Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০ , ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 5.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৩-২০১২

আবুলের দায়মুক্তি!

আবুলের দায়মুক্তি!
পদ্মা সেতু দুর্নীতির আংশিক তদন্ত শেষে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে দায়মুক্তি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বৃহস্পতিবার কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জানান, পদ্মা সেতুর ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে এ প্রকল্পের প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠান করার বিনিময়ে অর্থ নেয়ার অভিযোগের সত্যতাও মেলেনি। তাই এটি নিয়ে অনুসন্ধান, আর সামনের দিকে অগ্রসর হবে না। দুদক চেয়ারম্যান জানান, বিশ্বব্যাংকে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ জানানো হয়েছে। কী প্রক্রিয়ায় এ অনুসন্ধান করা হয়েছে, তা-ও বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে দুদক। তবে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ কানাডিয় প্রতিষ্ঠান তদন্ত করছে বলে জানান তিনি। গোলাম রহমান বলেন, যদি কেউ এ অভিযোগ সম্পর্কিত দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে আবারো অনুসন্ধান করা হবে। দুদক আইনে ভুয়া অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো উপায় নেই। তাই তারা অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। তবে সরকার চাইলে দুদক ভুয়া অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। চীনা একটি প্রতিষ্ঠান কাজ না পেয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ অভিযোগ করেছে মন্তব্য করে গোলাম রহমান বলেন, এতে দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দেশের বৃহৎ একটি প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিনের জন্য পিছিয়ে গেছে। বিশেষ কোনো মহলের চাপের মুখে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রীকে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির দায় থেকে মুক্তি দিতে তদন্তের নামে 'আইওয়াস' করা হলো কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেননি দুদক চেয়ারম্যান। তবে তদন্তে কোনো মহলের কোনো চাপ ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। দেশের সর্ববৃহৎ নির্মাণ প্রকল্প পদ্মা সেতুর অর্থ যোগানদাতা বিশ্বব্যাংক পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত অক্টোবরে তাদের অর্র্থায়ন স্থগিত করে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত এ সেতুর কাজ আটকে যায়। এরপর সরকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিলে প্রতিষ্ঠানটি কাজে নামে। দুদক চেয়ারম্যান দায়মুক্তি : পৃষ্ঠা ২ কলাম ৫ বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রাকযোগ্য পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, 'চুক্তিমূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ প্রদানের শর্তে কাজ দেয়ার বিষয়ে সৈয়দ আবুল হোসেনের হয়ে তাদের কাছে কেউ কোনো অর্থ দাবি করেনি বলে তারা জানিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ ও টেলিফোনে কথা বলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশন সেতুর পরামর্শক নিয়োগে প্রাকযোগ্যতা মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছে। গোলাম রহমান বলেন, কমিটির প্রধান জামিলুর রেজা চৌধুরী বিশ্বব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করেই মূল্যায়নের কথা দুদককে বলেছেন। পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে আমরা কানাডাকে চিঠি পাঠিয়েছি। এর জবাব এখনো আসেনি। এর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। পদ্মা সেতুর ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দুর্নীতিতে যোগাযোগমন্ত্রীর সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত বছরের অক্টোবরে বিশ্বব্যাংক মৌখিকভাবে সরকারকে জানায়, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন দায়িত্বে থাকায় তারা কোনো অর্থায়ন করবে না। এ অবস্থায় সমস্যাসঙ্কুল পদ্মা সেতু প্রকল্প রক্ষায় সরকারের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল। হয় যোগাযোগমন্ত্রীকে অপসারণ, নয় তো পদ্মা সেতু নির্মাণ তদারকির জন্য পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠন। দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন না করলে বর্তমান সরকারের আমলে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। এতে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যা কোনোভাবেই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না। অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে যোগাযোগমন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব কেড়ে নেয়া হলে বিরোধীদলের হাতে আন্দোলনের ইস্যু তুলে দেয়া হবে। সার্বিক বিবেচনায় আবুল হোসেনের মন্ত্রিত্ব কেড়ে না নেয়া হলেও তাকে যোগাযোগমন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী করা হয়। তবে পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি বলে সরকার প্রথম থেকেই দাবি করে আসছিল। অভিযোগের তীর সৈয়দ আবুল হোসেনের দিকে হলেও তিনি বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। আবুল হোসেন দাবি করেন, তিনি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। তবে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দিতে কমিশন চেয়েছেন সৈয়দ আবুল হোসেনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তারা। সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম ব্যবহার করে অর্থ চাওয়া হয়েছে। কমিশন দিলে কাজ পেতে যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই সহায়তা করবেন বলেও আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাদের কাছে যোগাযোগমন্ত্রীর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান 'সাকো'র এক ব্যক্তির ছবি রয়েছে, যিনি একটি কোম্পানির কাছে প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য চুক্তিমূল্যের অংশবিশেষ (পার্সেন্টেজ) দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ করে বিশ্বব্যাংক। উল্লেখ্য, মন্ত্রী হওয়ার পরপরই সাকো ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদ থেকে অব্যাহতি নেন সৈয়দ আবুল হোসেন। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটির তিনজন পরিচালক হলেন মন্ত্রীর স্ত্রী খাজা নার্গিস হোসেন এবং দুই মেয়ে সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন ও সৈয়দা ইফফাত হোসেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগাযোগমন্ত্রী সাকোকে কমিশন এজেন্ট করার জন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিয়েছেন। এজন্য তিনি ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন। এদিকে, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদ্মা সেতু দুর্নীতিতে যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাই শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করতে দুদকের চেয়ারম্যান এবং দুই কমিশনার ইতোমধ্যে বৈঠক করে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুতে অর্থ পেতে হলে বাংলাদেশকে এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো ঋণ ছাড় করা হবে না। প্রতিবেদনটি তৈরি করতে বিশ্বব্যাংকের প্রায় পাঁচ সপ্তাহ সময় লেগেছে। এ সময়ের মধ্যে অন্তত চারটি দেশের ১২ জন লোকের সাক্ষী নেয়া হয়। এ তদন্তে মূল সেতুর কেনাকাটা সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়গুলো আনা হয়েছে। অন্যদিকে নির্মাণ, তদারকি ও পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্ত করছে কানাডা কর্তৃপক্ষ। বিশ্বব্যাংকের তদন্তে সেতুর প্রাক-যোগ্যতা চুক্তি প্রক্রিয়ায় অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, যোগাযোগমন্ত্রী এবং সাকোর কর্মকর্তারা মিলে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন, যাতে কাজ পাইয়ে দিতে সাকো এক ধরনের সাইলেন্ট এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে। কোনো কাজ পেতে হলে বা প্রাক-যোগ্যতায় টিকতে হলে সাকোকে অর্থ দিতে হবে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তদন্তকাজ শেষ করতে বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিতে হয়েছে। সাক্ষ্যদাতারা ভয় পাচ্ছিলেন। যারা বিশ্বব্যাংককে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ দিয়েছেন, শর্ত ছিল_ কোনোভাবেই যেন তাদের নাম প্রকাশ করা না হয়। এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করার পরই তথ্যদাতারা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছেন। হাজির করেছেন তথ্য-প্রমাণ। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বিশ্বব্যাংক ছাড়াও এডিবি এবং জাইকা তাদের ঋণসহায়তা স্থগিত করে দেয়। এ দুটি সংস্থার কাছ থেকে ১০১ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার কথা ছিল।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে