে শুরু করেছে।

ব্যাংকগুলো আরো কম দরে ডলার বিক্রি করেছে।

সরকার মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক সোমবার ৭৭ টাকা ৩০ পয়সায় ডলার কিনেছে। রপ্তানি বিলের বিপরীতে সোনালী ব্যাংক প্রতি ডলারে ৭৭ টাকা ৩৪ পয়সা দিয়েছে।

তবে ব্যাংকটি যখন ডলার বিক্রি করেছে তখন নিয়েছে ৭৮ টাকা ৩০ পয়সা।

অন্যদিকে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া সোমবার ৬০ টাকা ৩৮ পয়সায় ডলার কিনেছে। গত বছরের অগাস্টে রুপির বিপরীতে ডলারের দর বাড়তে বাড়তে এক পর্যায়ে ৬৮ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

২০১২ সালের মে মাসে ডলার-রুপির গড় বিনিময় হার ছিল ৫৪ টাকার মত।

সোমবার দিন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ১২ বিলিয়ন (দুই হাজার ১২ কোটি) ডলার।

গত ১০ এপ্রিল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের আগ পর্যন্ত রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের উপরে অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাজার থেকে ডলার কেনা রিজার্ভ বাড়ায় ভূমিকা রেখেছে বলে জানান জায়েদ বখত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

এই নয় মাসে রেমিটেন্স প্রবাহ ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ কমলেও গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এর প্রবাহ উর্ধ্বমুখী। সর্বশেষ মার্চ মাসে ১২৮ কোটি ডলারের রেমিটেন্স এসেছে, যা একক মাস হিসাবে এ যাবতকালে আসা তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।

ডিসেম্বরে এসেছিল ১২১ কোটি ডলার। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এসেছে যথাক্রমে ১২৬ ও ১১৮ কোটি ডলার।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে