Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১২ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.4/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৩-২০১২

বাংলাদেশে যাব শুনেই ভয় পেয়েছিলেন ফখরুদ্দীন

পরিতোষ পাল


বাংলাদেশে যাব শুনেই ভয় পেয়েছিলেন ফখরুদ্দীন
কলকাতা বইমেলায় তসলিমা নাসরিনের আত্মজীবনীর সপ্তম খণ্ড ‘নির্বাসন’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি। একটি মুসলিম সংগঠনের অনুরোধে কলকাতা পুলিশের পরামর্শে বইমেলার আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড নির্ধারিত বই প্রকাশ অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে। পরে অবশ্য বইটি খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানেও মুসলিমদের একাংশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে মুসলিমদের ধর্মীয় আবেগে আঘাত করার মতো বিস্ফোরক কিছু নেই এই বইয়ে। তবে কিভাবে মৌলবাদীদের জন্য তাকে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তারই রোজনামচা এই বইটি। বইতে বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা মন্তব্যও উঠে এসেছে। সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হিসেবে তসলিমা তার বইয়ের ১৮০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘আজ গাফফার চৌধুরীর সঙ্গে কথা হলো। তাঁকে বলেছিলাম, বাংলাদেশে ফেরত যেতে চাই, তিনি যেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে কথা বলেন। আমাকে যেন আমার দেশে থাকার অধিকার তাঁরা দেন। গাফফার চৌধুরী জানালেন, তিনি ফখরুদ্দীনের সঙ্গে কথা বলেছেন, ফকরুদ্দীন নাকি আমার নাম শুনেই ভয় পেয়ে গেছেন। আমাকে কেউ সাহায্য করতে রাজি নন। কেউ আমার দেশে ফেরত চান না। বারবারই গাফফার চৌধুরী বললেন, দেশে তোমাকে মেরে ফেলবে। তোমাকে কপি করে যে লোক লেখা শুরু করেছিল, তাকে মেরে ফেললো।- কে? - কেন, হুমায়ুন আজাদ। তোমাকে পায় নি বলে হুমায়ুন আজাদকে মেরেছে। তুমি দেশে থাকলে তোমাকেও ওই একইভাবে মারতো।’  বাংলাদেশের প্রসঙ্গ ঘুরেফিরেই এসেছে ‘নির্বাসনে’র নানা জায়গায়। তসলিমা তার নির্বাসনের যন্ত্রণা যে বাংলাদেশের মানুষ উপভোগ করছেন তা জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমার দেশটি তাকিয়ে তাকিয়ে আমার যন্ত্রণা দেখছে আজ এক যুগেরও বেশি। আমার দেশটি দেশে দেশে আমার বন্দিত্ব দেখছে, দূরত্ব বেড়ে গেলে দূরবীন লাগিয়ে দেখছে, বেজায় হাসছে, পনেরো কোটি মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে ভোগ করছে আমার সর্বনাশ। আমার দেশ এমন ছিল না আগে, দেশের হৃদয় বলে কিছু ছিল। দেশে মানুষ বলে কিছু ছিল। দেশ আর এখন দেশ নেই। কতগুলো স্থবির নদী শুধু, কতগুলো গ্রাম আর শহর। এখানে ওখানে কিছু গাছপালা, কিছু ঘরবাড়ি, দোকানপাট। আর ধুসর চরাচরে মানুষের মতো দেখতে কিছু মানুষ। আমার দেশে এককালে প্রাণ ছিল খুব, এককালে কবিতা আওড়াতো খুব মানুষ, এখন কবিকে নির্বাসন দিতে কেউ দু’বার ভাবে না। এখন কবিকে মাঝরাত্তিরেও নিশ্চিন্তে ফাঁসি দিয়ে ফেলে গোটা দেশ, পনেরো কোটি মানুষ তাকিয়ে তাকিয়ে ভোগ করে মর্মন্তুদ মৃত্যু। দেশটি ভালবাসতে জানতো আগে, দেশ এখন হিংসে শিখেছে, চোখ রাঙানো শিখেছে। দেশের হাতে এখন ধারালো সব তলোয়ার থাকে, দেশের কোমরে গোঁজা মারণাস্ত্র, মারাত্মক সব বোমা, দেশ এখন আর গান গাইতে জানে না।  দুনিয়া তছনছ করে দেশ খুঁজছি এক যুগেরও বেশি, এক যুগেরও বেশি ঘুম নেই। উন্মাদের মতো দেশ দেশ করে দেশের কিনারে এসে দেশকে স্পর্শ করতে দু’হাত বাড়িয়ে আছি। আর শুনি কিনা, হাতের কাছে দেশ যদি একবার পায় আমাকে তবে নাকি আমার রক্ষে নেই।’ তসলিমার ‘নির্বাসন’ গ্রন্থের পাতায় ছড়িয়ে রয়েছে তার যন্ত্রণার কথা, তাকে গৃহবন্দি করে রাখার কথা, তাকে নজরবন্দি করে রাখার কথা। তবে গ্রন্থের শুরুতেই তিনি  এনেছেন  ‘ক’ বা ‘দ্বিখণ্ডিত’ নিয়ে দুই বাংলার লেখকদের উষ্মার কথা। লেখকদের যৌন সুখের কথা ফাঁস করে তসলিমা কোন অন্যায় করেছেন বলে মনে করেন না। বরং তিনি লিখেছেন, ‘ক’ বেরোবার সঙ্গে সঙ্গে নাকি আগুন জ্বলেছে। আমাকে যাচ্ছেতাই ভাষায় গালাগালি করা হচ্ছে সব পত্রিকায়। লেখক-শিল্পী-সাহিত্যিক আমার বিরুদ্ধে ক্লান্তিহীন নিন্দায় মেতে আছেন। কার কার সঙ্গে শুয়েছি তাই নাকি লিখেছি আমি এই বইয়ে, আমার মতো ‘নির্লজ্জ বেশ্যা’ আর জগতে নেই। বইয়ের কয়েক পৃষ্ঠা জুড়ে অবশ্য তসলিমা তার নিন্দা করে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিকরা কি কি মন্তব্য করেছেন তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। তবে জীবনের শেষ লেখাটি তাকে নিয়ে লিখেছিলেন প্রাক্তন বিচারক কে এম সোবহান। আর তাই তসলিমা লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশে হাতেগোনা যে ক’জন বুদ্ধিজীবী আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে কে এম সোবহান একজন।’ তসলিমা স্মরণ করেছেন শামসুর রাহমান, ওয়াহিদুল হক, কলিম শরাফি, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীসহ আরও কয়েক জনকে, যারা তাকে বিভিন্ন সময়ে সমর্থন করেছেন।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে