Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০ , ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

গড় রেটিং: 3.5/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৬-০৪-২০১২

বাংলাদেশীদের আমলনামা চেয়েছে লিবিয়া সরকার দূতাবাস বিপাকে

বাংলাদেশীদের আমলনামা চেয়েছে লিবিয়া সরকার দূতাবাস বিপাকে
লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের তালিকাসহ জীবনবৃত্তান্ত চেয়েছে ওই দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়। ফলে বিপাকে পড়েছেন লিবিয়ার ত্রিপোলিতে  অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। কি করবেন তারা ভেবে পাচ্ছেন না। এত কম জনবল দিয়ে কিভাবে কাজটি শুরু করবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন তারা। তাছাড়া লিবিয়ার মতো এত বড় দেশে বাংলাদেশীরা কোথায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন তা কিভাবে বের করবেন এনিয়ে। বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী বলেন, লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশীদের তালিকা চেয়েছে ওই দেশের শ্রম মন্ত্রণালয়। এটা করতে অনেক কষ্ট করতে হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়াতে গত মাসের শেষ দিকে বৈধ ভিসা নিয়ে যান ২০৩ জন বাংলাদেশী। তাদের ভিসা জাল সন্দেহে এদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদতে ভিসাগুলো জাল ছিল কিনা এ বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মনে করছে, লিবিয়াতে জাল ভিসায় বাংলাদেশী কর্মী আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত হলে তা বাংলাদেশের শ্রম বাজারের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ওদিকে লিবিয়ার যুদ্ধ-পরবর্তী বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক ভিসাই বিভিন্ন আঞ্চলিক দপ্তর হতে ইস্যু করা হচ্ছে। অনলাইন সার্ভিস না থাকায় এ ভিসাগুলোর সঠিকতা যাচাই করা দুরূহ। তাই লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস ঢাকাস্থ লিবিয়ান দূতাবাস কর্তৃক ভিসা ইস্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে বহির্গমন অনুমতি প্রদানের বিষয়টি বিবেচনার জন্য বলেছে। ওদিকে গত ২২শে মে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে নামার পরপরই সব বাংলাদেশী কর্মীদের ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক রাখা হয়। এ সংবাদ পেয়েই লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং-এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছুটে যান। লিবিয়ার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশী কর্মীরা জাল ভিসায় লিবিয়ায় এসেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় লিবিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ৪০ জনের ভিসা জাল শনাক্ত করে ফিরতি ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে। তবে ১৫ জনের ভিসা সঠিক পেয়ে তাদের লিবিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং-এর কর্মকর্তারা এ সময় ভিসাগুলো প্রয়োজনে ঢাকার লিবিয়া দূতাবাস হতে যাচাই করার অনুরোধ করেন। এ অনুরোধের প্রেক্ষিতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি লিবিয়ান উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন। তখন প্রথম সচিব (শ্রম) আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকী কমিশনের প্রধান আ’লা আল-শাইবানি-র সঙ্গে তার অফিসে বৈঠক করেন। বৈঠকে কমিশনের প্রধান জানান, প্রাথমিকভাবে সকল ভিসাই জাল বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সকল কর্মীকে ফেরত পাঠানো হবে। দ্বিতীয় দফা বৈঠকেও কমিশন জানিয়ে দেয়, প্রাথমিক তদন্তে বাংলাদেশী কর্মীদের ভিসাসমূহ জাল বলে শনাক্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের ফেরত পাঠানোর বিকল্প নেই। বিষয়টি সম্পর্কে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বলছে, তাদের অভিযোগ আদৌ সত্য নয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিধ্বস্ত লিবিয়াতে যুদ্ধ থামার পর এ পর্যন্ত আড়াই হাজার বাংলাদেশী উন্নয়নসহ বিভিন্ন কাজ করার জন্য গিয়েছেন। এখন নানা ছুতোয় তাদের প্রবেশে বাধা দিতে নানা কাহিনীর সৃষ্টি করা হচ্ছে। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, বাংলাদেশীদের অনুকূলে ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করছে লিবিয়া সরকার। তাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশী কর্মীদের লিবিয়ায় প্রবেশকালে ভিসা ও নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র লিবিয়ান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করা হতে পারে। এ বিষয়ে এখনই সতর্ক হতে বলেছে লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস।

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে