Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০ , ২৪ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (23 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৭-০৮-২০১৫

সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে

কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ


নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করল। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ঋণমান অবস্থান আরো উন্নত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত অর্জন সম্ভব হয়েছে অনুকূল সামষ্টিক নীতি-কাঠামো ও জনগণের প্রচেষ্টার ফলে। অনুকূল নীতি-কাঠামো গঠন ও অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে। বাস্তব ক্ষেত্রে কৃষক, কৃষিশ্রমিক, শিল্পশ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমিক এবং উদ্যোক্তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে।

সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে রয়েছে বেশ কয়েক বছর থেকেই। দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। অতিদারিদ্র্য ১১-১২ শতাংশে নেমে এসেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি ঘটেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের অনুপাত এখন কিছুটা বেশি। উচ্চশিক্ষায়ও মেয়েদের অনুপাত বাড়ছে, যদিও তা এখনো ৪০ শতাংশের মতো। শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার দুই-ই দ্রুত কমে এসেছে। এসব ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭০ বছর হয়েছে, যা এতদঞ্চলে সর্বোচ্চ।

বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে খুব স্লথ গতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানি গত কয়েক বছরে বেড়েছে, এখনো বাড়ছে। রেমিট্যান্স প্রাপ্তি ও বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ ক্রমাগত রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ উল্লেখযোগ্যভাবে ঘটেছে। তবে গ্রামাঞ্চল ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দিকে আরো নজর দিতে হবে। এসবই আমাদের এগিয়ে চলার নিদর্শন। তবে আমার কাছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো গ্রামীণ অর্থনীতির বিশদ বিকাশ। শুধু কৃষি নয়, কৃষির বাইরেও গ্রামীণ অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন এখন দেশের সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত। যদিও বিতরণে ঘাটতির কারণে (অর্থাৎ অনেকের উৎপাদনের সুযোগ না থাকায় বা কর্মসংস্থানের সংকট থাকায়) দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর খাদ্যপ্রাপ্তি যথাযথভাবে ঘটছে না।

এ ছাড়া কৃষিবহির্ভূত খাতগুলোতে নানাভাবে অগ্রগতি ঘটেছে, যাতে গ্রামীণ অনেক মানুষ অংশগ্রহণ করে তাদের আয় বৃদ্ধি করার সুযোগ পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় কাঁকড়া উৎপাদন থেকে শুরু করে ফুল উৎপাদন, বাঁশ ও বেতের আসবাব, লোহার তৈজসপত্র থেকে শুরু করে গাড়ির বডি-বিল্ডিং পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকাশ লাভ করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতির এই বিকাশ অর্থনীতির সার্বিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে। তা একই সঙ্গে দারিদ্র্য নিরসনে, বৈষম্য কমানোয় ও প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তার স্বীকৃতি বেশ কিছু দিন থেকেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পাওয়া যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, সাউথ আফ্রিকার (ব্রিকস) পরে পরবর্তী সময়ে দ্রুত এগিয়ে যাবে বলে গোল্ডম্যান সাকস (Goldman Sachs) দ্বারা চিহ্নিত ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি সিএনএন (কেব্ল্ নিউজ নেটওয়ার্ক) তাদের মূল্যায়নে ২০১৮-১৯ সাল নাগাদ বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার উন্নয়নশীল বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হবে বলে মূল্যায়ন করেছে। এ ছাড়া সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাপক অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। আরেকটি কথা উল্লেখযোগ্য যে বছর দু-এক আগে দিইকোনমিস্ট আর্থসামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। এই যে তথ্যগুলো তুলে ধরলাম, এগুলোর প্রতিটিতে আমাদের অর্জনের বিশ্লেষণ করা হয়েছে অথবা তা বিশ্লেষণপূর্বক বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশকে 'তলাবিহীন ঝুড়ি' আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এ কথাটি যে কত অমূলক ও অবিবেচনাপ্রসূত, তা বাংলাদেশ এরই মধ্যে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।

১ জুলাই ২০১৫ তারিখে বিশ্বের দেশগুলোর মাথাপিছু আয়ের যে পরিসংখ্যান বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের কাতারে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক সারা পৃথিবীর দেশগুলোকে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে থাকে। সেগুলো হচ্ছে স্বল্পোন্নত দেশ, নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ, মধ্যম আয়ের দেশ ও উচ্চ আয়ের দেশ। নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে বর্তমানে একটি দেশের মাথাপিছু গড় আয় এক হাজার ৪৫ মার্কিন ডলারের ওপরে হতে হয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৪৫ মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে আসায় বাংলাদেশ সংগত কারণেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই চিহ্নিতকরণ বিশ্বব্যাংকের রুটিনমাফিক কাজের অন্তর্ভুক্ত। আয়ের ক্ষেত্রে যেকোনো দেশের অর্জন উল্লিখিত পর্যায়ে পৌঁছলেই সেই দেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার, মঙ্গোলিয়া ও প্যারাগুয়েও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের পর্যায়ে উঠে এসেছে।

নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করল। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ঋণমান অবস্থান আরো উন্নত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত অর্জন সম্ভব হয়েছে অনুকূল সামষ্টিক নীতি-কাঠামো ও জনগণের প্রচেষ্টার ফলে। অনুকূল নীতি-কাঠামো গঠন ও অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব নিয়ামক ভূমিকা পালন করেছে। বাস্তব ক্ষেত্রে কৃষক, কৃষিশ্রমিক, শিল্পশ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমিক এবং উদ্যোক্তাদের বিশেষ অবদান রয়েছে।

তবে বাংলাদেশ এখনো স্বল্পোন্নত দেশ। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের আরো দুটি চৌকাঠ পার হতে হবে। এগুলো হলো সামাজিক উন্নয়ন ও ঝুঁকির প্রবণতা। এ দুটি ক্ষেত্রে আরো কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে। এরই মধ্যে সামাজিক উন্নতি ও ঝুঁকির বিষয়ে অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ক্রিয়াকর্ম আছে যার জন্য কিছু সময় লাগে। সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরিয়ে আসা বাংলাদেশের জন্য এখন শুধু সময়ের ব্যাপার, কয়েকটি বছরের ব্যাপার। অর্থাৎ বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ২০২১ সালের মধ্যে দেশ স্বল্পোন্নত অবস্থান থেকে এগিয়ে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে- সে লক্ষ্য আগেই অর্জিত হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট বলে আমি মনে করি। অন্তর্বর্তী সময়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যেসব সুবিধা পায়, বাংলাদেশ সেগুলো পাবে, যা দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগানো যাবে।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তা আগেই বলেছি। ভবিষ্যতে আমাদের এই অগ্রযাত্রা টেকসইভাবে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে। তার একটি হচ্ছে সামষ্টিক নীতি-কাঠামো এমন থাকতে হবে, যা সর্বাবস্থায় দেশের বিকাশমান অর্থনীতি ও সমাজে নতুনভাবে উদ্ভূত সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে এগুলোর সমাধানে যেন সমর্থন ও সহায়তা জোগায়। সাংবিধানিক তাগিদ অনুসারে সবার জন্য সম-সুযোগ তৈরি করা জরুরি। তাই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাপক উন্নয়ন ও সমাজের সব স্তরে মানব সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হতে হবে; বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর (প্রতিবন্ধী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, দলিত, পাহাড়বাসী, হাওরবাসী, বাঁওড়বাসী, নারী কৃষিশ্রমিক, উপকূলীয় দরিদ্র মানুষ) দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ বিষয়ে অবশ্য চলতি বাজেটে, অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে বক্তব্য রয়েছে। যথাযথভাবে প্রয়োজনীয় বিন্যাস করে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়িত ও ত্বরান্বিত করার জন্য স্থানীয় সরকারের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি Vision-২০২১-এ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ দেশে একটি সমাজ গঠনের তাগিদ রয়েছে, যা আমাদের সংবিধানে বিধৃত আছে। এবং বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১-এ-ও তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি হলো সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। দেশের প্রত্যেক নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পাবে। অবশ্য এর মানে এই নয় যে প্রত্যেকে অর্থনৈতিভাবে একই কাতারে চলে যাবে। এর মানে হলো প্রত্যেকে তার ন্যায্য অধিকার পাবে- মানুষ হিসেবে তার মর্যাদা ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পাবে।

পাশাপাশি যাদের লোভী আগ্রাসন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড অর্থনীতিকে ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে তাদের যথাযথ আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিবৃত্ত করতে হবে। প্রয়োজনীয় শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

আরেকটি বিষয়ে আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে, তা হলো জলবায়ু পরিবর্তন। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রথম সারিতে আছে। এক হিসাবে দেখা যায়, যদি জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি বিগত বছরগুলোতে না ঘটত, তাহলে প্রবৃদ্ধি ১.৫ শতাংশ সংখ্যা বেশি হতে পারত। সমস্যাটি বৈশ্বিক। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ কোনোভাবেই দায়ী নয়, কিন্তু ভুক্তভোগী। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহায়তা প্রাপ্তির জন্য দেনদরবার করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজের সম্পদসংক্রান্ত সামর্থ্য সীমিত। তাই বাংলাদেশ নিজে যথাযথভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করতে পারবে না। তবে ইতিমধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ বার্ষিক বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে বেশ কিছু মূলত অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, করছে। গত ছয় বছরে বাজেট থেকে এ ক্ষেত্রে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাইরের সাহায্য এসেছে সামান্যই। এখন সবার চোখ আগামী ডিসেম্বরে প্যারিসের দিকে। সেখানে সব দেশের অংশগ্রহণে একটি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা চুক্তি হওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে কিছু আশার আলো রয়েছে। তবে নৈরাশ্যমূলক কিছু বিষয়ও রয়েছে।

এই চুক্তি (যদি সম্পাদিত হয়) অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ তাদের দায়িত্ব পালন করবে। একদিকে খাপ খাওয়ানোর জন্য উন্নয়নশীল বিশ্ব, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অর্থ, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহায়তা পাওয়ার কথা। অন্যদিকে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং সে জন্য বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে কমাতে হবে। এ ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে উন্নত বিশ্বকেই। তবে উন্নয়নশীল দেশ বা দ্রুত শিল্পায়নশীল দেশগুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী এই দায়িত্ব পালন করবে। আর এটি যদি না ঘটে, বাংলাদেশের মতো দেশগুলো এই অভিঘাত মোকাবিলা বছরের পর বছর চালিয়ে যেতে পারবে না। তাদের ভবিষ্যৎ সংকটময় হয়ে পড়বে। তবে উন্নত বিশ্বও অভিঘাত থেকে বাদ যাবে না। বাংলাদেশ জলবায়ুসংক্রান্ত দেনদরবারে গ্রিনহাউস গ্যাস কমিয়ে আনার বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছে, ভবিষ্যতেও রাখবে। যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনে পৃথিবীর সব দেশই সমস্যায় পড়বে, তাই একটি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাই। আশা করি, বিশ্বনেতৃত্ব এ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে পৃথিবী ও পৃথিবীর মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন এবং সেই মর্মে কাজ করবেন।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে তা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কেননা বড় বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দরিদ্র মানুষ অতিদরিদ্র্র ও অতিদরিদ্র মানুষ নিঃস্ব হয়। ফলে দেশের সার্বিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়।

সবশেষে বলতে চাই, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাক আরো দ্রুত- টেকসইভাবে ও দেশের সব মানুষের জন্য।

লেখক : অর্থনীতিবিদ

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে