Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ১৪ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.0/5 (176 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৪-২০-২০১২

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সঙ্কট : ফল প্রকাশে বিলম্ব

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সঙ্কট : ফল প্রকাশে বিলম্ব
জনবল সঙ্কটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও কম্পিউটার অ্যান্ড আইসিটি ইউনিটের এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত হওয়ায় এই সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। জাতীয় বিশ্বদ্যিালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) বদরুজ্জামান জানান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে ৪ জন পিওনের একজনও নেই, নেই কোনো পোটার। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ৫২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৩৪৩ জন চাকরিচ্যুত হয়েছেন। কম্পিউটার অ্যান্ড আইসিটি ইউনিটের ৮ জন সিনিয়র প্রোগ্রামারের মধ্যে ৬ জন, একজন ওয়েব মাস্টারের মধ্যে একজন, একজন নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে একজন, একজন মেইন্টেনেন্স ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে একজন, দুইজন প্রোগ্রামারের মধ্যে দুইজন, ১৪ জন সহকারী প্রোগ্রামারের মধ্যে ১১ জন ও ১০ জন, সাব-টেকনিক্যাল অফিসারের মধ্যে ৯ জনই চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া কম্পিউটার অ্যান্ড আইসিটি ইউনিটে কোনো পোর্টার না থাকায় দৈনন্দিন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে ডাকঘর থেকে পরীক্ষকদের কাছে পাঠানো ওএমআর প্যাকেট, স্টোর থেকে সনদপত্র, নম্বপত্র, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ডের প্যাকেটসহ অন্যান্য ভারী কাজের জন্য পোর্টার নেই। কম্পিউটার ইউনিটে ডিগ্রি (পাস), অনার্স প্রথম বর্ষ, মাস্টার্স প্রথম পর্ব ও শেষ পর্বের পরীক্ষার সব ই-টাইপ ও এইচ-টাইপ ডাকযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা শুরু হয়েছে। এগুলো সটিং, সলভিং ও স্ক্যানিংয়ে সহায়তা করার মতো প্রয়োজনীয় জনবল নেই। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরো জানান, ২০১০ সালের ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষার সাড়ে ৩ লাখ, ২০১০ সালের অনার্স পার্ট-১ পরীক্ষার ১ লাখ ৯০ হাজার এবং ২০০৯ সালের অনার্স চতুর্থ (চূড়ান্ত) পরীক্ষার ১ লাখ পাঁচ হাজার পরীক্ষার্থীর ফল তৈরির কাজ চলছে। এই সঙ্কটের কারণে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার অনার্স পার্ট ৩-এর ফলাফল প্রকাশে দেড় মাসের মতো বেশি সময় লেগেছে। এজন্য শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে সহযোগিতা করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা যথাসময় নেয়া হয়েছে। তিনি জনবল সঙ্কটের মাঝেও ২০০৯ সালের মাস্টার্স চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের কার্যক্রম চলতি মাসেই শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন । তবে পরীক্ষার ফল প্রকাশ গতিশীল রাখতে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ চৌধুরী সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। মঙ্গলবার দুপুরে দেখা গেছে, জনসংযোগ ও প্রকাশন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফয়জুল করিম নিজেই পেপার কাটিং করছেন, নিজেই পাশের রুমে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফটোকপি করে আনছেন এবং অন্যান্য কাজ গুছাচ্ছেন। পরিচালক মো. ফয়জুল করিম জানান, তার বিভাগের উচ্চমান সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, ক্যামেরাম্যান, পিওন, নিম্নমান সহকারী কেউ নেই। সবাই চাকরি হারিয়েছেন। একজন অতিথি এলে আপ্যায়নের কাজটাও তাকেই করতে হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কর্মকা-, সনদ (কম্পিউটার সম্পাদিত) বিভাগ এবং অ্যাকাউন্টস বিভাগেও এর প্রভাব পড়েছে। অ্যাকাউন্টস বিভাগের জনবল সঙ্কটের কারণে এবার শিক্ষকদেরও সম্মানী দিতে দেরি হবে। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে দুইটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিক ও যথাযথভাবে না হওয়ায় তাদের নিয়োগ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা হয়। পরে আদালত দুই ধাপে প্রায় এক হাজারের মতো শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিচ্যুতির আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাইকৃত ৯৮৮ জনের চাকরি অবসানের দুইটি তালিকা প্রকাশ করা হয়- যা ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমদ চৌধুরী জনবল সঙ্কটের সত্যতা স্বীকার করে জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৬ মাসের মধ্যেই জনবল কাঠামো চূড়ান্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করা হবে।

গাজীপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে