Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১২ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (75 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-১৪-২০১৪

নতুন নতুন ইতিহাস

আসিফ নজরুল


নিজেদের কুকর্মকে ঢাকার জন্য ইতিহাস বিকৃতিতে অগ্রভাগে রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭১ সালে দলটি মুক্তিযুদ্ধের শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতাই করেনি, মুক্তিযোদ্ধাদের দমন ও নিধনে গঠন করে বিভিন্ন হত্যাকারী বাহিনী, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দলটির তৎকালীন নেতা গোলাম আযম সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে গণহত্যার প্রধান অপরাধী কুখ্যাত পাকিস্তানি জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গেও। ১৯৭১ সালের এই ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা দূরের কথা, জামায়াতের মিথ্যে ইতিহাসচর্চায় মনে হবে শুধু কিছু মৌখিক বিবৃতি ছাড়া ১৯৭১ সালে তারা মুক্তিযুদ্ধে আর কোনো বিরোধিতাই করেনি!

নতুন নতুন ইতিহাস

বাংলাদেশে ইতিহাসচর্চার বন্যা বয়ে যায় বিভিন্ন সময়ে। এ জন্য নির্দিষ্ট কিছু সময় আগে থেকেই ছিল। যেমন ২৬ মার্চ, ১৫ আগস্ট, ৭ নভেম্বর। 
এখন আর এসব তারিখের জন্য অপেক্ষা করা হয় না। মোটামুটি সারা বছর ধরে চলে এখন ইতিহাসচর্চা। তবে মুশকিল হচ্ছে, এই চর্চা ইতিহাসবিদেরা করেন না, করেন রাজনীতিবিদেরা। ইতিহাসবিদ তেমন নেই এ দেশে, যাঁরা আছেন, তাঁদের অনেকে ইতিহাস লেখেন রাজনীতির ছাতায়, রাজনীতিবিদদের ধামাধরা হিসেবে।
ইতিহাসচর্চার কলরব এখন বেড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের কারণেও। কোনো এক একচোখা নেতা কিছু একটা বললেই শুরু হয় শেয়ার, লাইক আর কমেন্টসের বন্যা। কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফুটনোট, রেফারেন্সের প্রয়োজন নেই, দলকানা একশ্রেণির মানুষ অসম্পাদিত মন্তব্য প্রকাশের সুযোগ পেয়ে রাতারাতি বনে যাচ্ছেন ইতিহাসের নতুন ফেরিওয়ালা। 
এই ফেরিওয়ালাদের পণ্যের জোগানদার অবশ্য রাজনৈতিক দলগুলোই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বড় দুটি দল। এদের ইতিহাসচর্চা হচ্ছে মূলত স্বাধীনতাসংগ্রাম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বের মালিকানাকেন্দ্রিক। অন্যদিকে জামায়াত, জাতীয় পার্টি বা জাসদের ইতিহাসচর্চা হচ্ছে মূলত আত্মরক্ষামূলক। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এদের সবার ইতিহাসচর্চা মিথ্যার বেসাতিতে সাজানো বলে, অনেক ক্ষেত্রে নাগরিক সমাজ রাজনীতিবিদদের অনুগত বলে এই প্রবণতায় গোটা জাতির মেধা ও মননশক্তির একটি বড় অংশ অপচয় ঘটছে; দেশে বিভেদ, অশ্রদ্ধা আর ঘৃণার সংস্কৃতি জোরদার হচ্ছে; জনগুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলো ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে এবং অগ্রসর চিন্তার চর্চা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

 

২.
ইতিহাসচর্চার রাজনীতিতে সবচেয়ে আগ্রহী দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রধান বিবরণী হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের মালিকানাকেন্দ্রিক। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতাসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধকালে সরকারের নেতৃত্বদানকারী দল। কিন্তু তার ইতিহাসচর্চায় শুধু এসবের নেতৃত্ব নয়, বরং এসবের একচ্ছত্র মালিকানা দাবি করার প্রবণতা লক্ষণীয়। এই মালিকানাও আবার ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকেন্দ্রিক। মুক্তিযুদ্ধে দেশের বাঙালি সেনা, সাধারণ জনগণ, বাম ও প্রগতিশীল দলগুলোর বিরাট অংশগ্রহণের স্বীকৃতি দূরের কথা, এই যুদ্ধে আওয়ামী লীগেরই চার নেতা, বিশেষ করে তাজউদ্দীন আহমদের অবদান স্বীকার করতে তাই দলের মূল নেতৃত্বের ঐতিহাসিক অনীহা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক কখনো মুজিবনগর পরিদর্শনে না যাওয়া, তাজউদ্দীনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থাপনা নামকরণে ওই নেতাদের উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের একচেটিয়া প্রাধান্য দেওয়া তার কয়েকটি মাত্র প্রতিফলন।
আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের ন্যারেটিভ বিন্দুমাত্র চ্যালেঞ্জ করা হলে এ কে খন্দকার বা তাজউদ্দীন-কন্যাই খারিজ হয়ে যান স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি থেকে। অন্যরা সরাসরি খেতাব পান রাজাকার বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে। শুধু একাত্তর না, আওয়ামী লীগের ইতিহাসচর্চায় ১৯৭৪-৭৫ সালের ন্যারেটিভও একচোখা। আওয়ামী লীগ এবং এর স্তাবকদের বর্ণনায় তাই বঙ্গবন্ধু আমলের হত্যাকাণ্ড, বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন, দুর্নীতি ও চতুর্থ সংশোধনী কায়েম করে গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের কোনো উল্লেখ নেই। উল্লেখ নেই ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগেরই একটি অংশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদানের প্রসঙ্গের। বরং এসব কথা যারা বলে, অপ্রাসঙ্গিকভাবে হলেও তাদের আখ্যায়িত করা হয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে।

৩.
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খুব বেশি মিথ্যাচারের সুযোগ নেই বিএনপির। তবে যেটুকু আছে, তা ব্যবহারে বিন্দুমাত্র পিছিয়ে নেই তারা। মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদানকে হাস্যকরভাবে বড় করার লক্ষ্যে বিএনপির মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তাই শুরু হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে, ১৯৪৮ সালের রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে নয়। মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত বিএনপির বর্ণনা শুনলে মনে হবে, এ দেশে স্বাধীনতাসংগ্রামের সূচনা এবং সাফল্যের রূপকার একজন জিয়াউর রহমানই! 
জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার যতই ঐতিহাসিক তাৎপর্য থাকুক না কেন, বিএনপি এই সত্য সামনে আনতে চায় না যে তিনি নিজে তাৎক্ষণিকভাবে শুদ্ধ করে তা বঙ্গবন্ধুর নামে দিয়েছিলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে তিনি যে সরকারের অধীনে একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, তার প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধুই, মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি বীর উত্তম খেতাব নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুরই হাত থেকে। বিএনপির এই বিকৃত ইতিহাসচর্চায় একটি কলুষিত অধ্যায় যুক্ত হয়েছে তারেক রহমান কর্তৃক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিভিন্ন অশালীন ও অবমাননাকর বক্তব্যের মাধ্যমে। বিশেষ করে দেশদ্রোহী আখ্যায়িত করে তিনি যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তা অকল্পনীয়, ক্ষমার অযোগ্য ও গর্হিত।
ইতিহাসচর্চায় বিএনপির আরেকটি বড় বিকৃতি হচ্ছে ৭ নভেম্বরের সিপাহি জনতার বিপ্লব নিয়ে। এই বিপ্লবের অন্যতম কৃতিত্ব কর্নেল তাহের ও জাসদের। বিপ্লবের পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জিয়াউর রহমান কর্নেল তাহেরকে পরাজিত করে প্রহসনমূলক বিচারের মাধ্যমে তাঁকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেন। বিএনপির ৭ নভেম্বর ন্যারেটিভে এই গ্লানিময় অধ্যায়ের কোনো বর্ণনা নেই; বরং তাদের বর্ণনা শুনলে মনে হবে, ৭ নভেম্বরের আগে-পরে জিয়াউর রহমান একাই দেশ ও গণতন্ত্রের ত্রাণকর্তা হিসেবে হাজির হয়েছিলেন!

৪.
১৯৭৫ সালের ঘটনাবহুল আগস্ট-নভেম্বর নিয়ে সবচেয়ে বড় বিকৃতি লক্ষণীয় জাসদের নেতাদের বিবরণীতে। জাসদকে বর্তমানে অভিযুক্ত করা হচ্ছে সারা দেশে বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংঘাতের মাধ্যমে তাঁর হত্যাকাণ্ডের পটভূমি রচনার দায়ে, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রকাশ্য সমর্থক এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ছত্রচ্ছায়া প্রদানকারী হিসেবে। এসব ঐতিহাসিক তথ্য আড়াল করে বর্তমান সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতার ভাগাভাগি পেয়ে জাসদের নেতারা ১৯৭৫ সালের সব রাজনৈতিক দুষ্কর্মের জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে চলেছেন। ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জাসদ কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে প্রচারপত্র বিলি, জাসদের আইকন হিসেবে পরিচিত কর্নেল তাহের কর্তৃক অন্তত ৭ নভেম্বরের আগ পর্যন্ত জিয়াকে সমর্থন প্রদান, নভেম্বরের অস্থির সময়ে বহু মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার নামে হত্যার যে অতীত জাসদের রয়েছে, দলটির নেতাদের বর্তমান ইতিহাসচর্চায় তা সম্পূর্ণভাবে বিস্মৃত।
নিজেদের কুকর্মকে ঢাকার জন্য ইতিহাস বিকৃতিতে অগ্রভাগে রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী। ১৯৭১ সালে দলটি মুক্তিযুদ্ধের শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতাই করেনি, মুক্তিযোদ্ধাদের দমন ও নিধনে গঠন করে বিভিন্ন হত্যাকারী বাহিনী, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দলটির তৎকালীন নেতা গোলাম আযম সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে গণহত্যার প্রধান অপরাধী কুখ্যাত পাকিস্তানি জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গেও। ১৯৭১ সালের এই ভূমিকার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা দূরের কথা, জামায়াতের মিথ্যে ইতিহাসচর্চায় মনে হবে শুধু কিছু মৌখিক বিবৃতি ছাড়া ১৯৭১ সালে তারা মুক্তিযুদ্ধে আর কোনো বিরোধিতাই করেনি!

৫.
আগেই বলেছি, অন্য দলগুলোর ইতিহাস বিকৃতি আত্মরক্ষামূলক হলেও বড় দুটি দলের ইতিহাসচর্চা হচ্ছে ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে। এ দুই দল যা করে, আমার জানামতে পৃথিবীর আর কোথাও রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ইতিহাসকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয় না, পৃথিবীর আর কোথাও প্রয়াত নেতাদের অবদান ও কৃতিত্বকেন্দ্রিক বিতর্ক রাজনীতিতে এতটা প্রাধান্য পায় না। আফগানিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার সব কটি দেশে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে। তাদের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচার খুব মনোযোগ দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর (বিএনপি আমলে জিয়াউর রহমান) ভাষণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমকে যে রকম প্রায় সার্বক্ষণিকভাবে প্রচার করা হয়, তা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে কোনো প্রয়াত নেতাকে নিয়ে করা হয় না।
প্রশ্ন আসতে পারে, কেন, বিশেষ করে আমাদের বড় দুটি দলের এই অবিরাম অতীতমুখিনতা, প্রায়ই বিকৃত বা একপেশে ইতিহাসচর্চা? এর সরল উত্তর হচ্ছে, এদের কোনো সুশক্ত বর্তমান নেই, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন কোনো কৃতিত্ব তারা দেখাতে পারেনি, যা তাদের জনপ্রিয়তা ও নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতাকে নিশ্চিত করতে পারে। ফলে ক্ষমতায় থাকার বৈধতা হিসেবে বা জনপ্রিয়তা ধরে রাখার স্বার্থে এরা প্রয়াত নেতার কৃতিত্ব বা ঐতিহাসিক অর্জনের মালিকানানির্ভর এক আবেগময় রাজনীতি করে থাকে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের অতীতনির্ভর রাজনৈতিক পুঁজিকে নিঃশেষ করার প্রচেষ্টায় অবিরামভাবে লিপ্ত থাকে। 
অতীতমুখিনতার আরেকটি কারণ হতে পারে রাজনৈতিক নেতাদের সুশাসন প্রদানের অসামর্থ্য ও অনীহা। এ দেশে তাই ভবিষ্যৎ দূরের কথা বর্তমান নিয়েও তেমন কোনো গঠনমূলক বিতর্ক নেই, আছে শুধু হানাহানিময় কুতর্ক। বাংলাদেশে আমরা কখনো দেখি না শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি, জ্বালানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রাধিকার, প্রযুক্তি কিংবা বিদেশনীতি নিয়ে যুক্তি, তথ্য ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচিভিত্তিক রাজনৈতিক বিতর্ক। বিএনপি ভারতনীতি নিয়ে সরকারকে সমালোচনা করে ধুয়ে দেবে, কিন্তু কখনো বলবে না সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অভিন্ন নদীর পানি ব্যবহার বা ট্রানজিট প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে তার বাস্তবসম্মত সম্পর্ক কী হবে। আওয়ামী লীগ র্যাব গঠনের জন্য বিএনপির হাজারো সমালোচনা করেছিল, কিন্তু এর বিকল্প হিসেবে কীভাবে পুলিশের কার্যকারিতা বাড়াবে, তা ব্যাখ্যা করেনি। ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বরং র্যাবকেই ব্যবহার করছে, ক্ষমতায় গেলে বিএনপিও ভারতকে একতরফা সুবিধাই দেবে। এদের শ্রেণিচরিত্র ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তেমন কোনো পার্থক্যও নেই। শ্রেয়তার লড়াই এরা লড়তে চায় অতীত ভূমিকা বা প্রয়াত নেতাকে টেনে এনে। ক্ষমতায় থাকলে গণমাধ্যম, লুটপাটের পুঁজি আর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর এদের থাকে একচ্ছত্র মালিকানা। সেগুলো ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছামতো অতীতকে সাজানো জনগণের বর্তমান ভাগ্য উন্নয়নের চেয়ে অনেক সহজ কাজ। আর ঠিক এটিই করে চলেছে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো।
প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আমাদের বর্তমান আর ভবিষ্যৎকে আর কত দিন জিম্মি রাখব অতীতমুখিন কৃতিত্বের বিতর্কে। কবে আমরা ইতিহাস অধ্যয়নের দায়িত্ব ছেড়ে দেব দেশের গবেষক আর লেখকদের হাতে? কবে নিঃশঙ্ক চিত্তে ইতিহাসের বিশ্লেষণ হবে, কবে তেমন ইতিহাস গ্রহণের মতো মন-মানসিকতা তৈরি হবে আমাদের?
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে