Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২০ , ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.9/5 (35 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৩-২০১৫

পুলিশের গুলিতে চাপা পড়েছে কলঙ্কজনক সেই ঘটনা

পুলিশের গুলিতে চাপা পড়েছে কলঙ্কজনক সেই ঘটনা

টাঙ্গাইল, ২৩ সেপ্টেম্বর- টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে চার জন নিহতের ঘটনায় চাপা পড়ে গেছে নারী নির্যাতনের একটি করুণ কাহিনি। দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পর থমকে আছে নারী নির্যাতন মামলার তদন্তও।  

গণমাধ্যমে তেমন আলোচনা না থাকায় এই ঘটনার বিচার নিয়ে সংশয়ে ভুক্তভোগীরা। তবে কালিহাতী থানার এক কর্মকর্তা বলছেন, মামলার অগ্রগতি হয়েছে। ছেলেকে দিয়ে মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম ও তার ভগ্নিপতি হাফিজ উদ্দিনকে পুলিশ আটক করেছে। অন্যান্যরা পলাাতক রয়েছে।

ঘটনার শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর। ঘাটাইলের এক যুবক ও তার মাকে কালিহাতীতে ডেকে এনে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করা হয়। ওই যুবকের সঙ্গে কালিহাতীর এক মেয়ের সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়ে ছিল বিবাহিত। এ নিয়ে আলোচনার জন্য ডেকে আনা হয় দুজনকে। সেখানে গেলে ছেলের সঙ্গে মাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এক পর্যায়ে ছেলেকে দিয়ে মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ওই যুবক বলেন, ‘মায়ের সামনে আমাকে উন্মুক্ত করে মারধর করে তারা’।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ ছড়িয়ে ঘাটাইলে ভুক্তভোগীদের এলাকায়। তাদের অভিযোগ, এই ঘটনায় পুলিশ ধর্ষণ চেষ্টার মামলা নিতে রাজি হয়নি। এর পর থেকেই বিক্ষোভ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে তা চরম আকার নেয়।

মঙ্গলবার ঘটনার পরপরই প্রতিবাদ জানাতে, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জড়ো হয়েছিলেন মূল হোতা রফিকুলের ইসলামের বাড়িতে। কিন্তু তাদের ভয়ভীতি দেখান রফিকুল ও তার ভগ্নিপতি হাফিজ উদ্দিন। ওই সময় ঘটনার বিবরণও এলাকাবাসীর কাছে তুলে ধরেছিলেন ভুক্তভোগী নারী।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে, কালিহাতী থানায় নিয়ে যায় স্থানীয়রা। কিন্তু তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে মামলা হলেও অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করে পুলিশ। যে কারণে মামলার বিবরণ আর ভুক্তভোগীর বক্তব্যে পার্থক্য অনেক। ছেলেকে দিয়ে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করা হলেও এজাহারে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এসব ঘটনার কথা।

অভিযুক্তরা প্রভাবশালী, তাই পুলিশ তাদের বাঁচাতে কাজ করছে এমন ধারণা সৃষ্টি হওয়ার পরই রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ। তাছাড়া অভিযুক্তদের আটকের পরও রিমান্ডে না নেয়ায় ক্ষোভ বাড়ে তাদের। যার ফলাফল শুক্রবারের সংঘর্ষ।

পুলিশের গুলিতে চারজনের মৃত্যু হলেও মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, স্থানীয় দুপক্ষের গোলাগুলিতে মারা গেছেন তারা। এ ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চুপ পুলিশ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তদের বাঁচাতেই পরিকল্পিতভাবে এটি করেছে পুলিশ। শুধু তাই নয়, ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে যে চারজন নিহত হয়েছেন, তার দায়ও চাপানো হচ্ছে এলাকাবাসীর ওপরে। এদিকে, নয়শ জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় ধরপাকড় আতঙ্কে রয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা।

কালিহাতী পুলিশ অবশ্য কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা বা শৈথিল্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুরো ঘটনাকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছে তারা।

ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান ও কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম, দুই থানার তিন উপপরিদর্শক (এসআই) সহ চার কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে