Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৫ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.7/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৩-০৬-২০১২

ঢাকায় সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত

ঢাকায় সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত

ঢাকা, ৭ মার্চ-রাজধানীর গুলশানে সৌদি আরব দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী (৪৫) সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। সোমবার গভীর রাতে গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে তাঁকে নিজ বাসার কাছে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা গুলি করে। ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান।
পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার চৌধুরী লুৎফুল কবীর জানান, প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে বলেছেন, একটি গাড়িতে আসা দুই যুবক সৌদি নাগরিক খালাফকে একটি গুলি করে পালিয়ে গেছে। ধরন দেখে মনে হচ্ছে, খুনিরা খুবই দক্ষ। এরা ছিনতাইকারী, না পেশাদার খুনি—সে ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
গুলশান থানার পুলিশ জানায়, নিহত খালাফ গুলশান ২ নম্বরের ১২০ নম্বর সড়কে একটি বাড়ির চারতলায় ভাড়া ফ্ল্যাটে একা থাকতেন। ওই বাড়ির ৩৮ গজ দূরে ১১৭ ও ১২০ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল থেকে তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
সৌদি দূতাবাসের লোকজন সকালে হাসপাতালে গিয়ে খালাফের লাশ শনাক্ত করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, দূতাবাসের প্রশাসনিক সহকারী খালাফ হত্যার দ্রুত সুষ্ঠু বিচার চেয়ে সৌদি দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করে। মন্ত্রণালয় থেকে সৌদি দূতাবাসে শোকবার্তা পাঠানো হয়। সকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত মো. জিয়াউদ্দীন ও ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব মো. মুস্তফা কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি নারায়ণগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে বলেন, সৌদি নাগরিক হত্যার ঘটনা অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা যা বলেছেন: গুলশান থানার পুলিশ জানায়, কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশকে জানিয়েছেন, খালাফ রাত একটার দিকে হেঁটে ১১৭ নম্বর সড়কের দিকে যাচ্ছিলেন। কিছু দূরে একটি প্রাইভেট কার এসে তাঁর পথরোধ করে। গাড়ি থেকে দুই যুবক নেমে তাঁর সঙ্গে কথা বলার পর তাঁকে গুলি করে গাড়িতে করে চলে যায়। তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিলেন।
উদ্ধার করে হাসপাতালে: গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূরে আযম বলেন, রাত একটার দিকে ১৯/বি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী জুলফিকার থানায় ফোন করে জানান, এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফের নেতৃত্বে একটি দল গিয়ে আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভোর পাঁচটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তখনো তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। সকাল ১০টার দিকে পুলিশের গুলশান বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতাবস্থায় তোলা খালাফের ছবি বিভিন্নজনকে দেখান। তখন কয়েকজন তাঁকে সৌদি নাগরিক খালাফ বলে শনাক্ত করেন।
এসআই মোশাররফ বলেন, ‘আমরা গিয়ে দেখি, তিনি নিস্তেজ পড়ে রয়েছেন। তাঁর কাছে সেলফোন, মানিব্যাগ বা অন্য কিছু ছিল না।’
১৯/বি বাড়িটি পর্তুগালের কনস্যুলার জেনারেলের। জুলফিকার জানান, রাত একটার পর তিনি গুলির শব্দ পান। অন্য নিরাপত্তাকর্মীরাও তাঁকে গুলির শব্দের কথা জানান। তিনি গুলশান থানা ও পরে র‌্যাব-১-এ ফোন করেন।
তবে খালাফ যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী তাপস রেমা গুলির শব্দ শোনেননি বলে জানান। তিনি জানান, তিনি ওই সময়ে একটি সাদা গাড়িকে দ্রুতবেগে ১২০ নম্বর সড়ক ধরে ১১৬ নম্বর সড়কের দিকে যেতে দেখেছেন।
প্রতিদিনই হাঁটতে বের হতেন: তাপস রেমা জানান, প্রতিদিন রাত ১১টা সাড়ে ১১টার দিকে খালাফ সাইকেল নিয়ে ব্যায়াম করতে বেরোতেন, দুই-তিন ঘণ্টার মধ্যে ফিরতেন। সোমবার রাত ১১টার দিকেও নিচে নামেন তিনি। সাইকেলের চেইন নষ্ট থাকায় তিনি একটি পানির বোতল হাতে হাফহাতা গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরে বাসা থেকে বের হন।
বাড়িটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, খালাফের গাড়িচালক আমির গতকাল সকালে আসেন। কিন্তু খালাফ না নামায় আমির সেলফোনে ফোন করলেও কেউ ধরেননি। আমির তাঁকে বিষয়টি জানালে তিনি ওপরে গিয়ে দেখেন, ওই ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী কাজ করছে। ঘরে খালাফের সেলফোন বাজছে। বাসায় আসা পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকে তিনি খবর পান।
খালাফের পরিচয় জানার পর পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। বেলা দুইটার দিকে আলামত সংগ্রহে যান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ চিহ্ন শনাক্তকরণ ইউনিটের সদস্যরা। সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থল থেকে তাঁরা পায়ের ছাপ ছাড়া আর কিছু পাননি।
ইউনাইটেড হাসপাতালের ব্রিফিং: বিকেল চারটার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে সংবাদ ব্রিফিং করে। এতে হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল বিভাগের পরিচালক আবু সাইদ এম এম রহমান বলেন, সোমবার রাত একটার দিকে গুলশান থানার পুলিশ খালাফের দেহ নিয়ে আসে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, হার্ট বিট হচ্ছে। কিন্তু ক্লিনিক্যালি কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। রক্তচাপ রেকর্ড করা যাচ্ছে না। সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়। তাঁর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। পরে তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভোর পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ: বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে খালাফের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান ও প্রভাষক মেজবাউল ইসলাম। কামরুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, নিহতের বুকের বাঁ দিকের নিচে গুলি লেগে ভেতরে ঢুকে ছিল। শরীরের আর কোথাও আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়েছে।
মামলা: খালাফ হত্যার ঘটনায় সৌদি দূতাবাস থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে।
খালেদা জিয়ার শোক: খালাফ আল আলী নিহত হওয়ার ঘটনায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিদেশি একজন কূটনীতিক নিহত হওয়ার ঘটনা এ দেশে প্রথম। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে কত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, এ ঘটনায় সেটি আবারও নতুন করে প্রমাণ হলো।

 


জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে