Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২০ , ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.4/5 (24 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৩-২০১২

সেনাবাহিনী নিয়ে আত্মঘাতী খেলা বন্ধ করুন : খালেদাকে হাসিনা

সেনাবাহিনী নিয়ে আত্মঘাতী খেলা বন্ধ করুন : খালেদাকে হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনী নিয়ে আত্মঘাতী খেলা ও উসকানিমূলক তৎপরতা বন্ধ করতে বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই আত্মঘাতী খেলা বন্ধ করুন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুশীলন ও গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখুন এবং গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলুন। কেননা এ দেশের মানুষ এটাই চায়। তিনি আরো বলেন, দেশে অশান্তি সৃষ্টির জন্য আপনার আকাঙক্ষা কোনোভাবেই পূরণ হবে না। বিরোধী দলের গণমিছিল কর্মসূচিতে তিন জেলায় ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার জন্য তিনি বিএনপিকে দায়ী করেন। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে যশোর জেলা তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ভাষণকালে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান তার নিজের স্বার্থে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করেছেন। অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী জিয়ার শাসনকালে ১৯টি ক্যু হয় এবং এ সময় সামরিক বাহিনীর সদস্য হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে নিরীহ লোকদের হত্যা করছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছেন। বিরোধী দলের নেতার উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রশ্ন করেন 'আপনি কত রক্ত চান এবং কত রক্ত পেলে আপনার শান্তি হবে?' তিনি আরো বলেন, 'নিরীহ লোকজন হত্যার জন্য একদিন আপনাকে জবাব দিতে হবে।' শেখ হাসিনা সরকার বদলের জন্য গণতান্ত্রিক রীতিনীতির মধ্যে থাকতে বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'এটা জনগণের প্রত্যাশা।' তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন বিষয়ে তিনি বলেন, কিভাবে বিরোধীদলীয় নেত্রী এত নিশ্চিত হলেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। তিনি বলেন, আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা না করে তবে আপনি কি করবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ছিল ৯০ দিন কিন্তু ওই সরকারটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দুই বছর নিয়েছে। শেখ হাসিনা খালেদাকে প্রশ্ন রাখেন 'এ ব্যাপারে আপনার জবাব কি?' তিনি আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির পেছনে খালেদা জিয়ার যে স্বপ্ন তা পূরণ হবে না। তিনি আরো বলেন, 'মঈনউদ্দিন ও ফখরুদ্দিন আপনার ছেলেদের উত্তম-মধ্যম দিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছে। আপনি কি নিশ্চিত যে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাদের বিদেশ থেকে এনে ফাঁসিতে ঝুলাবে না।' শেখ হাসিনা বলেন, সংবিধান সংশোধনের পর এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায় থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, 'এর মানে কি তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে খেলতে চান। আপনি কি সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন।' প্রধানমন্ত্রী আর কোনো সেনা সদস্যের রক্ত না ঝরাতে বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, 'আপনি ও জিয়া ইতোমধ্যে অনেক রক্ত ঝরিয়েছেন।' গণমিছিল চলাকালে কয়েক ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, 'আন্দোলনের নামে বিরোধী দল ৫ জনকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এবং তারা ঠুনকো কারণে লোক হত্যা করছে। তিনি আরো বলেন, লাশ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে যাবে এমনটি ভাবা বিরোধীদলীয় নেত্রীর স্বভাবে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে সমপ্রতি বিরোধীদলীয় নেত্রী এক সমাবেশে বলেছেন সেনা কর্মকর্তারাও গোপন হত্যার শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, এটা বিরোধীদলীয় নেত্রীর নির্ভেজাল উসকানিমূলক অপপ্রচার।' শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কেবল অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই এসব অপতৎপরতার কারণ। তিনি বলেন, 'তারা উসকানিমূলক বিবৃতি ও কর্মকা-ের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, কথায় ও কাজে মিল না থাকায় বিরোধী দলের আন্দোলনের ডাকে জনগণ সাড়া দিচ্ছে না। বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনকে দেশের জন্য কালো অধ্যায় আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, জনগণ পূর্ববর্তী হত্যা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির যুগে ফিরে যেতে চায় না। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ ও দেশের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের সকল জঘন্য ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমূলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বিগত তিন বছরে সরকারের বিভিন্ন সাফল্য জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্যও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক ও এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লা সিটি মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও ৩৬ জন কাউন্সিলর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে শপথ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র মনিরুল হককে শপথ বাক্য পাঠ করান। অপরদিকে এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ৯ নারী কাউন্সিলরসহ মোট ৩৬ কাউন্সিলরকে শপথ পড়ান। এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। কেননা জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তিনি বলেন, 'আমরা জনগণের ক্ষমতায়ন চাই। জনগণের ক্ষমতায়ন না হলে শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। এমনকি গণতন্ত্রও সুসংহত হবে না।' প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে তার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষ যাতে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে সেজন্য আমরা দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের আমলে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছে। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটা নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ইতোপূর্বে কখনো হয়নি। সিসিসি নির্বাচনে মোট ৬৫ কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনস (ইভিএম) ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মনিরুল হক তার দলের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিজয়ী হয়েছেন। ফলে ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে যে ভোট জালিয়াতি হয়নি তা প্রমাণিত হয়েছে।' তিনি বলেন, 'এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ হয়েছে।' নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সবসময় ইসিকে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চায়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কুমিল্লার উন্নয়নে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এখানে একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) গড়ে তোলা হয়।' তিনি বলেন, কুমিল্লা ইপিজেড ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে রপ্তানি বাণিজ্য সমপ্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এক্ষেত্রে শ্রমঘন ও কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপর অধিক মনোযোগ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের অভিনন্দন জানান এবং আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী মনিরুল হক নবগঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আফজল খানকে পরাজিত করেন। গত বছরের ১০ জুলাই কুমিল্লা পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হয়।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে