Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ , ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৩-২০১২

বৈঠক আর তহবিলের জালে শেয়ারবাজার

বৈঠক আর তহবিলের জালে শেয়ারবাজার
নিয়ন্ত্রক সংস্থার বৈঠক আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের তহবিল গঠনের বেড়াজালে বন্দি হয়ে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজার। আর এই বন্দীদশা থেকে বের না হতে পেরে বিনিয়োগকারীদের আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটছে।
বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনীতি নানামুখী চাপের মধ্যে রয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টেনে ধরার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার প্রবাহ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে শেয়ারবাজারেও টাকার প্রবাহ কমে যাবে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন বাজারে এই মুহূর্তে তারল্যসংকট ও আস্থার সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এখন যদি বাজারে টাকার প্রবাহ কমে যায় তাহলে এই পতনের ধারা কোনোভাবেই রোধ করা যাবে না।
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চলছে দরপতন। আর এই গোটা সময় ধরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বৈঠক করেছে সমস্যা চিহ্নিত করার কাজে। কোনো সমাধান তারা দিতে পারেননি। বার বার বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোটার বাস্তবায়ন হয়নি। তাদের আশ্বাসে বিনিয়োগকারীরা  নতুন করে বিনিয়োগ করেছেন। যত বার বিনিয়োগ করেছেন ততবারই দরপতনে তাদের পুঁজি হারিয়েছেন। এই পুঁজি হারানোর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ‘স্টক মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ নামে একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স (বিএবি)। ওই মাসে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইও বাজার স্থিতিশীল করতে বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়। তবে তাদের এ ঘোষণা আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
অথচ তাদের এই ধরনের তহবিল গঠনের ঘোষণায় বিনিয়োগকারীরা আশার আলো দেখতে পেয়েছিলেন। এর ফলে তারা নতুন করে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু এই সব ঘোষণার কোনো বাস্তবায়ন না দেখে তাদের মধ্যে বাজার নিয়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পতনের গতি আরো ত্বরান্তিত হয়।

 অন্যদিকে আইসিবি কর্তৃক পাঁচ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ফান্ড গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলেও বাজারের স্থিতিশীলতায় তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

অন্যদিকে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ভয়াবহ দরপতন। এরপর থেকে বাজার স্থিতিশীলতায় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করেছেন। তবে তাদের সে বৈঠক শুধু আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।  এসব বৈঠক থেকে তেমন কোনো  ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে নি। বারবার তারা বলেছেন, বাজারের সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে তাদের সেই উদ্যোগ বাস্তবে কেউ এখনো দেখেনি।

 

এদিকে গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ব্যাংকগুলো বাজারমুখি হবে এমন খবরে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নতুন করে স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে তারা পুরো উল্টোটাই করেছেন। ব্যাংকগুলো প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিলেও সেটা তারা রাখেনি। স্বাভাবিক বাজারের পরিবর্তে বাজার স্থায়ীভাবে অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। দর পতন স্থায়ীরূপ লাভ করে।

 

এই অবস্থায় ব্যাংকগুলোর অসত্য প্রতিশ্রুতিতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করে। ২০১০ সালে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করে এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা সভা সেমিনারে বলা হলেও প্রকৃত অর্থে তারা বিনিয়োগে আসছেন না।
অন্যদিকে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী রাজধানীর গোপীবাগে লিয়াকত আলী এবং চট্টগ্রামে দিলদার হোসেন তাদের পুঁজি হারিয়ে আত্মহত্যা করেন।

                                                   

গত সপ্তাহে এর আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন দুই কমেছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৬৪১ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে চার হাজার পয়েন্টর নিচে। লেনদেন কমেছে চার দশমিক ৪৯ শতাংশ। লেনদেন হওয়া ইস্যুর মধ্যে দর কমেছে ২৬১টির ও কমেছে পাঁচটির।

 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে