Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০ , ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.6/5 (94 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ০৫-২৫-২০১৪

কক্সবাজার জেলা পরিষদ: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে ২৫ অভিযোগ

কক্সবাজার জেলা পরিষদ:
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকে ২৫ অভিযোগ

কক্সবাজার, ২৫ মে- প্রায় পাঁচ বছর ধরে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন মো.শফিকুর রহমান। দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে পাঁচ বছরে তিনি কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন বলে অভিযোগ আছে। কক্সবাজারের মানুষের কাছে দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে পরিচিতি পাওয়া শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ২৫ দফা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা পড়েছে।

পাঁচ বছরে কয়েকবার বদলির আদেশ এলেও কক্সবাজার ছাড়ছেন না শফিকুর রহমান। যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তা বছরের পর বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন উপ সচিব মর্যাদার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ একটা পেয়েছি। সেটা কমিশনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কমিশন সিদ্ধান্ত দিলে তদন্ত হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজ ও মার্কেটের দোকান বরাদ্দ দিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার দুর্নীতি করেছেন। ওই মার্কেটে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া খালি জায়গা ডমিনাস পিজা লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘুষের বিনিময়ে বরাদ্দ দেয়া হয়। চুক্তিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে তাদের ভাড়াও কমিয়ে দেয়া হয়।

জেলা পরিষদের নিলিমা রেস্ট হাউজের পেছনে ইজারাদার অবৈধভাবে একটি ভিআইপি রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করেছিল। শফিকুর রহমান যোগদানের আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল আলম নিজামি ওই রেস্টুরেন্টটি উচ্ছেদ করেন। শফিকুর যোগদানের পর অর্থের বিনিময়ে রেস্তোঁরাটি পুনরায় নির্মাণের অনুমোদন দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে দুদকে।

একইভাবে জেলা পরিষদের হিমছড়ি মাধবী রেস্ট হাউজের ইজারাদারকে অবৈধভাবে কুলিং কর্ণার নির্মাণের অনুমোদন দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কক্সবাজারের লাবণী বিচ সড়কের মোড়ে গণি রেস্তোঁরা টেন্ডারের মাধ্যমে পাওয়া ব্যক্তিকে না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে আরেকজনকে পাইয়ে দেন শফিকুর।

শফিকুরের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের ৮টি উপজেলা পরিদর্শনে না গিয়ে পরিবহন ভাতা আত্মসাৎ, দু:স্থ মহিলা সেলাই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিম্নমানের কম্পিউটার সরবরাহ, জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর জন্য নিয়ম বর্হিভূতভাবে পছন্দের ব্যক্তি দিয়ে ক্রোকারিজ, বিছানার চাদর ও আসবাবপত্র কেনা এবং প্রায়ই নিজের বাসভবনের সামনে নামমাত্র বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে।

কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণে শফিকুরের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়ার অভিযোগও জমা পড়েছে দুদকে। জেলা পরিষদের পুরাতন দরজা, জানালাসহ আসবাবপত্র নিজে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

কক্সবাজার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোকে নিজের আত্মীয়স্বজনের থাকার জন্য ব্যবহার, টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপে জেটির ইজারাদারের টাকা মওকুফ করে সরকারকে রাজস্ব বঞ্চিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ডে টিউবওয়েল দেয়ার নামে ১৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, একই এলাকায় সাদ্দাম নামে একজনকে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

দরিদ্র মহিলা জান্নাত,  নাহিদা আক্তার ও হুমাইয়া বেগমের প্রাপ্ত ৫ হাজার টাকা সাহায্য ভাতা থেকে দু’হাজার টাকা কেটে রাখেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। একইভাবে দেলোয়ার হোসেন নামে একজনের কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা অবৈধভাবে কেটে রাখেন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, রিংভং রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং খুটাখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য দেয়া সরকারী প্রকল্প থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা কেটে রাখেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেপরোয়াভাবে এসব অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে বলেই বারবার বদলির আদেশ আসার পরও তিনি কৌশলে তা পরিবর্তন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা পরিষদের অর্থায়নে বড় দুটি প্রকল্পের  কাজ চলছে। এর মধ্যে হাসপাতাল সড়কে প্রায় ত্রিশ কোটি টাকার মার্কেট কাম বহুতল ভবন এবং কোর্ট বিল্ডিং সংলগ্ন দশ কোটি ৬৫ লাখ টাকার কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী নির্মান প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই তিনি বারবার বদলি আদেশ ঠেকাচ্ছেন।

জানা গেছে,কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি উপ সচিবের পদ। বিগত ২০১০ সালের ২০ নভেম্বর এ পদে  মো. শফিকুর রহমান যোগদান করেন । এ হিসেবে একই পদে একই কর্মস্থলে চার বছরেরও বেশী সময় তিনি কর্মরত আছেন। ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী তিনি যুগ্ম সচিব হিসাবে পদোন্নতি পান এবং যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদার পদে বিসিকের পরিচালক হিসাবে তাঁকে বদলী করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে বদলি করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হিসাবে ঢাকায়। তার স্থলে বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য খোকন নামের একজন উপ সচিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

কিন্তু শফিকুর রহমান নানা তালবাহানা করে সাড়ে পাঁচ মাসেও নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। এতে বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্যও তার কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছেন না।

এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য রোববার সকালে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শফিকুর রহমানের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানান। বিকেলে ফোন করার জন্যও সময় নির্ধারণ করে দেন তিনি। কিন্তু বিকেলে ফোন করার পর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর রিসিভ করেননি।

কক্সবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে