Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (36 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০২-০৪-২০১২

দূরত্বের ভেল্কিবাজিতে দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট

দূরত্বের ভেল্কিবাজিতে দেড় হাজার কোটি টাকা লোপাট
রাজধানীর বিভিন্ন রুটে দূরত্ব নির্ধারণ ভেল্কিবাজিতে গণপরিবহন মালিকরা বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। রাস্তার প্রকৃত দূরত্বের চেয়ে বেশি দূরত্ব দেখিয়ে এ বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাট করা হলেও তা প্রতিরোধে সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। রাস্তার দূরত্ব মাপার জন্য নেই সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা ও তদারকির ব্যবস্থা। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রকৃত দূরত্ব যেখানে ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার সেখানে দেখানো হচ্ছে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার। একইভাবে ৫ কিলোমিটার দূরত্বকে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কিলোমিটার। আর এভাবে সড়কের দূরত্ব পরিমাপে বড় ধরনের ঘাপলা নিয়েই চলছে ভাড়া নির্ধারণ। এ প্রসঙ্গে ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেটর বোর্ডের (ডিটিসিবি) নির্বাহী পরিচালক ড. এস এম সালেহউদ্দিন বলেন, দূরত্ব পরিমাপের পদ্ধতি কী, এক্ষেত্রে আদৌ কোনো নীতিমালা আছে বলে তার জানা নেই। তিনি মনে করেন, বিআরটিএর উচিত দূরত্ব পরিমাপের বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে এ ব্যাপারে কোনো অনিয়ম থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা। ঢাকা শহরের আট থেকে দশটি রুটের দূরত্ব পরিমাপ করে দেখা গেছে, বিআরিটিএর দেয়া দূরত্বের সঙ্গে প্রকৃত দূরত্বের কোনো মিল নেই। প্রায় সব রুটেই দূরত্ব নির্ধারণের ভেল্কিবাজি ধরা পড়েছে। বিআরটিএর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মগবাজার মোড় পর্যন্ত দূরত্ব দেখানো হয়েছে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃত দূরত্ব হচ্ছে ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার।৬ অর্থাৎ যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ১ কিলোমিটার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দূরত্ব ৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃত দূরত্ব হচ্ছে ৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার। এখানে ফারাক ২ দশমিক ৫ কিলোমিটারের। আবার মোহাম্মদপুর টাউন হল থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দূরত্ব ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃত দূরত্ব হচ্ছে ৮ দশমিক ২ কিলোমিটার। মিরপুর রুটে মিরপুর দশ নাম্বার গোল চক্কর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সরকারি দূরত্ব ৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃত দূরত্ব হচ্ছে ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর টাউন হল, ফার্মগেট, আসাদগেট, সিটি কলেজ, ফার্মগেট, বাংলামোটর, প্রেসক্লাব, দৈনিক বাংলা, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মুগদা, খিলগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা, গুলশান, মৌচাক, মালিবাগ, কাকরাইল ও ফুলবাড়িয়াসহ ঢাকা মহানগরীর প্রায় সব রুটেই বিআরটিএর দেয়া দূরত্বের সঙ্গে প্রকৃত দূরত্বের বড় ধরনের গরমিল রয়েছে বলে জানা গেছে। জাপানি দাতাসংস্থা জাইকার এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, একজন যাত্রীর প্রতিবার বাস ব্যবহারকে এক ট্রিপ ধরে রাজধানী ঢাকায় দৈনিক প্রায় ৭৫ লাখ যাত্রী বাসে চলাচল করেন। যাত্রীর এই সংখ্যা ধরে ঢাকা মহানগরে প্রত্যেক যাত্রীকে প্রতিবার নূ্যনতম তিন কিলোমিটারের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হলে (৩ ঈ প্রতি কিলোমিটার বাস ভাড়া ১ টাকা ৬০ পয়সা) ৪ টাকা ৮০ পয়সা করে দৈনিক ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন গণপরিবহনের মালিকরা। এ হিসাবে দূরত্ব নির্ধারণে জালিয়াতি করে বছরে ১ হাজার ৩শ' ১৪ কোটি টাকা যাত্রীদের পকেট কাটা হচ্ছে। বিআরটিএ বলেছে, ঢাকার বাইরে আন্তঃজেলা (দূরপাল্লার) রুটে দূরত্ব পরিমাপ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। অন্যদিকে ঢাকা শহর ও শহরতলিতে (ঢাকার আশপাশে) ঢাকা পরিবহন আঞ্চলিক কমিটি (আরটিসি) দূরত্ব পরিমাপ করে থাকে। আটিসির প্রধান বর্তমান ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ জানাান, দূরত্ব কীভাবে পরিমাপ করা হয়ে সেটা তার জানা নেই। তবে ঢাকা মিরপুর বিআরটিএ অফিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে দূরত্ব পরিমাপের জন্য তিন সদস্যের কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিতে বাসমালিক, পুলিশ ও বিআরটিএর প্রতিনিধিরা থাকেন। তারা সবাই কারসাজি করে প্রকৃত দূরত্বের চেয়ে বেশি দূরত্ব বেঁধে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, পরিবহন মালিকরা নিজেরা বিভিন্ন রুটের দূরত্বের যে মনগড়া চার্ট পেশ করেন কমিটি তা চোখ বুজে অনুমোদন করে। এক্ষেত্রে পরিমাপের সত্যতা যাচাই করা হয় না। দূরত্ব নির্ধারণে কারসাজির দায় এড়িয়ে বিআরটিএ'র শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, দূরত্ব নির্ণয়ের এখতিয়ার ঢাকা আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির অধীনে সাব-কমিটির। এখানে বিআরটিএর কিছুই করার নেই। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যথাযথভাবে দূরত্ব পরিমাপের জন্য অ্যাডোমিটার বা হারদা মিটার রয়েছে। আন্তঃজেলা রুটে দূরত্ব পরিমাপের জন্য ওই মিটার ব্যবহার করা হয়। তবে জিপ, মাইক্রোবাস কিংবা কারের মিটার দিয়েও দূরত্ব পরিমাপ করা যায়। সেক্ষেত্রে মিটারটি অবশ্যই ক্রটিমুক্ত হতে হবে। বর্তমানে ঢাকা শহরে বাস চলাচল উপযোগী রাস্তার দৈর্র্ঘ্য ২০০ কিলোমিটার, যা অ্যাডোমিটার বা হালদা মিটার দিয়ে মাপার সুযোগ না থাকলে জিপ, মাইক্রোবাস, এমনকি মোটরসাইকেল চালিয়েও নির্ধারণ করা যায়।
 

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে