Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ , ১৯ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 1.0/5 (1 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০২-২০১২

আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় বিরোধীদল

আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় বিরোধীদল
আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বিরোধীদল। রাজপথের উত্তাপ নাকি শান্তিপূর্ণ জনসম্পৃক্ততামুলক আন্দোলন। কোনদিকে যাবে বিরোধীদলের চলমান রাজনীতি। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বিরোধীনেতা খালেদা জিয়া। কৌশলগত কারণে কর্মসূচি প্রসঙ্গে নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা না করলেও কয়েকজন রাজনীতিক ও পেশাজীবী নেতার সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান আলাপ করছেন। ১১ই জুনের আগে জোটের শরিকদের সঙ্গেও একটি বৈঠক করবেন। সে বৈঠকের পরই চূড়ান্ত করবেন পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি। তবে ৯০দিনের আলটিমেটাম শেষে নির্দলীয় সরকারের একদফা ইস্যুতে আন্দোলন কেন্দ্রীভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতারা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ড. আবদুল মঈন খান, জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ বিরোধীজোটের নেতারা জানান, নির্দলীয় সরকার ইস্যুতে দেশে-বিদেশে সৃষ্ট জনমতকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগোতে চায় ১৮দল। নৈরাজ্যময় কর্মসূচির মাধ্যমে সংঘাতের দায় নিতে চান না তারা। বরং জনমতকে জোরালো করে সরকারকে চূড়ান্তভাবে জনবিচ্ছিন্ন করাই তাদের লক্ষ্য। তাই হরতাল এড়িয়ে নতুন ধারার কর্মসূচি প্রণয়নের চেষ্টা চলছে। নেতারা জানান, এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ১১ই জুনের সমাবেশ। সেদিন সরকারের তরফে সম্ভাব্য সবধরনের প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে রাজধানীতে বিপুল সমাবেশ ঘটাতে চায় ১৮দল। ১১ই জুনের সমাবেশ ও কারাবন্দী জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যাপারে সরকারের আচরণের উপর ভিত্তি করে সেদিন তিনি কর্মসূচি দেবেন। সরকার আগের মতো অতি কঠোর না হলে সমাবেশ থেকে-খালেদা জিয়ার অংশগ্রহনে সারাদেশে জেলায় জেলায় সমাবেশে, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ও খুলনা থেকে জাফলং পর্যন্ত মানবপ্রাচীরের মতো শান্তিপূর্ণ কিন্তু জনসম্পৃক্ততামুলক কর্মসূচি আসতে পারে। তবে সরকারের তরফে কঠোর অবস্থান থাকলে- হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচিগুলোও বিবেচনায় থাকবে। সেই সঙ্গে চলমান আন্দোলনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের একদফার দিকে প্রবাহিত করে সরকারের উদ্দেশে চূড়ান্ত আলটিমেটাম ঘোষণা দিতে পারেন খালেদা জিয়া। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খোদ খালেদা জিয়াই সময়োপযোগী জনসম্পৃক্ততামুলক আন্দোলনের ছক কষছেন। কৌশলগত কারনে নেতাদের সঙ্গে কর্মসূচি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন না। বিভিন্ন ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের ডেকে কথা বলছেন। নেতাদের পাশাপাশি বিএনপির শুভাকাঙ্খী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলছেন। সিনিয়র নেতারা কারাবন্দী থাকায় আন্দোলনের গতিবিধি নিয়ে নেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছেন না। আপাতত ১১ই জুনের সমাবেশ সফল করার প্রস্তুতিতে তাগিদ দিচ্ছেন নেতাদের। সে অনুযায়ী সিনিয়র নেতাদের কর্মী ও প্রস্তুতিসভার সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়ে জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। তবে সমাবেশের আগে জোটের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সে বৈঠকেই কর্মসুচির ব্যাপারে শরিকদের মতামত নেবেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, নির্দলীয় সরকার ইস্যুতে বিরোধীদলের দাবির পক্ষে ইতিমধ্যে দুইজোটের বাইরে থাকার রাজনৈতিক শক্তি, সুশীল সমাজ, পেশাজীবী ও বিদেশী কূটনীতিকদের সমর্থন জোরালো হচ্ছে। বিএনপি চায়, এ সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে নৈতিকভাবে পরাজিত করতে চায় সরকারকে। এ জন্য যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে নীতিগত একমত হয়েছে বিরোধীদল। নেতারা জানান, শান্তিপূর্ণ পন্থায় গণতান্ত্রিক রীতিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে চেয়েছিল বিএনপি। এ জন্য রোড মার্চ ও জেলা সমাবেশের মত জনসম্পৃক্ততামুলক কর্মসূচির পর সরকারকে চাপে রাখতে আলটিমেটাম দেয়া হয়েছিল। সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে কঠোর আন্দোলনে মোড়কে আলটিমেটাম দিয়েছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু হঠাৎ দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলীকে নিখোঁজের ঘটনা বিরোধীদলকে হরতালের মতো কঠোর আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেয়। ওই আন্দোলন দমাতে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কারাবন্দী করা হয়েছে। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা ও আতঙ্ক কাজ করছে। এখন সে আতঙ্ক ও হতাশা কাটিয়ে আন্দোলনের ঝিমিয়ে পড়া চাকা সচল করতে হবে। তাই ১১ই জুনের সমাবেশে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই সারাদেশে সফর করছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। জেলায় জেলায় কর্মীসভা করে নেতারা কর্মীদের উজ্জীবিত করছেন। দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে সারাদেশে মামলার ঘানিতে ক্লান্ত দলের নেতারা। এমন অবস্থায় নতুন করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে সেটা সফল করা অনেকটাই কঠিন হবে। এছাড়া বিএনপি যে পরিবর্তনশীল রাজনৈতির দিকে এগোতে চাচ্ছে তাও বিঘিœত হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সদ্য কারামুক্ত এমকে আনোয়ার বলেন, বিএনপি নৈরাজ্যময় রাজনীতি বিশ্বাস করে না। জনগনকে সঙ্গে নিয়েই আমরা জনগনের দাবি আদায়ের আন্দোলনে করব। জনমত ও জনগনের মনোভাব বিবেচনা করেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। জনসম্পৃক্ততামুলক কঠোর কর্মসূচি প্রণয়নের আলোচনা হচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, পরিস্থিতি বুঝেই কর্মসূচি দেবেন খালেদা জিয়া। সরকার হার্ডলাইনে গেলে কড়া আর নমনীয় হলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেয়ার ব্যাপারে নেতৃত্বের পর্যায়ে আলোচনা চলছে। জোটের শরিক কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, সমাবেশের আগে জোটের শরিকদের একটি বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধী নেতা। সে বৈঠকে কর্মসূচির ব্যাপারে আলোচনা হবে। যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শত প্রতিবন্ধকতার মুখেও বিএনপির সাফল্য হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে দেশে-বিদেশে সবার মনোযোগ আকর্ষণ এবং সমর্থন আদায়। বিএনপি চায় সে সমর্থণকে কাজে লাগাতে। এক্ষেত্রে সরকার জনমতের কাছে নতি স্বীকার না করলে তাদের চূড়ান্ত জনবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, রাজনীতির আকাশে একটি সংঘাতের কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। সরকার নমনীয় না হলে সে সংঘাত অনিবার্য। কিন্তু বিএনপি নৈরাজ্যময় আন্দোলন করে সে সংঘাতের দায় নিতে চায় না।  

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে