Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০ , ২৮ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.2/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৩-২০১২

বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই

বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই
দেশে পণ্যের চাহিদার হিসাব নেই। নেই আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থার হালনাগাদ তথ্যও। চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সমন্বয় রেখে সারা বছর বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। জরাগ্রস্ত সরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও নখদন্তহীন। পাস হয়নি প্রতিযোগিতা আইন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রাইস কমিশনও এখন পর্যন্ত গঠিত হয়নি। সরকারের এসব ব্যর্থতায় অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার। আসন্ন রমজানে তা আরো ভয়াবহ রূপ ধারণের আশঙ্কা রয়েছে। অথচ তা মোকাবিলায় সরকারের কোনো প্রস্তুতি নেই। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য ক্ষণস্থায়ী উদ্যোগ নিয়ে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। দেশে পণ্যের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য সরকারের কাছে থাকতে হবে। আগাম ব্যবস্থা নিয়ে নিশ্চিত করতে হবে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য। শুধু রমজান এলেই তৎপর হয়ে উঠলে চলবে না, এজন্য বছরজুড়েই পণ্যের দামের ওপর নজরদারি রাখতে হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে কোন পণ্যের চাহিদা কত, উৎপাদন কত হবে, কী পরিমাণ আমদানি করতে হবে, কোন দেশে কোন পণ্য পাওয়া যাবে, দাম কেমন হবে- এসব বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্য নেই সরকারের কোনো সংস্থার কাছে। ব্যবসায়ীরা যে যার মতো আমদানি করছেন। কখনো দরকারের চেয়ে বেশি আমদানি করে লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা, আবার কখনো কম আমদানি করে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। আন্তর্জাতিক বাজারের কথা বলে তারা নিজেরাই নির্ধারণ করে দিচ্ছেন খাদ্যপণ্যের স্থানীয় বাজার দর। আর সেই দরই সরকার মেনে নিচ্ছে। তাই ভোক্তা অধিকার আইন করে, পরিবেশক প্রথা চালু করে, মোবাইল কোর্ট বসিয়েও খুচরা পর্যায়ে দাম ঠিক রাখা যাচ্ছে না। অথচ ২০১১ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশের ৫ ধারা অনুযায়ী, 'উৎপাদক, পরিশোধক বা আমদানিকারক অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মূল্য যৌক্তিকভাবে হ্রাস, বৃদ্ধি বা পুননির্ধারণ করতে ইচ্ছুক হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ব্যবসায়ী সমিতির মাধ্যমে উক্তরূপ হ্রাস, বৃদ্ধি বা পুননির্ধারণ করবেন।' এবং উক্তরূপে পুননির্ধারিত মূল্য কার্যকর হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে তা মনিটরিং সেল, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। কিন্তু সরকার ব্যবসায়ীদের বাগে রাখতে না পারায় এ বিধান অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভোক্তারা। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন পণ্যের দাম শুধুই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধিজনিত কারণে ঘটছে বলে ব্যবসায়ীর দাবিই সরকার মেনে নিচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রেই তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনবোধ করছে না। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা সাধারণত খ-িত চিত্র হাজির করে নির্বিঘ্নে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। এছাড়াও মূল্য বৃদ্ধির নেপথ্যে বাজার সিন্ডিকেট কাজ করছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার নানা প্রচারণা চালালেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেই। এদিকে ট্যারিফ কমিশনের নেতৃত্বে যে বাজার মনিটরিং সেল রয়েছে, যানবাহন সঙ্কটের কারণে তারা ঠিকমতো বাজারে যেতে পারছেন না। তাদের বসার জন্য কোনো জায়গা না থাকায় একেকজন একেক জায়গায় বসে কাজ করছেন। ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের সমন্বয় করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সীমিত আয়ের মানুষের ওপর পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব কম রাখার জন্য সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই। রমজানে কিছু পণ্যের বিশেষ চাহিদা তৈরি হয়। তবে চাহিদা অনুযায়ী জোগান নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ জন্য সরকারের দক্ষ মার্কেট ইন্টেলিজেন্স থাকতে হবে। সিস্টেমেটিক উপায়ে বাজারের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের আগাম তথ্য থাকতে হবে এবং সে অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, দাম নির্ধারণ করে দিয়ে বা হঠাৎ করে কারওরান বাজারে গিয়ে কিছু করা যাবে না। সরকারের দরকার প্রকৃত তথ্যভিত্তিক আগাম প্রস্তুতি। সেই তথ্য ট্যারিফ কমিশন সংগ্রহ করবে নাকি মন্ত্রণালয়ে নির্ধারিত কোনো শাখা করবে- সেটা বড় কথা নয়। যারাই করুক সেটা কার্যকরভাবে করতে হবে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন যায়যায়দিনকে বলেন, পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নমুনা দেখাতে পারেনি। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণে কিছু ব্যবসায়ীকে ডেকে বৈঠক করে। কিন্তু দেখা যায়- বৈঠকের পর দাম আগের চেয়ে বেড়ে যায়। ড. মাহবুব হোসেন জানান, সরকারি সংস্থায় দক্ষতার অভাব ও কাজের দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হলে তা বাস্তবায়ন করতে তাদের দুই থেকে তিন মাস সময় লেগে যায়। এতে সমস্যা আরো বাড়ে। তিনি বলেন, রমজান আসলে প্রতি বছর ডাল, চিনি, তেল, পিঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। আগের বছরের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব পণ্যের আগাম সরবরাহ ও আমদানি নিশ্চিত করলে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। অথচ সরকারের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কাগজে-কলমে উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা হয়নি। এ সুযোগে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থা টিসিবিকে কার্যকর করা যেতে পারে বলে মতপ্রকাশ করেন মাহবুব হোসেন। বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য- সরকার বাণিজ্যিক আমদানি নিয়ন্ত্রণে রাখলে পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ইনডেন্টারদের কাজই হলো সারাবিশ্ব থেকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে সবচেয়ে ভালো জিনিস দেশে আনতে সহায়তা করা। এ জন্যই তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়। কিন্তু এ দেশে তাদের বাদ দিয়েই চলছে আমদানি-বাণিজ্য। আমদানির ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হলে কোন ধরনের পণ্য কেমন দামে ও কী পরিমাণে আমদানি হচ্ছে তার সঠিক তথ্য থাকত। এতে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ভালো থাকার পাশাপাশি দামও থাকত সহনীয়। রাজধানীর মৌলভীবাজারে খাদ্যপণ্য আমদানিকারক জামাল উদ্দিন শেখ যায়যায়দিনকে জানান, পণ্যের চাহিদা সম্পর্কিত কোনো তথ্য সরকার তাদের দেয় না। শুধু অনুমানের ওপর নির্ভর করেই আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। এভাবে আমদানি করতে গিয়ে প্রতি বছর কোনো কোনো পণ্যে লোকসান গুনতে হচ্ছে। আর সে লোকসান পুষিয়ে নিতে আমদানিকৃত অন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে হয়। ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম নির্ধারণের নামে প্রকারান্তরে সরকারই পণ্যের দাম বাড়ানোয় ভূমিকা রাখছে। কারণ, সরকার ব্যবসায়ীদের থেকেও একধাপ এগিয়ে ঠিক করছে পণ্যের দাম। গত বছর পরিবেশক প্রথা চালুর সময় মিল মালিকরা খুচরা বাজারে চিনির কেজিপ্রতি দর ৬০ টাকা আর সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দর ১০৫ টাকা প্রস্তাব করেছিলেন। এর কয়েক দিন পর সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করা হলো চিনির ক্ষেত্রে ৬৫ টাকা ও সয়াবিনের ক্ষেত্রে ১০৯ টাকা। কথা ছিল ১৫ দিন পর পর দাম ঠিক করা হবে। এরপর কয়েক দিন ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি করলেও আবার দাম নির্ধারণের সময় ঘনিয়ে আসতেই বাজারে সঙ্কট সৃষ্টি করে অগ্রিম দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে দ্বিতীয়বার দাম নির্ধারণ করার পর আর তা অব্যাহত রাখতে পারেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে আসন্ন রমজানে ভোজ্যতেলের দাম পাগলা ঘোড়ার মতো ঊর্ধ্বগতিতে ছুটতে পারে এ আশঙ্কায় তাতে লাগাম টানতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্যারিফ কমিশন দফায় দফায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পেঁৗছতে পারেনি। ফলে আগের নির্ধারিত মূল্যই বহাল রাখা হয়েছে। কিন্তু কোনো তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানই তা মানছে না। টিসিবির হিসাবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম এখন ১২৫ থেকে ১২৮ টাকা লিটার। তবে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২৮ থেকে ১৩০ টাকার ওপরে। পাম তেল ১০৪ থেকে ১০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলা হলেও এর বাজার দর ১০৯ থেকে ১১০ টাকা। অথচ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে যৌথভাবে সরকার-নির্ধারিত দর অনুযায়ী ভোক্তাপর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেল ১০৯ টাকা ও পাম তেল ৯৯ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। রাজধানীর বাজারে সিংহভাগ সয়াবিন তেল সরবরাহকারী সিটি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষের কাছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় আমাদেরও বাড়াতে হয়েছে। যে সয়াবিন তেল আমরা কিনেছিলাম ১ হাজার ১৭৫ ডলারে, এখন তা কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ২৯৫ ডলারে। চলতি মাসের শেষ দিকে এ তেল চলে আসবে। তখন হয়তো আবারো দাম বাড়াতে হতে পারে।' অথচ ট্যারিফ কমিশন গত ২৮ মার্চ ১০টি পণ্যের আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার দরের যে পর্যালোচনা প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে- গত ২৭ মার্চ প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের আন্তর্জাতিক দর ছিল ১ হাজার ২৭৪ দশমিক ৭৩ ডলার। ৮২ টাকা ৪৫ পয়সায় ১ ডলার ধরলে টাকার অঙ্কে তা হয় ১ লাখ ৫ হাজার ১০১ টাকা। এর সঙ্গে প্রতি টনের পরিশোধন ব্যয় ২২ হাজার ৩৭৩ টাকা যোগ করা হলে প্রতি টন সয়াবিনের দাম পড়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৭৫ টাকা। সে হিসাবে ১ লিটার সয়াবিন তেলের উৎপাদন ব্যয়ই হয় ১১৮ টাকা। ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে বর্তমান বাজারে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১২২ থেকে ১২৫ টাকায়। যদিও বাস্তবে সয়াবিন তেলের বাজার দর এর চেয়েও বেশি। একইভাবে পাম তেলেরও হিসাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশন। তাতে বলা হয়- প্রতি টন পাম তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৩৮ ডলার (৯৮ হাজার ১৪৬ টাকা)। পরিশোধন ব্যয় ২১ হাজার ১৯৫ টাকা যোগ করলে উৎপাদন ব্যয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৯ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটারের দাম পড়ে ১১০ টাকা ৬৩ পয়সা। কমিশনের হিসাবে বাজারে এ তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৪ থেকে ১০৬ টাকায়। ট্যারিফ কমিশনের ওই পর্যালোচনায় বলা হয়- গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অপরিশোধিত পাম তেলের দাম এক বছরে বেড়েছে ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তবে টিসিবির হিসাবে দেশে গত এক বছরে লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেল ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং পাম তেল ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ দাম বেড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা ও জোগান সম্পর্কে সরকারের কোনো ধারণা না থাকায় পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রকৃত মজুদ তথ্য না থাকায় তারা সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে বোকা বানাচ্ছেন। জানা গেছে, ভোজ্যতেল ও চিনির আমদানি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির তথ্য দেয়। আর চট্টগ্রাম কাস্টম থেকে পাওয়া যায় বন্দরে পেঁৗছা পণ্যের পরিমাণের তথ্য। কিন্তু এ দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যের মধ্যেও কোনো মিল নেই। অন্যদিকে মন্ত্রণালয়কে ব্যবসায়ীরা আমদানি ও মজুদের ব্যাপারে যে তথ্য দিচ্ছেন তার সঙ্গে ওই সব প্রতিষ্ঠানের তথ্যের অমিল রয়েছে। এভাবে সরকারের হাতে সঠিক তথ্য না থাকায় ব্যবসায়ীরা প্রায়ই ধোঁকা দিতে সক্ষম হচ্ছেন। সমপ্রতি ভোজ্যতেলের মিল মালিকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে মজুদের ব্যাপারে এক ধরনের হিসাব দেন। কিন্তু পরে মন্ত্রণালয় খোঁজ নিয়ে জানতে পারে- মিলগুলোর পণ্যের প্রকৃত মজুদের পরিমাণ ওই হিসাবের চেয়ে ৯০ হাজার টন বেশি। এভাবে শুধু ভোজ্যতেল বা চিনি নয়, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, ডালের চাহিদা ও জোগান সম্পর্কেও সরকারের কোনো ধারণা নেই। গত অর্থবছরে দেশে মোট ৮৪ লাখ টন চাল, গম, চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল ও পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এসব পণ্যের আমদানি মূল্য ছিল ৩ হাজার ৮৫৭ মিলিয়ন ডলার। টাকার অঙ্কে যা দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৯৩০ কোটি। আমদানিকারক থেকে খুচরা দোকানি পর্যন্ত ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের হাত হয়ে এসব পণ্য সারাদেশের ভোক্তাদের হাতে পেঁৗছায়। জরুরি এসব খাদ্যপণ্যের আমদানি থেকে বিপণন পর্যন্ত কোথাও সরকারের কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য বা পূর্বাভাস নয়, অনুমানের ওপর ভর করেই চলছে খাদ্যপণ্যের এ বিপুল আমদানি-বাণিজ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, মূল্য তদারকির কোনো ব্যবস্থাই সরকারের নেই। চাহিদা কতটুকু, কী পরিমাণ পণ্য দেশে উৎপাদিত হচ্ছে, কত পরিমাণে আমদানি করতে হবে তার হিসাব ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। চাহিদা ও জোগানের প্রাক্কলন নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। আসলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে কোনো হাতিয়ার নেই। অসহায়ের মতো সরকারকে তাই ব্যবসায়ীদের কাছে নমনীয় হতে দেখা যায়। প্রতিযোগিতামূলক আইন, প্রাইস কমিশন গঠন করে তাকে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেয়া ও কমোডিটি একচেঞ্জ মার্কেট চালু করা হলে অনৈতিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমে যেত বলে মন্তব্য করেন সেলিম রায়হান।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে