Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৫ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০২-২০১২

গণতন্ত্রে ফেরানো ইসির বিদায়

গণতন্ত্রে ফেরানো ইসির বিদায়
গণতন্ত্রে ফেরানো বহুল আলোচিত নির্বাচন কমিশনের শেষ কর্মদিবস আজ। এ জন্য আজ তারা সংবাদ সম্মেলন করে গত ৫ বছরের আমলনামা দেশবাসীকে জানাবেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় নিয়োগ পাওয়া এ কমিশন বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণার পর প্রথমে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হলেও শেষ সময়ে নিশ্চিতভাবে বলা হয় এ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিতে সক্ষম হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অনেক ক্ষেত্রেই সফল তারা। স্বাধীনতার ৪০ বছরেও যা সম্ভব হয়নি পাঁচ বছরে এমন অনেক কিছু করে দেখিয়েছেন ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি সিইসি ড. শামসুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইনের মেয়াদ শেষ হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিদায় নেবেন অপর নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন। জানা যায়, ২০০৭ সালে হুদা কমিশন গঠনের পরপরই তারা সফলভাবে ৪ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। সর্বশেষ নবগঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অত্যাধুনিক ইভিএম প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো একটি সফল নির্বাচন করে। এদিকে বিদায়ের প্রাক্কালে এই ইসির সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন শুরু হয়েছে বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক মহলে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসির মেয়াদকালে বিভিন্ন নির্বাচন, সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য নিয়ে কোনো কোনো মহলে অল্প-স্বল্প কিংবা ক্ষেত্রবিশেষ বেশি বিতর্ক হলেও নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন, সুষ্ঠুভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপজেলা, ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনসম্পন্ন করা, ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরি, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণসহ সর্বশেষ ভোটগ্রহণে ইভিএম পদ্ধতির সফল ব্যবহার তাদের_ মোটা দাগের সাফল্য। এক-এগারোর ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেয়ার কারণে নির্বাচিত মহাজোট সরকারের আমলে বর্তমান ইসিকে অনেক জটিল পরিস্থিতিও সামাল দিতে হয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে কখনো বিরোধীদল আবার কখনোবা সরকারি দলের তীর্যক সমালোচনা উপেক্ষা করে তাদের অনেক সাহসী পদক্ষেপও নিতে হয়েছে। কিছু কিছু পদক্ষেপ রাজনৈতিকমহলে সমালোচিত হলেও সামগ্রিকভাবে প্রশংসিতই হয়েছে এই ইসি। জানা যায়, দেশের রাজনৈতিক সঙ্কটকালে ২০০৭ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পান ড. এ টি এম শামসুল হুদা। যোগদানের দিনই সিইসির ঘোষণা ছিল_ ইসিকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চান, যা নিয়ে জাতি গর্ব করতে পারে। এর পর ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ঘোষণা করেন ৫ দফার রোডম্যাপ। ওই রোডম্যাপে স্থান পেয়েছিল ইসি পুনর্গঠন, নির্বাচনী আইন সংস্কার, ছবিসহ নতুন ভোটার তালিকা, সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ এবং জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান। ৫ বছর পর দেখা যাচ্ছে, সিইসি তার রোডম্যাপের বাস্তবায়ন সফলভাবেই করেছেন। বিদায়ী ইসির সবচেয়ে বড় সাফল্য_ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাড়ে আট কোটি ভোটারকে ছবিসহ তালিকাভুক্ত করা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে ২০০৮ সালের আগস্টে ৪ সিটি ও ৯ পৌর নির্বাচন সফলভাবে শেষ করা। তারপর ২৯ ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে নন্দিত হওয়া। সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনও সফলভাবে শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে একমাত্র ঢাকা ছাড়া সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ইউপি নির্বাচন সফলভাবে করতে পেরেছে তারা। সরকারের কাছে সেনাবাহিনী চেয়ে না পাওয়ার পরও গত ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শতভাগ ইভিএম ব্যবহার করে সারাদেশের মানুষকে তাক লাগিয়ে দেয় এ কমিশন। এছাড়াও দেশে ৭টি উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ইসির আমলে। একমাত্র ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচন ছাড়া বাকি নির্বাচনগুলোর সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতার কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। এদের ব্যর্থতার মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও সর্বশেষ ১৬টি পৌরসভা নির্বাচনে সেনাবাহিনী চেয়েও সরকারের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়া এবং ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য তিনবার প্রস্তুতি নিলেও করতে না পারা। এক্ষেত্রে ৫ বছরের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা যায়যায়দিনকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তারা দায়িত্ব নেয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর ঘোষণা করেন রোডম্যাপ। আর তা বাস্তবায়নে সময় চেয়েছিলেন ২ বছর।' এ সময় রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও মিডিয়াসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতায় তারা সবই করতে পেরেছেন। নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, বিদায়ের মুহূর্তে তিনি বলতে চান তারা সার্বিকভাবে সফল হয়েছেন। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু কিছু কাজ করা যায়নি। অসমাপ্ত ওই কাজগুলো করতে আরো সময় দরকার। সে কাজ পরবর্তী কমিশনের জন্য রেখে যাচ্ছেন। তবে এর আগে যত কমিশন এসেছে তাদের চেয়ে বর্তমান কমিশন ব্যতিক্রমী কিছু কাজ করেছে। এছাড়া কমিশনকে সরকার থেকে আলাদা, নতুন লোকবল বাড়ানো, সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের আচরণবিধি, বদলিসহ আর্থিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাধীনতার পর একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পেরেছে এ কমিশন। তাদের কারণে রাজনৈতিক সংস্কৃতিও বদলেছে। ছবিসহ ভোটার তালিকা ও ভোটারদের দেয়া তথ্য সংরক্ষণে সব উপজেলায় নতুন করে সার্ভার স্টেশন নির্মাণ করছেন। এ কাজের প্রায় ৯০ ভাগ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ইসির নিজস্ব নতুন ভবনের নকশাও তৈরি হয়েছে। আশা করেন নতুন কমিশন এসে নিজস্ব ভবনের কাজ সম্পন্ন করবে। সবশেষে তিনি বলেন, শতভাগ না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সফল। এদিকে পুরনোকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। এরই অংশ হিসেবে শনিবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা এবং নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইনকে। অন্যদিকে, নতুন সিইসি ও অপর চার কমিশনারের বসার জন্য নতুন করে আরো দুটি কক্ষ সাজানোর কাজও শুরু করেছে কমিশন সচিবালয়। স্থান সঙ্কুলান করতে কমিশন সচিবালয়ের ক্যান্টিন তুলে দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের ব্যবহারের একটি কক্ষের বরাদ্দও বাতিল করা হয়েছে। ক্যান্টিন ও পুলিশদের জন্য বরাদ্দ কক্ষ মেরামত করে কমিশনারদের ব্যবহার উপযোগী করার কাজ চলছে জোরেশোরে। কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক বুধবার যায়যায়দিনকে বলেন, স্বাগত ও বিদায় জানানোর সব ধরনের প্রস্তুতিই কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। সংবিধানে সিইসিসহ ৫ কমিশনার নিয়োগের বিধান থাকায় সচিবালয়ের পক্ষ থেকে ৫টি কক্ষ ব্যবহার উপযোগী করার কাজ চলছে। একসঙ্গে ৫ কমিশনার না এলেও যখন যে কমিশনার আসবেন_ তিনি তখনই তার কক্ষ বুঝে পাবেন। সঙ্গে কমিশন সচিবালয়ের যাবতীয় আইন, বিধি, কমিশন বৈঠকের সার-সংক্ষেপ, নির্বাচন সংক্রান্ত জার্নালসহ প্রভৃতি তাদের জন্য প্রস্তুত থাকছে।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে