Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ , ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (71 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-২১-২০১৫

কুলদীপ নায়ারের কলামে হাসিনা-বিদ্বেষ

আনিস আলমগীর


বেগম জিয়া সন্ত্রাসীদের কাছে জননীতুল্য। তাদেরকে আশকারা দিলে বাংলাদেশ আবার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের লীলাভূমির রূপ নেবে। পূর্ব ভারতের সন্ত্রাসীরা প্রচণ্ডভাবে বলবান হবে। সুতরাং কুলদীপ নায়ারের কাছে আবেদন সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকদের আশকারা দিয়ে লেখা কোনওভাবেই উচিত হবে না আপনার। সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠা পেলে বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের শান্তি বিনষ্ট হবে, তা কারও কাম্য নয়।

কুলদীপ নায়ারের কলামে হাসিনা-বিদ্বেষ

অদ্ভুত এক প্রবণতার প্রচলন আছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কিংবা ড. ইউনূসের মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিরা এদেশের কোনও মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেন না। তাদের সাক্ষাৎকার পাই আমরা বিদেশি পত্রিকায়,টিভিতে। অন্যদিকে বিদেশি মিডিয়া যেই দামেরই হোক না কেন, বাংলাদেশ নিয়ে কিছু ছাপানো হলেই দেশি মিডিয়া অস্থির হয়ে পড়ে তার রিপ্রিন্ট করার জন্য, রিপ্রোডাকশনের জন্য। সেটি সত্য হোক আর মিথ্যা হোক। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার দেশি মিডিয়াকে এড়িয়ে যাওয়াটা এক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত বলতে পারেন কেউ-কেউ। কারণ দেশের একটি নির্দিষ্ট মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিয়ে কাউকে বিশেষ সুবিধা দিলেন না বা অন্যেদের বিরাগভাজন হলেন না কিন্তু বিদেশি মিডিয়া ঘুরে আসায় সেটা সবাই একযোগে ছাপাতে পারলো।

বাংলাদেশ নিয়ে লেখা খবরতো রিপ্রোডিউস হচ্ছেই, মতলবে মিল হলে কারও কলামও অতি উৎসাহে ছাপে এখানকার পত্রিকাগুলো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ৬-৭ জুন বাংলাদেশ সফরের পর কলকতার দুটি বাংলা দৈনিকের দুটি রিপোর্টকে এখানকার প্রায় পত্রিকা পুনঃপ্রকাশ করেছে। এমনকি লিড নিউজ করেছে কেউ কেউ। কতটা দৈন্যতার প্রকাশ ঢাকার মিডিয়ার। স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি তার একটা আনন্দবাজার পত্রিকার ‘নিজে যেচে মোদির সঙ্গে দেখা করে কাঠগড়ায় খালেদা’ আর অন্যটি বাংলা দৈনিক স্টেটসম্যানের ‘গণতন্ত্র নেই বলে নালিশ জানাতে এসে, খাগড়াগড় নিয়ে মোদির প্রশ্নে বিব্রত খালেদা জিয়া’ শীর্ষক সংবাদ।

মোদির ঢাকা সফর পরবর্তী বাংলাদেশের পত্রিকায় আরেকটি আলোচিত রিপ্রোডাকশন হচ্ছে হিন্দু মৌলবাদী সমর্থক কলকাতার ইংরেজি দৈনিক স্টেটসম্যান-এ কুলদীপ নায়ারের একটি কলাম। আগের দুটি রিপোর্ট যেমন আওয়ামীপন্থী মিডিয়া উৎসাহ নিয়ে ছেপেছে তেমনি এই কলামটি জামাত-বিএনপিপন্থী পত্রিকা ও অনলাইন গুরুত্ব দিয়ে ছেপেছে।

কুলদীপ নায়ার ভারতের একজন প্রবীণতম সাংবাদিক। পাকিস্তানে জন্ম তার। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের সময়  ভারতে এসেছিলেন। ভারতের বড় দৈনিকগুলোকে চাকরি করেছেন। কংগ্রেস-বিরোধী লোক হিসেবে পরিচিত এবং দক্ষিণপন্থীদের কাছে সমাদৃত। বিজেপি-মোদি তার পছন্দের তালিকায় আছেন। সাম্প্রতিককালে কংগ্রেস-ঘেঁষা এম জে আকবর বিজেপি-মোদির কাছে চলে আসায় সম্ভবত এই শিবিরে আর আগের মতো কলকে পাচ্ছেন না। জনতা দলের সরকার আমলে একবার লণ্ডনে ভারতের হাই কমিশনারও ছিলেন। ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্যও হয়েছিলেন জনতা দলের সরকার আমলে। এখন তিনি অবসরে আছেন। দিল্লিতে থাকেন। সিন্ডিকেটেড কলাম লিখেন, যদিও ঢাকায় যারা তার উল্লেখিত কলামটি ছেপেছে তারা কেউ ওই তালিকায় নেই।

যখন সক্রিয় সাংবাদিকতায় জড়িত ছিলেন কুলদীপ নায়ারের জন্য তখন বহু দেশের রাষ্ট্রনায়কদের দরজা অবারিত ছিল। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান, ইরানের রেজা শাহা পাহলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল মধুর। পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ক বরাবরই মধুর এবং পাক-ভারত পিপলস ফোরামের একজন সক্রিয় সদস্য তিনি। তারা নতুন দিল্লির সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ক জোরদার যতটা দরকার মনে করেন, ততটা ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক উন্নয়নের দরকার মনে করেন না। পাক-ভারত সম্পর্কে তারা সমতা চান কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন দিল্লির কর্তৃত্ব চান। গত ১১ জুন ২০১৫ কলকাতার স্টেটসম্যান পত্রিকায় ‘এ শট ইন দ্যা আর্ম অব হাসিনা’ শিরোনামে তার যে কলাম ছাপা হয়েছে তাতেও তার সে খায়েশ ব্যক্ত করেছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, “হাসিনা স্বৈরশাসকের প্রতিচ্ছবির প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ অবস্থার মধ্যে মোদির সফরটি ছিল সম্পূর্ণ দুর্ভাগ্যজনক। তার উচিত ছিল বাংলাদেশের কোথাও বলা যে, এ দেশটি বিপ্লব থেকে সৃষ্ট। তাই দেশটির উচিত সে ধরনের ভাবনার দীপ্তি ছড়ানো অব্যাহত রাখা। কিন্তু তিনি বরং হাসিনাকে আশ্বস্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ হতাশ। কেননা, মানুষ তার কাছে এমন কিছু লক্ষণ প্রত্যাশা করছিল, যাতে মনে হয়, হাসিনা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন, তাতে ভারত খুশি নয়।”

শেখ হাসিনা কিভাবে দেশ চালাবেন সেটা যেন দিল্লির মর্জির ওপর নির্ভর করছে, সেটা যেন কুলদীপ নায়ারের ইচ্ছায় হবে, বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা এখানে কিছুই না। মোদি কেন ঢাকা সফর করলেন এটা তার আক্ষেপ। মোদি কেন ক্ষমতায় এসে কুলদীপ নায়ারকে ছুড়ে ফেললেন, অপাংতেয় করে দিলেন- নায়ার সেটা লিখলে বরং কলামটি আরও ইন্টারেস্টিং হতো। সারা বছর ইন্দিরা- কংগ্রেস এর বিরোধিতা করে, দক্ষিনপন্থীদের এই সুবর্ণ সময়ে মোদির কাছে তিনি কেন গুরুত্বহীন হয়ে পড়লেন লিখতে পারতেন। ‘ভারত বাংলাদেশের উপর অসন্তুষ্ট’ মোদির কাছে ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের মানুষ এমন কিছু লক্ষণ প্রত্যাশা করেছে- এটা কে বলেছে কুলদীপ নায়ারকে! উনি কি দেখেননি, বাংলাদেশে উনারমতো পাকিস্তানপন্থীরাও মোদির অনুকম্পাপ্রার্থী হয়ে সোরগোল করছে- আমরা ভারত বিরোধী নই, আমরা ভারত বিরোধী ছিলাম না।

সবচেয়ে বড় কথা এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের অকারণ অসন্তুষ্টির তোয়াক্কা করবে কেন? বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সমান সম্পর্ক চায়, তার অসন্তোষের তোয়াক্কা করে না। ভৌগলিক কারণে ভারতের সাতটি রাজ্যের উন্নয়ন, শান্তি নির্ভর করছে বাংলাদেশের ওপর। সে কারণে ভারতেরই উচিত বাংলাদেশকে তার আস্থায় নেওয়া। শেখ হাসিনাকে আস্থায় নেওয়া, খালেদা জিয়াকে আস্থায় নেওয়া, সমগ্র বাংলাদেশকে আস্থায় নেওয়া। কংগ্রেস সেটা বুঝেছিল, এগিয়ে এসেছিল। কুলদীপ নায়াররা সেটা বুঝেননি কিন্তু তার শিবিরের লোক মোদি বুঝেছেন।

নায়ার তার লেখাটা শুরুই করেছেন একচোখা দৃষ্টি নিয়ে। তিনি লিখেছেন, “ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরটি হয়েছে অসময়ে। দেখে মনে হয়েছিল তিনি যেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পড়তি ইমেজ ঠেকাতে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। তিনি সেখানে কেবল ভারতবিরোধী অনুভূতিকেই আরও তীব্রতর করে তুলেছেন। কেননা, নয়া দিল্লিকে নিরপেক্ষ হিসেবে মনে হয়নি।”

এর পরের প্যারাটিতে তিনি বলেছেন, “আমি জানি না কেন এবং কতদিন ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে আমাদের। এটা সত্য যে, তিনি শেখ মুজিব-উর রেহমানের কন্যা (daughter of Sheikh Mujib-ur Rehman)। শেখ মুজিব পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করেছেন।”

পাঠক লক্ষ্য করুন- যিনি মুজিবের কন্যাকে পিতা টেনে ছবক দিতে চেয়েছেন তিনি বঙ্গবন্ধুর নামটি কিভাবে লিখেছেন- ‘শেখ মুজিব-উর রেহমান’। কতটা উদাসিন এরা বাংলাদেশ আর তার প্রতিষ্ঠাতা সম্পর্কে! এই সফর দু’দেশের কাছে বহুল প্রতীক্ষিত ছিল এবং কোনও সন্দেহ নেই দু’দেশের সম্পর্কেরই মাঝে সম্প্রীতির একটি আন্তরিক আবহ তৈরিতে সহায়তা করেছে। এখানে সরকারি ও বিরোধী বড় দলগুলো একযোগে একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। কিন্তু নায়ার সাহেব খুঁজে পেয়েছেন- বাংলাদেশে ভারতবিরোধী অনুভূতি আরও তীব্রতর হয়েছে।

নায়ার এই কলামেও তার পাকিস্তান প্রীতি আড়াল করতে পারেননি। মোদিকে ছবক দিয়েছেন, “মোদি পাকিস্তানের সমালোচনা থেকে দূরে থাকবেন, এটাই আমি প্রত্যাশা করি। এর মানে এই নয় যে, সমালোচনাটা অযৌক্তিক। কিন্তু তিনি যখন বিদেশের মাটিতে দক্ষিণ এশিয়ায় সৌহার্দ্যের কথা বলছেন, তখন ইসলামাবাদকে সমালোচনা করা এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল।” বাস্তবে মোদি এখানে পাকিস্তানের নামটিও নেননি। এক বক্তৃতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের কৃতিত্ব অতিমাত্রায় দেখানোয় বরং বাংলাদেশ আপত্তি করতে পারতো। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান আপত্তি করেছে বলে সে সুরে কথা বলছেন নায়ার।

বাংলাদেশ-ভারত অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানেও নায়ারের মাথা ব্যাথা দেখলাম না। বরং ছেলে ভুলানো ভাষায় তিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “এ থেকে ঢাকার ইঙ্গিত পাওয়া উচিত যে, তিস্তা সমস্যার সমাধানের বিষয়টি নয়া দিল্লি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। মোদির সফরে যেহেতু চুক্তিটি হয়নি, এর মানে এটি ধরে নেওয়া উচিত নয় যে, ভারত তার আগের অবস্থান পরিবর্তন করবে না।”

কুলদীপ নায়ার বলেছেন, “আমি জানি না কেন এবং কতদিন ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে আমাদের।” শেখ হাসিনাকে কতদিন সমর্থন দেওয়া দরকার তার জবাব আরেক প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং বিজেপির উপদেষ্টা এম জে আকবর দিয়েছেন। এক্ষেত্রে আমাদের বলার দরকার নেই। নরেদ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রাক্কালে ৫ জুন আকবর লিখেছেন, “শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন। এটা ভারতীয়দের মনে ছাপ ফেলেছে। শেখ হাসিনা বিশ্বাসভিত্তিক রাজনীতিকে ধারণ করতে পেরেছেন। সন্ত্রাসী চরমপন্থীদের উপর খড়কহস্ত হয়েছেন। এইভাবেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতির গতি প্রকৃতি বদলে দিয়েছেন।”

কুলদীপ নায়ার কেন দেখছেন না, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিশ্বের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। আমেরিকা থেকে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে- বাংলাদেশ কিভাবে সন্ত্রাস নির্মূলে সফলতা পেয়েছে তার কলাকৌশল জানার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসন সম্পর্কে বড় রাষ্ট্রগুলোর মৃদু মন্দ কথাবার্তা যে নেই তা নয় কিন্তু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার কঠোর ও আন্তরিক ভূমিকার কারণে সবাই তা সহ্য করছেন। অনেকে আবার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার কঠোরতাকে ‘কর্তৃত্ববাদী শাসন’ বলে ভুল করছেন। সন্ত্রাসবাদীরা গণতন্ত্রের কোনও আত্মীয় স্বজন নয়, তাদের সঙ্গে গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলা যায় না।

শেখ হাসিনা কঠোর না হলে বাংলাদেশকে আজ পাকিস্তানের ভাগ্য বরণ করতে হতো। পাকিস্তানতো বিশ্বের অন্যতম অকার্যকর রাষ্ট্র এখন। তারা ধর্মের নামে নিজেরা নিজেদের ভাইকে, সন্তানকে হত্যা করে। নারীদের গৃহবন্দী করতে চায়। আর প্রতিবেশী ভারতকে সব কাজে খুঁজে পায়। এমনকি বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট খেলায় ভারতের হারকেও তারা বাংলাদেশের জয় দেখে না, দেখে পাকিস্তানকে চ্যাম্পিয়নস লীগ ট্রফিতে খেলতে না দেওয়ার ভারতীয় চক্রান্ত হিসেবে!

কুলদীপ নায়ার তার লেখায় বিএনপি মুমূর্ষ অবস্থার জন্য বেদনাবোধ করেছেন এবং তার নির্বাচন বর্জনকে অচিন্তনীয় বলেছেন। তিনি মনে করেন বিএনপির কিছু লোক অংশগ্রহণ করে জিতে আসলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সঠিক ফোরামে কথাবার্তা বলতে পারতো। কুলদীপ নায়ারের এই কথা গণতন্ত্রের নিয়ম নৈতিকতার কথা। কিন্তু তার কাছে এই বার্তা নেই যে বিএনপি নিজেই গণতন্ত্রের পথে নেই। বিএনপির রাজনীতি এখন পেট্রল বোমা আর গ্রেনেডে বন্দী হয়ে আছে, বন্দী হয়ে আছে বেগম এবং তার পুত্রের মর্জির মধ্যে।

বেগম জিয়া যখন ২০০১ সালে দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রী হন তখনই তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে বাংলাদেশের মাটিতে পাকিস্তানে দৃশ্যমান সন্ত্রাসী সংগঠন- হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরির, আল হিকমা, লস্করে তৈয়বা- এই জাতীয় সংগঠনগুলোর শাখা বিস্তার লাভ করে। তখন ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার ছিলেন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি তার সাম্প্রতিক লেখায় এই বিষয়টা উল্লেখ করে বলেছেন, “বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আইএসআইকে সহযোগিতার অভিযোগ সর্বজন বিধিত।” কুলদীপ নায়ার বিএনপি নামক হলাহল বিষকে অমৃত বলে কেন পান করতে চাচ্ছেন সেটা বোঝা বড় মুশকিল। বিএনপি-জামায়াত এখন বিশ্ব জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য তার নেতা এবং সমর্থক সাংবাদিকদের বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছেন। কোনও কোনও দেশে লবিস্টও নিয়োগ করেছে তারা। আমার ধারণা হয়তো কুলদীপ নায়ার এমন কারও করজোড় মিনতিকে উপেক্ষা করতে না পেরে তার এই কলাম লিখেছেন।

খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন এদেশে তার সমর্থক গোষ্ঠি প্রকাশ্যে পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স নামে খ্যাত সাত রাজ্যের (আসাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম ও অরুনাচল) বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র আন্দোলনকে পূর্ব ভারতীয়দের স্বাধীকার আন্দোলন বলে অবহিত করেছেন। পূর্ব ভারতীয় বিদ্রোহী নেতারা বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছিলেন এবং  রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের মাটিতেই বিদ্রোহীদের ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা হয়েছে। ওই আমলে ভারতীয বিদ্রোহীদের অস্ত্র যেত বাংলাদেশ হয়ে। দশ ট্রাক অন্ত্রের একটি চালান ধরা পড়ে মামলা চলমান বলে সবাই জানে। আরও কত ট্রাক গিয়েছে সে হিসাব সরকারের খাতায় নেই। চাঞ্চল্যকর ১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের পৃথক দুটি মামলার একটিতে বেগম জিয়ার মন্ত্রিসভার দুইজন সদস্য জামাতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই সাবেক দুই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিমসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বেগম জিয়া সন্ত্রাসীদের কাছে জননীতুল্য। তাদেরকে আশকারা দিলে বাংলাদেশ আবার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের লীলাভূমির রূপ নেবে। পূর্ব ভারতের সন্ত্রাসীরা প্রচণ্ডভাবে বলবান হবে। সুতরাং কুলদীপ নায়ারের কাছে আবেদন সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকদের আশকারা দিয়ে লেখা কোনওভাবেই উচিত হবে না আপনার। সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠা পেলে বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের শান্তি বিনষ্ট হবে, তা কারও কাম্য নয়।

লেখক: সাংবাদিক
anisalamgir@gmail.com

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে