Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০ , ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.1/5 (11 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৫-২০-২০১২

মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বই প্রকাশ তৃণমূল নেতার

দীপক রায়


মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বই প্রকাশ তৃণমূল নেতার
সরকারের বর্ষপূর্তির দিনে একদিকে যখন চলছে সরকারী, দলীয় উৎসব, আরেকদিকে দলেরই সহ সম্পাদক, প্রাক্তন বিধায়ক, প্রাক্তন আই এ এস অফিসার দীপক ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে লেখা এক বিস্ফোরক বই প্রকাশ করলেন। আর সেই বই প্রকাশ হল কলকাতা প্রেস ক্লাবে মমতাপন্থী শিক্ষাবিদ সুনন্দ স্যান্যালের হাত দিয়ে। দীপক ঘোষ যেহেতু এখনো তৃণমূল দলেরই সহ সম্পাদক, সেই কারনে বিষয়টি অন্য মাত্রা পেয়ে গিয়েছে। দীপক ঘোষের লেখা এই বই ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে। বইটির নাম 'মমতা ব্যানার্জি এজ আই হ্যাভ নোন হার' বা বাংলাতে বলা যেতে পারে 'মমতা ব্যানার্জিকে আমি যেমন দেখেছি'। লক্ষ্য করার মতো বিষয়, এই বইতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তাঁর পরিবার ও তৃণমূল কংগ্রেস দল সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন দীপক ঘোষ।
বইটির প্রচ্ছদে দুটি ছবি আছে। একটি দুর্গা ঠাকুরের পূজা শুরুর। তাতে আছে ২০ মে ২০১১ তারিখ। আরেকটি ছবি আছে সেই ঠাকুর বিসর্জনের। তাতে আছে ১৯ মে ২০১২ তারিখ। মানে একবছরেই মমতা ব্যানার্জীর শুরু এবং শেষ হয়ে গিয়েছে। বইটিতে তিনি লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগের কথা। দুর্নীতির অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকেও চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বইটির লেখক দীপক ঘোষ। সেই চিঠির প্রতিলিপি তিনি পাঠিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং মুখ্য নির্বাচনী অফিসারকে। চিঠির সঙ্গে সদ্য প্রকাশিত বইটির প্রতিলিপিও পাঠিয়েছেন প্রাক্তন এই তৃণমূল বিধায়ক। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার, পারিষদ এবং তৃণমূলের একাধিক গরমিলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। কী আছে দীপক ঘোষের লেখা বইটিতে? মোট একুশটি বিষয় আছে বইটিতে। তিনি লিখেছেন, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা ব্যানার্জির এই পদে থাকা দলের সংবিধান অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। আরেকটি জায়গাতে তিনি লিখেছেন, সিঙ্গুরে টাটার গাড়ি কারখানার বিরোধিতা করে ২৬ দিন অনশন করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেই অনশনে নৈশভোজ ও চকোলেট খেয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। এক জায়গায় লিখেছেন, গ্রাসরুট ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নামে একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ২০০২ সালে তৃণমূলের নেতারা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু জনকল্যাণের বদলে আসলে মমতা ব্যানার্জি ও অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের স্বার্থ চরিতার্থ করছে ওই প্রতিষ্ঠান। আবার দার্জিলিং পাহাড়ের গোর্খাল্যান্ড সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপকে ভুল বলে অভিযোগ করেছেন দীপক ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, পাহাড়ে অশান্তি তো থামেইনি বরং ক্রমেই সিঁদুরে হচ্ছে পাহাড়ের আকাশ।
দীপক ঘোষের বইটি উদ্বোধন করে মমতা ব্যানার্জির অনুগত শিক্ষাবিদ সুনন্দ সান্যাল জানান, বিস্ফোরক তথ্য রয়েছে এই বইটিতে। তবে এই বইপ্রকাশ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে প্রেসক্লাবের পরিস্থিতি। ফলে তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দিতে হয় অনুষ্ঠান। তবে আগামীদিনে যে এই বই এইরাজ্যে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল, এতে কোন সন্দেহ নেই। আর দীপক ঘোষের দল থেকে বহিস্কারও যে কেবল সময়েরই অপেক্ষা, বলাই বাহুল্য।

পশ্চিমবঙ্গ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে