Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০ , ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.7/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-১০-২০১৪

এক রাতেই যেখানে বিক্রি হয় ৫০ লাখ ডিম

মুনিফ আম্মার


এক রাতেই যেখানে বিক্রি হয় ৫০ লাখ ডিম

ঢাকা, ১০ মে- খুচরা বাজারে একটা ডিমের দাম যখন সাত টাকা, পাইকারি বাজারে তখন এটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র পাঁচ টাকা ৬০ পয়সায়। খামারিদের কাছে পাওয়া যায় তার চেয়েও কম মূল্যে। পাঁচ টাকা ৩০ পয়সায় আড়ৎদারদের হাতে ডিম তুলে দেয় তারা। এ ঘাট ও ঘাট ঘুরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছুতে ডিম প্রতি লাভ একটাকা। ফলে হালি প্রতি ডিমে খুচরা বিক্রেতারা লাভ গুণেন চার টাকার মতো।

রাজধানীর তেজগাঁও স্টেশন রোডে দেশের বৃহৎ ডিমের বাজার ঘুরে বেরিয়ে এসেছে এমন তথ্য। দিনের বেলা ঘুমিয়ে থাকা এ বাজার জমে ওঠে রাত বাড়লেই। ১০টার পর আড়তের ঝাঁপি তুলে বসলেও মূলত ১২টার দিকে ভিড়তে থাকে ডিমভর্তি ট্রাক। সেইসঙ্গে ডিমের পাইকারি ক্রেতা-বিক্রেতারাও জুড়তে থাকে ওখানে। একসময় পুরোদমে জেগে ওঠে বাজারটি।

তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির তথ্য অনুযায়ী এ বাজারে গড়ে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি ডিমের ট্রাক ভেড়ে। ছোট বড় এসব ট্রাকে থাকে অন্তত ৫০ লাখ ডিম। দিনভেদে ডিমের দাম ওঠানামা করলেও গড়ে বর্তমানে ১০০ ডিম পাইকারি বিক্রি হয় ৫৬০ টাকায়। সে হিসাবে ৫০ লাখ ডিমের দাম দাঁড়ায়  ২৮০ কোটি টাকা।

প্রতি একশ ডিম ৫৩০ টাকা কিনলেও গাড়ি ভাড়া, শ্রমিকের মুজুরি ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে আড়ৎদারদের এ ডিম বিক্রি করতে হয় ৫৬০ টাকায়। বড় প্রতিটি ট্রাকে একলাখেরও বেশি ডিম বহন করা যায়। ছোট ট্রাকে ৫০ হাজার বা তারও কম ডিম ধরে। বড় ট্রাকের ভাড়া ১০ হাজার টাকা ও ছোট ট্রাকের ভাড়া ৬ হাজার টাকার মতো দিতে হয়। প্রতি ৫০ হাজার ডিম গুণতে গেলে অন্তত দশটি ডিম কম পাওয়া যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। তাছাড়া ৫০ হাজার ডিমে নষ্ট ও ভেঙে যায় গড়ে ৩০০টি। সব মিলিয়ে একশ ডিমে আড়ৎদারদের লাভ ১০ টাকার মতো।

আড়ৎ থেকে পাইকাররা এ ডিম কিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যায়। তাদের লাভের পরিমাণও আড়ৎদারদের মতোই। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের লাভ সবচেয়ে বেশি। তারা এ ডিমই বিক্রি করে এক হালি ২৮ টাকায়। সে হিসাবে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ে সাত টাকা। প্রতিটি ডিমে গড়ে এক টাকা লাভ গুণে তারা। হিসাব করে দেখা গেছে, আড়ৎদার ও পাইকাররা একশ ডিমে ১০ টাকা লাভ করলেও খুচরা বিক্রেতারা একশ ডিমে লাভ করেন ১০০ টাকা।

তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ বলেন, ‘ডিমের ব্যবসায় খামারি আর আড়ৎদারদের লাভ খুব সীমিত। বেশিরভাগ লাভের অংশ যায় খুচরা বিক্রেতাদের পকেটে।’

তবে ডিমের ব্যবসায় সবচেয়ে কম লাভ থাকে খামারিদের। একটা ডিম উৎপাদন করতে তাদের খরচ পড়ে প্রায় পাঁচ টাকার মতো। একটা মুরগির খাবারেই প্রতিদিন খরচ হয় চার টাকা। শ্রমিকের বেতন, খামারের আনুষাঙ্গিক প্রয়োজন মিটিয়ে গড়ে প্রতিটি মুরগির পেছনে খরচ হয় পাঁচ টাকা করে। সে ডিম আড়ৎদাররা কেনে পাঁচ টাকা ৩০ পয়সায়। হিসাবে দেখা যায়, প্রতিটি ডিমে মাত্র ৩০ পয়সা পান একজন খামারি।

বাংলা বছর হিসাবে আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে ডিমের উৎপাদন বেশি হয়। এ সময় দেশি মুরগির ডিম খুব একটা পাওয়া যায় না। তখন ডিমের দামও তুলনামূলক কম থাকে। অন্যান্য সময়ে দাম কিছুটা বাড়ে। তবে ২০০৯ সালে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে যাওয়ার পর সে সময় ডিমের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল। তখন একশ ডিম বিক্রি হয়েছে সাড়ে ৯০০ টাকায়।

এদিকে ডিমের খামার বেড়ে যাওয়ায় চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ফলে ডিমের বাজার সহনীয় আছে বলেও তারা জানান।

কুমিল্লা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নুরূল ইসলাম বলেন, ‘খুচরা বিক্রেতারা দাম আরো কিছুটা কম নিলে সাধারণ ক্রেতারাও কম মূল্যে ডিম কিনতে পারবেন। তাদের উচিৎ ডিমের দাম আরো কিছুটা কম রাখা।’

ব্যবসা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে