Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০ , ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.3/5 (29 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৪-২৫-২০১৪

অগ্রণী ব্যাংকে ১৩২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন

অগ্রণী ব্যাংকে ১৩২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল- রাষ্ট্রীয় মালিকানার অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ১৩২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করে দুটি প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা দিয়েছে। এ ঋণ আবার পুনঃতফসিলও করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিদর্শনে অগ্রণী ব্যাংকের এ খেলাপি ঋণের তথ্য গোপনের এ তথ্য উঠে এসেছে। এ বিষয়ে ব্যাংকের এমডির কাছে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে এ সময়ের মধ্যে ঋণ আদায় করতে অথবা মার্চ ভিত্তিতে খেলাপি ঋণ শ্রেণীভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকগুলো মুনাফা বাড়াতে সাধারণত খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন করে। অগ্রণী ব্যাংকের অন্য শাখায় এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে কি-না সে বিষয়ে পরিদর্শন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ডিসেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর তিন মাস আগে তাদের খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ১১৯ কোটি টাকা, যা ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের ঋণ পুনঃতফসিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধায় তারা বিভিন্ন গ্রাহকের ১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা পুনঃতফসিল করেছে। গত বছর অগ্রণীর নিট মুনাফা হয়েছে ২৯২ কোটি টাকা। আগের বছর যা ৬৬৮ কোটি টাকা ছিল। প্রিন্সিপাল শাখার ১৩২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন না করলে তাদের নিট মুনাফা আরও কম হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ১২৯ কোটি ৪ লাখ টাকা অনেক আগেই খেলাপি হওয়ার কথা। এ ঋণ খেলাপি না করে গত সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর ভিত্তিতে নিয়মিত দেখিয়েছে ব্যাংক। এটিকে গুরুতর অনিয়ম উল্লেখ করে মার্চ ভিত্তিতে তা খেলাপি করতে বলা হয়েছে। জানা যায়, ২০১২ সালের মার্চে অগ্রণী ব্যাংকে এলসি খুলে ২৫ হাজার টন চিনি আমদানি করে করপোরেশন। আমদানি দায়ের বিপরীতে ১৩৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকার এলটিআর (লোন এগেনিস্ট ট্রাস্ট রিসিট) ঋণ সৃষ্টি করে ব্যাংক। ওই বছরের মে মাসে ১৮০ দিন মেয়াদি এ দায় সৃষ্টি করা হয়। এলটিআর পরিশোধের সময় শেষ হয় ২০১২ সালের নভেম্বরে। তবে নির্ধারিত সময়ে দায় পরিশোধ হয়নি। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের এপ্রিল ও মে মাসে ২০ কোটি টাকা করে ৪০ কোটি টাকা পরিশোধ করে করপোরেশন। এর পর গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাকি ১২২ কোটি ৮ লাখ টাকা ৬ মাস মেয়াদি ৬টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে পুনঃতফসিল করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়, পরপর তিন কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে এ সুবিধা বাতিল হবে।

শর্ত অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ জুনের মধ্যে প্রথম কিস্তি পরিশোধের কথা ছিল। আর শেষ কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল গত বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। তবে পুনঃতফসিলের পর আগস্ট মাসে মাত্র ৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে তারা। এরপরও এ ঋণ দেখানো হয়েছে নিয়মিত।

একইভাবে এ শাখার গ্রাহক মেসার্স এএইচবি প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা খেলাপি ঋণের তথ্য গোপনের খবর পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিদর্শনে উঠে এসেছে, ২০১২ সালে এএইচবি প্যাকেজিংয়ের ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকার এলটিআর দায় ছিল। গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত মেয়াদে দুই দফায় এ ঋণের ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা পুনঃতফসিল করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে প্রথম দফায় পুনঃতফসিল করা ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বিপরীতে ডাউন পেমেন্ট বাবদ নেওয়া হয় ১৪ লাখ টাকার একটি পোস্ট ডেটেড চেক। আর গত বছরের অক্টোবরে পুনঃতফসিলের মেয়াদ শেষ হলেও ডিসেম্বরে এসেও তা দেখানো হয়েছে নিয়মিত।

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে