Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০ , ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (41 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৩-২০১২

জাবির ২০০ বৈধ ছাত্র হলছাড়া

জাবির ২০০ বৈধ ছাত্র হলছাড়া
রাজনৈতিক ভিন্নমত, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের মধ্যে গ্রুপিং, প্রশাসনের ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাসহ প্রভৃতি কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রায় ২০০ বৈধ ছাত্র হলে থাকতে পারছেন না। এর মধ্যে যথা সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারায় প্রায় ৪০ জন তাদের ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। জানা গেছে, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল ছেড়ে দেন। বর্তমানে সংগঠনটির প্রায় ৭০ জন নেতাকর্মী ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। এ তালিকায় ২০০২-০৩ সেশনে ভর্তি হওয়া ৩২তম ব্যাচ থেকে শুরু করে ২০০৯-১০ সেশনের ৩৯তম ব্যাচের ছাত্ররাও রয়েছেন। এদের মধ্যে যথাসময়ে ক্লাস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় ১২ জনের ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে গেছে। এদের কেউ কেউ স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর কোনো পর্যায়ের সার্টিফিকেট পাননি। ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যাওয়ায় পারিবারিক চাপ ও বেকারত্বে অনেকেই এখন দুঃসহ জীবন পার করছেন। ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া এমন একজন হলেন- প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রদল কর্মী নবীন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, হলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্ছিত তো করা হয়েছেই, তার ওপর ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন অনেক ছাত্রের জীবনকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে ছাত্রদল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জানান, তারা বহুবার প্রশাসনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এদিকে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের কারণে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সংঘর্ষের জের ধরে অনেক ছাত্রকে হল ত্যাগ করতে হয়। বর্তমানে ছাত্রলীগের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন না। এদের অনেকে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্ছিত। অনেকের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের পরদিন থেকে জাবি ক্যাম্পাসে হল দখল এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শুরু হয় ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাত। ২০০৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের সংঘর্ষে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাঠে নামে উভয়পক্ষ। সেই দিন থেকে বহুবার নিয়মিত সংঘর্ষে লিপ্ত থেকেছে জাবি ছাত্রলীগ। এসব সংঘর্ষের শেষে একপক্ষ হল দখল করে আরেক পক্ষকে হল থেকে বের করে দেয়। ২০১০ সালের ১৯ মে রাশেদুল ইসলাম শাফিনকে সভাপতি ও নির্ঝর আলম সাম্যকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং নতুন মাত্রা পায়। এক্ষেত্রে উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংকে জিইয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। তবে উপাচার্য বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শাফিন বলেন, উপাচার্যের পছন্দের লোকজন কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়ায় তিনি ২০১০ সালের ৫ জুলাইয়ের সংঘর্ষে ইন্ধন জোগান। তাদের বহিষ্কার করে গোপালগঞ্জ কোরাম গঠন করে ভিসিলীগ নামে নতুন ছাত্রলীগ দিয়ে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল থেকে শাফিন গ্রুপের ২৫-৩০ নেতাকর্মীকে বের করে দিয়ে শামিম-শরীফ গ্রুপকে পুনর্বাসিত করা হয়। পুলিশের সহায়তায় এই পালাবদলে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক আরজু মিয়া। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সর্বশেষ বলি ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমদ বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্র ছিলেন। তাকেও হল থেকে বের করে দেয়া হয়। ঢাকা থেকে পরীক্ষা দিতে এসে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলায় নিহত হন জুবায়ের। জুবায়েরের মৃত্যুর পর ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আতঙ্কে ক্যাম্পাসে আসছে না বলে জানা গেছে। এ ধরনের পালাবদলের ঘটনা মওলানা ভাসানী হল, আলবেরুনী, কামাল উদ্দিন, মীর মোশাররফ হোসেন হলেও ঘটেছে। মওলানা ভাসানী হলের ছাত্র ও ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি রাশেদ রেজা ডিকেন বলেন, তাকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দিয়েছিল প্রশাসনপন্থী ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। সে ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারছেন না বলে জানান। এদিকে জুবায়ের হত্যার পর ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থানের সুযোগ করে দিতে আন্দোলন শুরু করে সাধারণ শিক্ষকরা। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সংগঠন 'শিক্ষক সমাজ'-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ভিন্নমতের ও অপছন্দের ছাত্রদের প্রশাসনের মদদে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখার বিষয়টি কিছুতেই প্রশাসন অস্বীকার করতে পারবে না। তাই তারা সব ছাত্রদের হলে থাকার সুযোগ করে দিতে প্রশাসনকে দাবি জানিয়েছেন। হলে সহাবস্থানের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, যাদের ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে গেছে তাদের জন্য এখন কিছুই করার নেই। তবে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানকারীদের হলে থাকার বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে