Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০ , ২১ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (69 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-১৮-২০১৫

প্রধানমন্ত্রী, আপনার হস্তক্ষেপ চাই

আনিস আলমগীর


প্রধানমন্ত্রী, আপনার হস্তক্ষেপ চাই

প্রবীর সিকদার একজন সৎ, সাহসী এবং গরীব সাংবাদিক। সাংবাদিকতা করতে গেলে বহু দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয়। প্রবীরও সে রকম এক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে গিয়ে ২০০১ সালের এপ্রিলে গুলি, বোমা, ছুরির সম্মিলিত আঘাতে একটি পা হারিয়েছেন। একটি হাত তার অবশ করে দেওয়া হয়েছিল। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। তখনও ক্ষমতায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠিয়েছিলেন। একটি কৃত্রিম পা লাগিয়ে দিয়েছিলেন। অনেকের হয়তো চোখে পড়ে না, দুঃস্থ মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মমত্ববোধ কিংবদন্তিতুল্য।

প্রবীরকে তখন কারা আক্রমণ করেছিল সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনি সন্দেহ করেছিলেন এর পেছনে রয়েছে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য নিন্দিত ফরিদপুরের মুসা বিন শমসের আর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি তাদেরকে চিহ্নিত করেছেন কুখ্যাত রাজাকার লুলা মুসা এবং বাচ্চু রাজাকার হিসেবে। তখন দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদুপর জেলা সংবাদদাতা ছিলেন তিনি। সে পত্রিকায় ‘সেই রাজাকার’ শিরোনামে যে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তাতে উঠে এসেছিল তাদের মানবতাবিরোধী কাজের বিস্তারিত বিবরণ। সে কারণে বাচ্চু রাজাকার শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পলাতক অবস্থায় মৃতদণ্ড পেয়েছেন। মুসা এবং আজাদ প্রবীর সিকদারের ওপর আক্রমণ করে প্রতিশোধ নিয়েছেন সন্দেহ করেন প্রবীর। ২০০১ সালের তার ওপর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলায় যে মামলা হয়েছে তাতে ওই দুই ব্যক্তিকে অভিযুক্ত না করায় প্রবীর সিকদার চার্জশিটে তার না-রাজি প্রদান করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে এখনও লেখেন তিনি।

ফরিদপুর তার জন্য নিরাপদ ছিল না। প্রতিনিয়ত হামলার আশঙ্কা করতেন। সে কারণে ঢাকায় স্থায়ী হন। জনকণ্ঠের পরে কিছুদিন চাকরি করেছেন সমকাল ও কালের কণ্ঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জায়গা-জমি বিক্রি করে নিজেই পত্রিকার মালিক হতে চেয়েছেন। প্রবীর সিকদার বর্তমানে উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ এবং দৈনিক বাংলা ৭১ নামের পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। গত কিছুদিন আগে আমি তার ইন্দিরা রোডের ওই কার্যালয়ে গিয়েছিলাম দেখতে। সেদিন তার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও ছিল। অত্যন্ত ছোট পরিসরে বড় আশা নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সারা বাংলায় নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সংগ্রাম করছেন তিনি। পত্রিকাটা দিয়ে লাভ কিছু হয় কিনা আমার সন্দেহ। তিনি বলছেন টিকে থাকতে পারলে একদিন হবে।

সেই ছোট্ট অফিসটি থেকে গত ১৬ আগস্ট প্রবীর সিকদারকে তুলে নিয়েছে যায় পুলিশ। মিথ্যা তথ্য দিয়ে। তার ছেলে সুপ্রিয় সিকদার আমাকে বললো, ২২ জুলাই স্থানীয় শেরে বাংলা নগর থানায় প্রবীর সিকদার তার জীবনে হুমকির আশঙ্কা করে একটি জিডি করতে গিয়েছিলেন। পুলিশ জিডি নেয়নি। প্রায় এক মাস পর তার অফিসে এসে জানায় সে ব্যাপারে থানায় যেতে হবে। কিন্তু পথেই তাকে পুলিশ তুলে দেয় ডিবির মাইক্রোবাসে, যারা তাকে নিয়ে যায় মিন্টো রোডের অফিসে।

প্রবীর সিকদারকে কেন ডিবি তুলে নিল তার কোনও হিসেব মেলেনি তাৎক্ষণিক। কেউ বলেছেন, এর পেছনে আছে মুসা বিন শমসের। কেউ বলছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বাচ্চু রাজাকারের কথা কেউ বলেননি। দু’জনকে সন্দেহ করার কারণ প্রবীর সিকদার গত ১০ অক্টোবর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে এরা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন। বলতে গেলে গত ২ মাস ধরে তিনি জীবনের হুমকির আশঙ্কা করে নানা স্ট্যাটাস দিচ্ছিলেন। সর্বশেষটা একেবারে খোলাখুলি ছিল। তিনি লিখেছেন:

“আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শঙ্কা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন : ১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের, ৩. ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা।”

সন্ধ্যায় আটকের পর মধ্যরাতে এই সাংবাদিককে ফরিদপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায়। ১৭ আগস্ট বিকালে আদালতে নেয় পুলিশ। বিচারক পরদিন ১৮ আগস্ট পুলিশের ওই আবেদনের শুনানির দিন ঠিক করে প্রবীর সিকদারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদী স্বপন পাল ফরিদপুর পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা। ওই ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগ তুলে মামলাটি করেন আইনজীবী স্বপন পাল। মান যায় মন্ত্রীর মামলা করে জনৈক স্বপন পাল। রহস্য এখানেই উন্মচিত হয়। স্বপন পাল আসলে মন্ত্রীর ফেউ। মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বাড়ি ফরিদপুর। ফরিদপুরের সাংবাদিক প্রবীবের বিরুদ্ধে মামলার পেছনে রয়েছেন মন্ত্রী মোশাররফ। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই।

মন্ত্রী আবার ভেবেছেন জনগণ বোকার স্বর্গে বাস করে। তিনি বিডি নিউজকে বলেছেন, “বাদী কে আমি জানিও না। এখন আমি শুনছি, একজন হিন্দু লোকই বাদী হয়েছে।”

এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেছেন, “সে স্ট্যাটাস দিছে, সেটা তো আমি জানিও না। আজকে বিবিসি থেকে ফোন করলো বইলা আমি জানতে পারলাম, এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। আমি রাজনীতি করি, অন্তত ১০-২০ হাজার লোক আমার জন্য জান দিবার মতো লোক আছে। তারা সংক্ষুব্ধ হয়ে যদি মামলা করেও থাকে, এর মধ্যে আমি জবাবদিহি করব কীভাবে?”

শেষের বক্তব্য শুনে আমি কনফিউজড- জনগণ না-কি উনিই বোকার স্বর্গে বাস করছেন? ক্ষমতায় থাকলে মন্ত্রীদের এমনই মনে হয়। তাদের মনে হয় তাদের জন্য ১০-২০ হাজার লোক জান দেবে। ক্ষমতা ছেড়ে রাস্তায় নামলেই এরা বুঝতে পারে তারা তখন মানুষকে চিনলেও মানুষ তাদের চেনে না। জান দেওয়াতো দূরের কথা। সেই অভিজ্ঞতা এই মন্ত্রীর এখনও হয়নি। কারণ উনি প্রথমবারের মতো মন্ত্রী। আমি অনুরোধ করবো অবসরের আগে যেন তিনি সাবেক মন্ত্রীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটু জেনে নেন।

প্রবীর সিকদারকে মন্ত্রী মোশাররফ তথ্যপ্রযুক্তি আইনে জেলে ঢুকিয়েছেন। এই তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্রের ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ৷” 

এই অপরাধের দণ্ড সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা।

মন্ত্রী সাহেব যদি মনে করেন তার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন। তাতে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু সেই আইনের আশ্রয় নিতে এত ভণ্ডামি কেন- তাতে আমার আপত্তি। মামলা করে গ্রেফতার করুন। ডিবি দিয়ে তুলিয়ে নিয়ে ফেউ দিয়ে মামলা দিচ্ছেন কেন? এসবের মধ্যে ক্ষমতার দম্ভ এবং কাপুরুষতা স্পষ্ট।

এটা পরিষ্কারভাবে বলতে পারছেন না কেন প্রবীর সিকদার আপনার একটি হিন্দু বাড়ি কেনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আপনাকে নিন্দার মধ্যে ফেলেছে। ওই হিন্দু পরিবার এখন কোথায়, সেই প্রশ্ন তুলেছে। আপনাকে মন্ত্রী হয়ে জবাব দিতে হয়েছে যে তারা ভারতে চলে গেছে। হিন্দু-বোদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আপনার এবং আওয়ামী লীগের আরেক এমপি দবিরের বিরুদ্ধে হিন্দু বাড়ি দখলের অভিযোগ এনে ছিঃ ছিঃ করছে। সেগুলো জনসম্মুখে পরিষ্কার করুন। নিজের স্বপক্ষে বলুন। হিন্দু বাড়ি কেনা কোনও অপরাধ হতে পারে না। তা না করে আপনি কি ভেবেছেন নিন্দার কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে?

“নিন্দারে করিব ধ্বংস কণ্ঠরুদ্ধ করি।
 নিস্তব্ধ করিয়া দিব মুখরা নগরী ”

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গান্ধারীর আবেদন’ কবিতা পড়ুন। দুর্যোধনও নিন্দাকে এভাবে ধ্বংস করতে কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছে। কায়দাটা ভালো না।

আপনি শুধু সাংবাদিককে জেলে দেননি। একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকালে যার চোখের সামনে তার পরিবারের ১৩ জন লোককে হত্যা করা হয়েছিল- তাকে গ্রেফতার করে কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছেন। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা হলে গ্রেফতার করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে না বলে সরল উক্তিও করেছেন। তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই ধারা বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার পরিপন্থী অভিহিত করে প্রণয়নের পর থেকেই এই আইনের বিরুদ্ধে বলে আসছেন সাংবাদিক ও অধিকার কর্মীরা। আপনি আপনার কর্ম দ্বারা প্রমাণ রেখেছেন এই দানবীয় আইন করে আপনার সরকার বাজে দৃষ্টান্ত রেখেছেন। এটা অবিলম্বে বাতিল করা দরকার। এটা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী।

এখানেই ক্ষান্ত দেননি মন্ত্রী বাহদুর। কী নির্মম! একজন পঙ্গু, যার এক হাত অকেজো, এক পা নেই তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে আপনার লোক। কত মির্মম, কত অমানবীয় ঘটনা-কোর্টে হাজির করলে ওই মানুষটার বিরুদ্ধে একজন উকিলকে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। তার আত্মীয়দের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে তার বাকি পা-টি, বাকি হাত-টিও শেষ করে দিতে। আমার মাথায় ঢুকে না- পঙ্গু একটা মানুষের রিমান্ড কিসের!

ফরিদপুরের উকিলদের বিরুদ্ধে কী বলবো। ওরা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে, ভূমিদস্যুর পক্ষে দাঁড়াতে পারে- একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের পক্ষে দাঁড়াতে পারে না। ওরা টাকার জন্য ক্রিমিনালের পক্ষে লড়ে, জেনে শুনে খুনির জন্য লড়ে- একজন সৎ সাংবাদিকের জন্য লড়ার সাহস নেই তাদের। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ওদের সনদ রাখে কী করে! ওরা পেশা নিয়ে গর্ব করে কী করে! ওরা ওদের স্ত্রী, সন্তানদের মুখ দেখায় কী করে! ওদের কি ভয় হয় না- অন্ধকারে হলেও কেউ একজন ওদের মুখে থুথু ছিটিয়ে দিতে পারে। উকিলদের ওইসব চরিত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার ক্ষমতায় এসে এক বক্তৃতায় উল্লেখ করেছিলেন। ওরা উনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছিল। আমি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ নিয়ে বলেছিলাম উনি আদালত অবমনানা করেননি, বড়জোর উকিল অবমাননা করেছেন দাবি করা যেতে পারে। আদালত আর উকিল এক নয়।

আমি ওদের স্বজাতি আকবর এলাহাবাদীর একটি কবিতার কয়েকটি লাইন স্মরণ করেছিলাম, যা তিনি এলাহবাদ হাইকোর্টের শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে পড়েছেন। আজ ফরিদুপরের উকিলদের দেখে সেটাই আবার মনে পড়ছে।

“যব তাক ভকিল মে পয়দাস হুয়া, তব শয়তানে কাহা

আহ! মে সাহিব-ই-অওলাদ বান গায়া”

অর্থাৎ যেদিন দুনিয়ায় উকিলের জন্ম হল, শয়তান বললো (চিন্তা নেই) আমার বংশধর এসে গেছে। ওরা সহ্য করেনি, আমার এবং আমার তৎকালীন পত্রিকা আজকের কাগজ-এর সম্পাদক কাজী শাহেদ আহমদের বিরুদ্ধে সারা দেশে মামলা করেছে। প্রবীর সিকদারের মতো একই কায়দায়- আমার পক্ষে কোনও উকিল যেন না লড়ে সে সিদ্ধান্তও নিয়েছিল তারা। হাইকোর্টে এসে রক্ষা পেয়েছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আলোচিত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ আপনার সহকর্মী ছাড়াও আত্মীয়তায় কী হয় সেটা আমি কখনও বিবেচনায় রাখিনি। আপনি একজন মন্ত্রীকে মন্ত্রী হিসেবে দেখেন, যোগ্যতা দেখেছেন বলেই মন্ত্রী করেছেন- সে বিশ্বাস আমাদের আছে। এদেশে স্বজন হারানো লোকের বেদনা আপনাকে বোঝানোর দরকার নেই কারও। আপনি হারিয়েছেন। প্রবীর সিকদারও হারিয়েছে। চোখের সামনে তার মা-বাবাকে হত্যা করেছে পাকিস্তানি জালেমরা। একাত্তরে এক কোটি মানুষ বাস্তুহারা হয়ে আশ্রয় নিয়েছিল ভারতে, হাজার হাজার হিন্দু ছিল সেখানে। হিন্দুরাই ছিল পাক-জালেমদের প্রধান টার্গেট। আজ স্বাধীন দেশে, আপনার আমলেও হিন্দুরা নির্যাতিত অভিযোগ উঠলে আপনার সবার আগে তাদের বিষয়টা দেখা উচিত। আপনার মন্ত্রী এমপিদের বিরুদ্ধে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ আসলেও নিশ্চয়ই আপনি দেখবেন।  এখানে প্রবীর সাংবাদিক হিসেবে নির্যাতিত, হিন্দুদের পক্ষে বলতে গিয়ে।

শেখ সাদীর কবিতার কয়টা লাইন দিয়ে শেষ করব—
‘হামা আজ দস্তে
গাঁয়ের নালা কুনান্দ
সাদী, আজ দস্তে
খেশতাম ফরিয়াদ।’

অর্থাৎ পরের হাতে চড় খেলে ফরিয়াদ করার উপায় থাকে। নিজের হাত নিজের গালে চড় বসিয়ে দিলে কার কাছে গিয়ে ফরিয়াদ করা যায়!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমরা রাজাকারের বিচার চাইছি, রাজপথে লড়ছি, লিখছি, লিখবো। আমরা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছি, করবো। কিন্তু প্রবীর সিকদারের বিষয়টি কার কাছে ফরিয়াদ জানাবো! জননেত্রী আপনি কি বিষয়টি দেখবেন, সরাসরি হস্তক্ষেপ করবেন?

লেখক: সাংবাদিক
anisalamgir@gmail.com

মুক্তমঞ্চ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে